শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা সমাজের মৌলিক দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা সমাজের মৌলিক দায়িত্ব

প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা যেকোনো সভ্য সমাজের জন্য একটি মৌলিক দায়িত্ব। যা তাদের শেষ বয়সে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রবীণ ব্যক্তিরা প্রায়ই পরিবার ও সমাজে অবহেলা বা নির্যাতনের শিকার হন। তাদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সমাজে প্রবীণরা প্রায়শই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, আর্থিক শোষণ এবং চরম অবহেলার শিকার হন। দেশের প্রবীণরা প্রধানত চার ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হন। মানসিক নির্যাতন : তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং অবজ্ঞার চোখে দেখা। অবহেলার শিকার : সঠিক যতœ, পুষ্টি এবং পারিবারিক সাহচর্যের অভাব। আর্থিক নির্যাতন : সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়া বা তাদের জমানো অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। শারীরিক নির্যাতন : বয়োবৃদ্ধ বয়সেও শারীরিক আঘাত বা নির্যাতনের শিকার হওয়া।

প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা কোনো করুণা বা দাক্ষিণ্য নয়, বরং এটি সমাজের একটি মৌলিক এবং নৈতিক দায়িত্ব। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রবীণরা যেন অবহেলা, নিপিড়ন বা বৈষম্যের শিকার না হন এবং মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েরই কর্তব্য। বাংলাদেশের সংবিধানে এবং জাতীয় নীতিমালায় প্রবীণদের এই অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে প্রবীণদের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন আইন, নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা রয়েছে। প্রবীণদের সুরক্ষিত রাখা কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটি তাদের মৌলিক মানবাধিকার। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের প্রবীণ, এই সত্যটি মাথায় রেখে এখনই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

প্রবীণদের জন্য আয়ের বয়সসীমা দিয়ে মর্যাদা নির্ধারণ না করে সার্বজনীন সামাজিক পেনশন চালু করা। বয়স্ক ভাতার পরিমাণ ও পরিধি আরও বৃদ্ধি করা। হাসপাতালগুলোতে প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সরকারিভাবে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে জরুরি ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা দেওয়া।

প্রতি বছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়। ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রবীণদের সুরক্ষা, অধিকার নিশ্চিত করা এবং বার্ধক্যের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার নিয়ে গণসচেতনতা তৈরি করা।

প্রবীণদের আইনি সুরক্ষা দিতে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং যেকোনো ধরণের সহিংসতা বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এবং ২০২৩ সালের বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ এবং সময়ের প্রয়োজনে এর সংশোধন নিশ্চিত করা। সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রবীণদের আজীবন ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা।

প্রবীণদের প্রধান চাহিদা হলো মানসিকভাবে ভালো থাকা। পরিবারে তাদের অবহেলা বা হেয় না করে নিয়মিত সময় দেওয়া ও সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের চর্চা বাড়ানো। তাঁদের ঘরের বোঝা না ভেবে অভিজ্ঞতার পথপ্রদর্শক হিসেবে মূল্যায়ন করা। টেলিভিশন, রেডিও ও সংবাদপত্রে প্রবীণদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের অবহেলার কুফল নিয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালানো।

প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা প্রতিটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক ও মৌলিক দায়িত্ব। সমাজে বয়সের বৈষম্য রোধ করতে এবং প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। প্রবীণদের সুরক্ষিত রাখা মানে আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎকেই সুরক্ষিত করা। কারণ আজকের নবীনই আগামী দিনের প্রবীণ।

প্রবীণদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালার পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রবীণদের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করতে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং প্রতিটি পরিবারে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

যশোর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কারের তিন বছরেই খানা-খন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
যশোর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কারের তিন বছরেই খানা-খন্দ

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজ তিন বছর যেতে না যেতেই কেশবপুর শহরের প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের সিসি ঢালাই বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গেচুরে ছোট বড় শতাধিক গর্তে পরিণত হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারক করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য মোংলা ও ভোমরা স্থল বন্দরের সাথে সহজ যোগাযোগের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছে।

বিগত সরকারের শেষের দিকে ১শ ৬৬ কোটি টাকা ব্যায়ে সড়কের সংস্কার কাজ করা হয়। সংস্কারের ৩ বছর যেতেই ৩৮ কিলোমিটার সড়কে বিভিন্ন অংশে ৬ ইঞ্চি থেকে ৮/১০ ইঞ্চি গর্ত হওয়ায় মারাত্মক ঝুকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে গত বর্ষা মৌসুমে অবস্থা আরো খারাপ হয়। এরফলে কেশবপুর এবং মনিরামপুর পৌরশহরের মধ্যে ও কেশবপুর থেকে চুকনগরমুখি সড়কে বড় বড় গর্ত ভারি যান চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

যশোরের রাজারহাট খেকে খুলনার চুকনগর পর্যন্ত ৩৮কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজের বিটুমিন উঠে গর্ত হয়ে পানি জমে অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কেশবপুর ও মনিরামপুর পৌর শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া অংশের অবস্থা সব থেকে খারাপ। কংক্রিট এর ঢালাই উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ জরুরী মেরামত করলেও কদিন না যেতেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।

এছাড়া সড়কটিতে নেই পর্যাপ্ত গাইড ওয়াল বা রাস্তার সীমানা মার্কিং রঙ্গিন খুঁটি। যার ফলে প্রতিনিয়ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সড়কটিকে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর যশোরের প্রধান প্রকৌশলী (চঃ দাঃ) শাম্মী সুলতানা বলেন, সম্প্রতি ৩৮কিঃ সড়ক পরিদর্শনের পর দ্রুত স্বল্প মেয়াদী সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়ছে। আগামী ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার সম্পান্ন হলে সংস্কার কাজ শুরু হবে।

 

আগরদাঁড়ী মাদ্রাসা ছাত্রশিবিরের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
আগরদাঁড়ী মাদ্রাসা ছাত্রশিবিরের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

‎মাসুদ রানা: ‎বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার অন্তর্গত আগরদাঁড়ী মাদ্রাসা থানা শাখার উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৭:৩০ মিনিটে আগরদাঁড়ী বল ফিল্ডে আগরদাঁড়ী মাদ্রাসা থানা শাখার সভাপতি মোঃ মহিবুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মারুফ হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সমাজসেবা সম্পাদক হাফেজ এবাদুল ইসলাম।

‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ ইউনুস আলী ছোটন।

‎উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি হাফেজ এবাদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শারীরিক সুস্থতা ও মেধা বিকাশের বিকল্প নেই। মাদক ও অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্রের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইসলামী ছাত্রশিবির সর্বদা এ ধরনের গঠনমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।”

‎উক্ত খেলায় আগরদাঁড়ী মাদ্রাসা থানা শাখার বিভিন্ন জনশক্তি সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেয়। খেলা দেখতে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের উপস্থিতি মাঠে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি করে

মুক্তমত/ দলের ঊর্ধ্বে দেশ: পদ নয় অপরাধের লাইসেন্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
মুক্তমত/ দলের ঊর্ধ্বে দেশ: পদ নয় অপরাধের লাইসেন্স

এম.এম হায়দার আলী

রাজনীতিতে ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা যায়। পদ আসে, পদও একদিন চলে যায়। কিন্তু মানুষের কাছে একটি রাজনৈতিক দলের যে দায়, তার মেয়াদ কোনো নির্বাচনী সময় সূচিতে বাঁধা নয়। সেই দায়ের নাম জবাবদিহি। আর সেই জবাবদিহি যখন নিজের দলের মানুষটির ক্ষেত্রেও সমান ভাবে কার্যকর হয়, তখন রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটি কিছুটা হলেও শক্ত হয়।

 

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত তদন্তও চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং গত ১ অক্টোবর তার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা সামনে এনেছে।

 

বার্তাটি হলো, দলের পরিচয় কারও জন্য দায়মুক্তির ঢাল হতে পারে না। এখানেই রাজনীতির আসল পরীক্ষা। কারণ নিজের দলের মানুষকে শাসন করা সহজ নয়। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক সুবিধা থাকে, কিন্তু নিজের দলের জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মানে নিজের ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে নিজের ঘরকেই প্রশ্ন করা। সেই জায়গায় নেতৃত্বের দৃঢ়তা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও একটি পরীক্ষা। রাড্ডার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিষয়টিই সামনে আসেনি।

 

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের কথাও এসেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইন। কিন্তু সাংগঠনিক পর্যায়ে যে বার্তা সামনে এসেছে, সেটি স্পষ্ট, পদ-পদবি মানেই অপরাধের লাইসেন্স নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই বার্তাটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে মানুষের দূরত্ব তৈরি হয় তখনই, যখন দলের নাম ব্যবহার করে কেউ সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।

 

চাঁদাবাজি, দখল, ভয়ভীতি, নৈরাজ্য কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যখন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে চাপা পড়ে যায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একজন ব্যক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি। একজন কর্মীর অন্যায়ের দায় অবশ্যই পুরো দলের ওপর চাপানো যায় না। কিন্তু দলের নাম, পদ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে দল যদি দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যায়, অন্যায় করলে পরিচয় রক্ষা করবে না। এখানে আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা জরুরি। অভিযোগ উঠলেই কেউ অপরাধী হয়ে যান না।

 

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণা কিংবা সংবাদে প্রকাশিত কোনো তথ্য, কোনোটিই আদালতের রায়ের বিকল্প নয়। তদন্তের নিরপেক্ষতা, প্রমাণের মূল্য এবং আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই শেষ কথা। কিন্তু একই সঙ্গে অভিযোগ উঠলে তদন্ত না করে বসে থাকাও সমাধান নয়। অভিযোগের তদন্ত হবে, সত্য-মিথ্যা যাচাই হবে, প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা হবে, এই তিনটি ধাপই একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। আজ দেশের মানুষ রাজনীতির কাছে শুধু বড় বড় প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা দেখতে চায় বাস্তব আচরণ। তারা দেখতে চায়, ক্ষমতায় থাকা মানুষটির জন্য যে আইন, সাধারণ মানুষের জন্যও সেই আইন। তারা দেখতে চায়, দলের পতাকা কারও অন্যায়ের আড়াল নয়। রাজনীতির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই, ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না; মানুষের প্রতি দায়িত্বই একজন রাজনীতিককে বড় করে।

 

যে নেতা নিজের দলের অন্যায়কে অন্যায় বলতে পারেন, তার কাছেই সাধারণ মানুষ জবাবদিহির আশা করতে পারে। আর যে সংগঠন নিজের ঘরের অনিয়মকে আড়াল না করে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি করে, সেই সংগঠনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়। আজ যদি দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো সাধারণ মানুষের জমি দখল করে, কাল কেউ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে, অন্য কেউ ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সরকারি সম্পদে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারণ রাজনৈতিক দল জনগণের জন্য, জনগণ কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

 

ক্ষমতার রাজনীতিতে সবচেয়ে ভয়ংকর শব্দ ছাড়। একবার ছাড় দেওয়া হলে দ্বিতীয়বার অন্যায় করার সাহস বাড়ে। তৃতীয়বার সেটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। আর এক সময় মানুষ ধরে নেয়, রাজনীতির ছায়ায় থাকলে আইনকে পাশ কাটানো যায়। এই ধারণাটিই ভাঙতে হবে। প্রয়োজনে নিজের দলের এমপি, চেয়ারম্যান, নেতা কিংবা কর্মী, যেই হোক, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হতে হবে। সত্য প্রমাণিত হলে আইন ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকেও সম্মানের সঙ্গে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এটাই ন্যায়বিচারের সৌন্দর্য। একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি শুধু তার জনসমর্থনে নয়; তার আত্মশুদ্ধির ক্ষমতার মধ্যেও। ভুল হলে ভুল স্বীকার করা, অন্যায় হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিজের মানুষকেও জবাবদিহির আওতায় আনা, এসবই রাজনৈতিক পরিপক্বতার লক্ষণ।

 

আজ দেশের মানুষ এমন রাজনীতি দেখতে চায়, যেখানে দল ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, মানুষের সেবার প্রতিষ্ঠান; যেখানে পদ মর্যাদার অলংকার নয়, দায়িত্বের প্রতীক; যেখানে দলীয় পরিচয় নিরাপত্তার দেয়াল নয়, বরং আরও বড় জবাবদিহির কারণ। তারেক রহমানের নির্দেশে একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ এবং রাড্ডার ঘটনাকে ঘিরে সাংগঠনিক ব্যবস্থাগুলো সেই বৃহত্তর আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের আইনগত ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন অবশ্যই সময় ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। তবে নীতিগত ভাবে একটি কথা পরিষ্কার, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের ওপরে কোনো দল, কোনো পদ, কোনো ব্যক্তি থাকতে পারে না। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার চেয়ারটি কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

 

আজ যে চেয়ারকে ঘিরে এত আলো, কাল সেখানে অন্য কেউ বসবেন। কিন্তু মানুষের মনে একজন রাজনীতিকের যে পরিচয়টি থেকে যায়, তা হলো, তিনি ক্ষমতার সময়ে কেমন আচরণ করেছিলেন। তাই সময়ের দাবি একটাই, দলের আগে দেশ, পদের আগে দায়িত্ব, পরিচয়ের আগে আইন। রাজনীতির এই তিনটি শব্দ যদি বাস্তবে প্রতিষ্ঠা পায়, তবে ক্ষমতার চেহারা বদলাবে না শুধু, বদলাবে মানুষের রাজনীতির প্রতি আস্থার ভাষাটাও। সর্বোপরি, প্রধানমন্ত্রীর এমন মহতী ও জনকল্যাণ মুখী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। মানুষের কল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। রাষ্ট্রের নেতৃত্ব যখন মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তখন তা শুধু একটি সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা হয়ে ওঠে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এমন জনবান্ধব উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট