শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবীণদের হালচাল: রাষ্ট্রের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
প্রবীণদের হালচাল: রাষ্ট্রের করণীয়

মো. ফজলুর রহমান

মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার অভিজ্ঞতা। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা কিছুটা শিথিল হলেও জীবনের দীর্ঘ অভিযাত্রা, অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর মূল্যবোধের মহিমা বিন্দুমাত্র কমে না। বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং শিকড়কে টিকিয়ে রাখতে প্রবীণদের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ নির্মম বাস্তবতা হলো, জীবনের সোনালি দিনগুলো যে প্রবীণরা উৎসর্গ করেছেন অনাবিল সেবায়, বার্ধক্যে এসে তারাই মুখোমুখি হন নানামুখী সংকট ও অনিশ্চয়তার। আর্থিক অনটন, নিঃসঙ্গতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, পারিবারিক অবহেলা আর সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা তাদের জীবনকে করে তোলে বিষাদময়।

বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গড় আয়ু বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসার প্রসার ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ জুড়ে এখন প্রবীণরা। ফলে বিষয়টি এখন আর কেবল পারিবারিক দায়িত্বের গ-িতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্তে। একটি রাষ্ট্র কতটা মানবিক ও সুশাসিত, তা পরিমাপের অন্যতম মাপকাঠি হলো প্রবীণদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করার সক্ষমতা।

প্রবীণ জীবনের অন্যতম প্রধান সংকট অর্থনৈতিক অসংগতি। কর্মজীবন শেষে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেলে অধিকাংশ প্রবীণকে সন্তান বা স্বজনদের মুখাপেক্ষী হতে হয়। সরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশ পেনশন সুবিধা পেলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ, যারা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেছেন, তাদের কোনো অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা থাকে না। বার্ধক্যের ভার সামলে জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটাতে অনেককেই শেষ বয়সেও কঠোর পরিশ্রমে বাধ্য হতে হয়। এটি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রবীণদের ভাতা প্রদান একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রকৃত অভাবগ্রস্ত প্রবীণদের অন্তর্ভূক্তি, সহজ প্রাপ্তি এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করা জরুরি। প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল সেবার আওতায় প্রবীণদের আনা হলেও, প্রযুক্তিগত অজ্ঞতার কারণে কোনো প্রবীণ যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দৃষ্টিহীনতা, মানসিক অবসাদ ও দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ প্রবীণদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। অথচ আমাদের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রবীণবান্ধব বিশেষ সেবার ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটা, দূরবর্তী হাসপাতালে যাতায়াত এবং চড়া দামের ওষুধ কেনা বহু সাধারণ পরিবারের জন্য অসম্ভব বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলা হাসপাতালে প্রবীণদের জন্য পৃথক সেবা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ফিজিওথেরাপি ও মানসিক চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে হবে। সম্ভব হলে অসহায় প্রবীণদের জন্য হোম-সেবা বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা দরকার।

শারীরিক অসুস্থতার চেয়েও প্রবীণদের বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খায় মানসিক একাকিত্ব। অবসর গ্রহণের পর সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা কমে যাওয়া, একক পরিবারের প্রবণতা বৃদ্ধি এবং প্রিয়জনদের অনুপস্থিতি তাদের গভীর হতাশায় নিমজ্জিত করে। এই একাকিত্ব দূর করতে প্রতিটি সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগে প্রবীণদের সম্পৃক্ত করা উচিত। কমিউনিটি সেন্টার, পাঠচক্র, সামাজিক সংগঠন ও বিনোদনমূলক কর্মকা-ের সুযোগ বাড়ানো হলে তাদের জীবনের গতি ফিরতে পারে।

পরিবারই প্রবীণদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটায় অনেক প্রবীণ অবহেলা, মানসিক যন্ত্রণা, এমনকি আর্থিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। প্রবীণ নারীদের অবস্থা আরও করুণ; সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অজ্ঞতা এবং সামাজিক ও আর্থিক নির্ভরশীলতা তাদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে। প্রবীণদের আইনি সুরক্ষা প্রদানের পাশাপাশি সমাজে প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা আবশ্যক। এছাড়া ফুটপাত দখল মুক্ত করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে প্রবীণবান্ধব করা এবং নিরাপদ পথচারী চলাচলের সুবিধা প্রদান করা নগরায়নের অন্যতম অংশ হওয়া উচিত।

প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে স্রেফ স্মৃতির খাতায় জমা না রেখে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রবীণ শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, গবেষক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রজন্মের দিকনির্দেশনায় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পরামর্শক প্যানেলে কাজে লাগানো হলে দেশ ও সমাজ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

আজকের কর্মক্ষম যুবকই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই প্রবীণদের কল্যাণ সুনিশ্চিত করার অর্থ হলো নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা। রাষ্ট্র ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে যেন প্রবীণরা সমাজের বোঝা না হয়ে প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার সুবাস ছড়িয়ে মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে পারেন।

লেখক: মো. ফজলুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক, আজীবন সদস্য, সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা

Ads small one

দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা দিনো মোরিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা দিনো মোরিয়া

মুম্বাইয়ের মিঠী নদীর পলি অপসারণ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বলিউড অভিনেতা দিনো মোরিয়া। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (ইকোনমিক অফেন্সেস উইং) অভিনেতাকে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বান্দ্রার বাসভবনে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মামলাটি মুম্বাইয়ের মিঠি নদীর পলি অপসারণ ও পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের বিভিন্ন চুক্তিতে কথিত আর্থিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে। তদন্তকারীরা ঠিকাদার, মধ্যস্থতাকারী ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের কথিত ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। এ ঘটনায় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (BMC) প্রায় ৬৫ দশমিক ৫৪ কোটি রুপি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে এই মামলায় মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে অভিনেতা ও তার ভাই স্যান্টিনো মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মোরিয়াকে গ্রেফতারের পর বলিপাড়ায় জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং মিঠি নদী কাণ্ডে আর কোন কোন প্রভাবশালী নাম জড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রাজ’ সিনেমা দিয়ে পরিচিতি পান দিনো মোরিয়া। বিপাসা বসুর সঙ্গে তার রসায়ন দর্শক মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর এই অভিনেতাকে দেখা যায় ‘আকসার’, ‘পেয়ার মে কাভি কাভি’, ‘গুনাহ’, ‘নিউ ইয়ার’সহ বেশ কিছু সিনেমায়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে বিমানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
শাহজালাল বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় তিনি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সেখানে লাগেজের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি যাত্রীদের কাছে বিমান থেকে নামার পর লাগেজ গ্রহণে কত সময় লাগছে এবং লাগেজ ডেলিভারি কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে চান।

যাত্রীরা মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ডেলিভারি ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ পাওয়ার বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এছাড়া দ্রুত ট্রলির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
কেন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান চান যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র উভয়পক্ষই এমন দাবি করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ ক্রমশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আলোচনায় অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে সময়ের ভিন্ন ধারণা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য এবং গভীর অবিশ্বাস।

গত ১৮ মাসে দুই দফা ব্যর্থ আলোচনা যুদ্ধের দিকে গড়িয়েছে। জুনের সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এবং আবারও উত্তেজনা বাড়ে। বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও যদি অচলাবস্থায় শেষ হয় তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ব্যর্থতার একটি কারণ হলো, দুইপক্ষ আলোচনার সময়সীমাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখে।

কার্নেগি এনডাওমেন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক করিম সাজাদপুরের মতে, ট্রাম্প দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। আলোচনা ধীরগতির হলে তিনি অধৈর্য ও হতাশ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে ইরানের আলোচনার ধরন অনেক ধীর এবং তারা সময়ক্ষেপণকে কৌশল হিসেবে দেখে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ইরান এটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অবাস্তব সময়সীমা হিসেবে দেখেছিল। ইরানি কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, ট্রাম্প ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে বাস্তবে এতটা কঠোর ছিলেন না।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির আলোচনাও প্রায় তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল। এত অল্প সময়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য ছিল বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে আলোচিত বড় ধরনের চুক্তি পছন্দ করেন। তার লক্ষ্য এমন একটি চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।

অন্যদিকে ইরান অপেক্ষাকৃত সীমিত ও লেনদেনভিত্তিক চুক্তি চায়। তারা সরাসরি আলোচনার বদলে পরোক্ষ আলোচনা কিংবা যতটা সম্ভব কম প্রচারের মধ্যে সমঝোতা করতে আগ্রহী। করিম সাজাদপুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের চুক্তি সম্পাদনকারী হিসেবে দেখে। বিপরীতে ইরানের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আপসকারীর ধারণাটিকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়।

তার মতে, ইরানের নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে কখনোই আগ্রহী ছিলেন না। সরাসরি আলোচনা হলে পরিস্থিতির ফল ভিন্ন হতে পারত বলেও তিনি মনে করেন। দুই দেশের আলোচনায় সবচেয়ে মৌলিক বাধা হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরানের দাবি, আলোচনার মাঝখানে দুইবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আসলে আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি আড়াল করার একটি কৌশল হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জুন ২০২৬-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কয়েক দিন পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরানই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি এবং সরকারের ভেতরের কট্টরপন্থিরা কোনও চুক্তি মেনে চলবে কিনা, তা নিশ্চিত করা কঠিন।

আলোচনাকে ঘিরে দুই দেশেই রয়েছে তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ। ইরানের আলোচনাকারী দল এবং সরকারের ভেতরের চুক্তি-সমর্থকরা দেশে নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়ছেন। এতে আলোচনার টেবিলে তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প ও তার আলোচনাকারীরাও ডানপন্থীদের কাছ থেকে চুক্তি না করার চাপ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বামপন্থীদের সমালোচনার মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে এমন কোনও চুক্তি হলে, যা যুদ্ধের আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনে অথবা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো হয়। এই রাজনৈতিক সমালোচনার কারণে গত ১৮ মাসে ট্রাম্প কয়েকবার তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে রয়েছেন। তবে ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি সংশয়ী বলে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, তা তার কাছে যথেষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করছেন বলে জানান।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরান কখনও সংলাপ থেকে পালায়নি এবং ভবিষ্যতেও পালাবে না। তবে জুনের সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও যুক্তরাষ্ট্র তিনবার ইরানে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইরানকে নতজানু করার ধারণা যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিতে হবে।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির বুশ স্কুল অব গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক সার্ভিসের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহি তাবার ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ সাময়িকীতে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান ক্রমাগত উত্তেজনা বৃদ্ধি ও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করছে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস