ফলন ভালো হলেও আমের দামে হতাশ সাতক্ষীরার চাষিরা
জি এম আমিনুল হক: চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও আমের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন সাতক্ষীরার আমচাষিরা। বর্তমানে আমের ভরা মৌসুম চলায় জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সুলতানপুর বড় বাজারে বিশ্ববিখ্যাত হিমসাগরসহ নানা জাতের আমের ঢল নেমেছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার অজুহাতে পাইকারেরা কম দাম হাঁকায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে বাগানমালিক ও চাষিদের।
শুক্রবার সকালে সুলতানপুর বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যোদয়ের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শত শত আম বোঝাই যানবাহন বাজারে আসছে। বিখ্যাত হিমসাগর আমের রাজত্বে বাজারে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হিমসাগরের পাশাপাশি গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় বিভিন্ন সুস্বাদু জাতের আমের ব্যাপক সমারোহ দেখা যাচ্ছে। এখান থেকে আম কিনে রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় পাইকারি বাজারে চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পেলেও অনলাইন ও মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অনলাইন ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি আম কুরিয়ার চার্জ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ ১২৫ টাকায় বিক্রি করছেন। সেই হিসাবে অনলাইনে প্রতি মণ আমের দাম পড়ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।
আমের ভরা মৌসুমে বড় বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ আম সরবরাহের কারণে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। রোদে পোড়া অস্বস্তিকর গরমের মধ্যে পুরো বাজার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুলতানপুর বড় বাজারের পরিবর্তে অন্য কোনো প্রশস্ত জায়গায় আমের অস্থায়ী হাট বসানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, ৫ মে থেকে স্থানীয় জাতের আম ভাঙা শুরু হয়েছে এবং ১৫ মে থেকে বাজারে রাজত্ব করছে হিমসাগর। আমে কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক রোধে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।





