শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফলন ভালো হলেও আমের দামে হতাশ সাতক্ষীরার চাষিরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
ফলন ভালো হলেও আমের দামে হতাশ সাতক্ষীরার চাষিরা

জি এম আমিনুল হক: চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও আমের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন সাতক্ষীরার আমচাষিরা। বর্তমানে আমের ভরা মৌসুম চলায় জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সুলতানপুর বড় বাজারে বিশ্ববিখ্যাত হিমসাগরসহ নানা জাতের আমের ঢল নেমেছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার অজুহাতে পাইকারেরা কম দাম হাঁকায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে বাগানমালিক ও চাষিদের।

শুক্রবার সকালে সুলতানপুর বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যোদয়ের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শত শত আম বোঝাই যানবাহন বাজারে আসছে। বিখ্যাত হিমসাগর আমের রাজত্বে বাজারে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হিমসাগরের পাশাপাশি গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় বিভিন্ন সুস্বাদু জাতের আমের ব্যাপক সমারোহ দেখা যাচ্ছে। এখান থেকে আম কিনে রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় পাইকারি বাজারে চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পেলেও অনলাইন ও মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অনলাইন ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি আম কুরিয়ার চার্জ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ ১২৫ টাকায় বিক্রি করছেন। সেই হিসাবে অনলাইনে প্রতি মণ আমের দাম পড়ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

আমের ভরা মৌসুমে বড় বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ আম সরবরাহের কারণে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। রোদে পোড়া অস্বস্তিকর গরমের মধ্যে পুরো বাজার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুলতানপুর বড় বাজারের পরিবর্তে অন্য কোনো প্রশস্ত জায়গায় আমের অস্থায়ী হাট বসানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, ৫ মে থেকে স্থানীয় জাতের আম ভাঙা শুরু হয়েছে এবং ১৫ মে থেকে বাজারে রাজত্ব করছে হিমসাগর। আমে কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক রোধে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

Ads small one

না-এ কোনও ইতিহাস নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
না-এ কোনও ইতিহাস নয়

মারিয়া নূর
কয়েক মিলিয়ন কষ্টের বরাদ্দ নেওয়া ছিলো
আগেই, অনেক আগেই।
এখন আর বাড়তি দেনার দায় নেই ভাগ্যলিপিতে।
সুখেরা তো বরাবরই মুখচোরা
তাই আর ঘাঁটাতে চাইনি ওদের নতুন করে।

ফিরে যাওয়া বসন্তের আক্ষেপ পত্রে
অভিযোগ ছিলো – অপয়া মুখদর্শনের।
এখন দফায় দফায় হাজিরা চলে
জজকোর্ট থেকে হাইকোর্টের বারান্দায়।

সানগ্লাসটা ছোট হতে হতে
এখন মোটা ফ্রেমের চশমায় পরিনত।
চোখের নিচে বয়সের পাটিগণিত।
নামতা ভুলে গেছি সেই কবে;
উপপাদ্য বা সম্পাদ্য যাই বলো
সকল সুত্রের কারসাজিতে এখন
চোখ রাঙানি দেখি ভীষণ রকম।

যারা একসময় স্বপ্নের পরিচয়ে
চোখের সমুদ্রে খেলতো গোল্লাছুট;
বৃদ্ধ বটের নুয়ে পড়া তর্জনী আঁকড়ে
ওরাও ঝুলে থাকে অলস দুপুরে।

এখন আর দিবাকরের হৃদপি-ে কামড় দিয়ে
রোদ চুরি করে না কেউ।

না – এ কোনও ইতিহাস নয়;
রবীঠাকুরের ছোট গল্প? না তাও না।
এ হলো সেই চমকপ্রদ উপন্যাস
যার বিশেষ ক’টা পৃষ্ঠা অলক্ষেই অন্তর্ধান।

নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

বাবুল চৌধুরী
খোলা চুলে বাইরে এসো না এই ঘোর পূর্ণিমা-রাতে
সনাতন চাঁদ আকাশে সওয়ার চাঁদের জোয়ার, তাই
জোছনায় আহত হতে পারো আমিও চন্দ্রগ্রস্থ বলে
এক শ’ বছর পেছনে তাকাই অথবা তারও বেশি
সময়ের উল্টো স্রোতে, তোমার মুখে দেখি দীঘল
ফসলের মাঠ, চুলে খরতর নদী, ও শাড়ির জমিনে
জড়ানো স্থির অথবা অনেক উড়ন্ত ফিঙের ডানা,
আঁচলে আদরে আগলে রেখেছ নাকি ধান স্বর্ণালী!
আরেক মানবীর মতো তখন তুমি, যে মুখ বহু বছর
আগে দেখেছি – সে ছন্দে নাচে, উঠোনে হেসে যায়

এখনি ঢেঁকির শব্দ উঠবে, ঢেঁকিতে পড়ছে তার পা
স্বপ্নের ভেতর তার ছন্দিত পা দেখি, ধান ভাঙা হলে
এখনই দেবে সে নবান্নের ডাক, এখন চাঁদের মতো
সব থালা ভরবে নতুন খাদ্য-কণায়, নিরন্ন লোকালয়

নবান্নের সাড়া পেয়ে যায়, আকাশে চাঁদের জোয়ার –
এ নবান্নে নিমগ্ন আমি – খোলাচুলে বাইরে এসো না

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।