সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে হাল ফ্যাশন ও এনেক্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে হাল ফ্যাশন ও এনেক্স

দেশের ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও গণমাধ্যম খাতে সৃজনশীল উদ্যোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের আয়োজনের লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বে যুক্ত হয়েছে হাল ফ্যাশন ও বিজ্ঞাপনী সংস্থা এনেক্স কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশজুড়ে কার্যক্রম ও কনটেন্টের পরিসর বাড়ানো, বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যাশনের পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি, স্বাস্থ্য, ত্বকের যত্ন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, গৃহসজ্জা, পোষা প্রাণী এবং জলবায়ু ও উদ্ভিদ পরিচর্যার মতো বিষয়েও কনটেন্ট তৈরি করবে প্রতিষ্ঠান দুটি।

চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন শো, বড় আয়োজন, রিয়েলিটি শো, বিষয়ভিত্তিক পডকাস্ট, বিশেষ অনুষ্ঠান, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ম্যাগাজিন প্রকাশনায় যৌথভাবে কাজ করবে তারা। পাশাপাশি নতুন প্রতিভা বিকাশ, তরুণদের সৃজনশীল অংশগ্রহণ এবং দেশি-বিদেশি সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

চুক্তিতে এনেক্স কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের পক্ষে পরিচালক শরীফ সাব্বির এবং হাল ফ্যাশনের পক্ষে পরামর্শক এস কে সাইফুর রহমান স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সৃজনশীল যোগাযোগ, আকর্ষণীয় কনটেন্ট ও বড় পরিসরের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতের বিকাশে এ অংশীদারত্ব ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

Ads small one

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: সম্ভাবনার অপেক্ষায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: সম্ভাবনার অপেক্ষায়

শ্যামল শীল

সাতক্ষীরার উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার নাম সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হলেও এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে জেলার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশার পাশাপাশি অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে সাতক্ষীরা ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হলে তরুণেরা আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আবাসন, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।

সাতক্ষীরার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। সুন্দরবন সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় লবণাক্ততা, নিরাপদ পানির সংকট, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন নিয়ে গবেষণা স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর সুফল পেতে গবেষণার সঙ্গে স্থানীয় কৃষক, মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ গড়ে তোলা জরুরি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন যোগ্য উপাচার্য নিয়োগ, দক্ষ শিক্ষক ও গবেষক নিশ্চিত করা, আধুনিক গবেষণাগার, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসন। একই সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি কেবল সনদ প্রদানকারী নয়, জ্ঞান ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেবে এবং অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানাবে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জেলার টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এখন সময় আইনি ভিত্তিকে কার্যকর শিক্ষাকার্যক্রমে রূপ দেওয়ার। লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

স্ত্রী-মেয়ে কবর খুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধার দাফনের ঘটনা তদন্তে কমিটি হবে: মন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
স্ত্রী-মেয়ে কবর খুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধার দাফনের ঘটনা তদন্তে কমিটি হবে: মন্ত্রী

পিরোজপুরে স্ত্রী ও মেয়ে কবর খুঁড়ে এক মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আহমেদ আযম খান বলেন, “আমি আমার দফতরে গিয়ে আজই খোঁজ নেবো। পিরোজপুরে আমাদের যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলবো। এ ধরনের ঘটনা তদন্তে কমিটি করবো এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।”

তিনি বলেন, “মনে রাখতে হবে দেশটা স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এখানে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না।”

একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণের বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে যথাযথভাবে জানানো হয়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বিষয়টি জানানো হলে মন্ত্রণালয় আগেই তা নজরে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারতো।”

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে কিছু মানুষ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। সেই শক্তি এখনও দেশে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তারা বিভিন্ন কৌশলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে এবং সুযোগ পেলে মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে বিভিন্ন আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আহমেদ আযম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যেকোনও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

ঘরের একপাশ ভেঙে স্বামীকে দাফন, অন্য পাশে থাকবেন স্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
ঘরের একপাশ ভেঙে স্বামীকে দাফন, অন্য পাশে থাকবেন স্ত্রী

শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিজের জমি না থাকায় আব্দুল করিম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ বসতঘরের একপাশ ভেঙে সেখানে দাফন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার তাতীহাটি ইউনিয়নের শালমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল করিম শালমারা গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে।

স্বজনরা জানান, গতকাল রবিবার বিকালে মারা যান আব্দুল করিম। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এখন ওই ঘরের এক পাশে তার কবর, অন্য পাশে বসবাস করছেন স্ত্রী সাজেদা খাতুন (৫৫)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল করিমের বসতভিটা ছাড়া কোনও জায়গাজমি নেই। শালমারা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান ছাড়া কোনও গণকবরস্থানও নেই। যার কারণে যাদের পরিবারের পারিবারিক কবরস্থান নেই তারা ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়ছেন। কেউ কেউ বাড়ির আঙিনায়, বসতবাড়ির সামনে, বসতঘরের পাশে মরদেহ দাফন করে থাকেন। আব্দুল করিমের বসতঘরের জায়গা ছাড়া আর কোনও জমি না থাকায় বসতঘরেই তাকে দাফন করতে হয়েছে।

এ বিষয়ে শালমারা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজকে শালামারা গ্রামে একটি গণকবরস্থানের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। কেউ এগিয়ে না আসায় আজ আব্দুল করিমকে তার ঘরেই দাফন করা হলো। বিষয়টি খুবই দুঃজনক ও লজ্জার।’

আব্দুল করিমের মেয়ে করফুলি ও রিক্তা পারভীন জানান, তাদের বসতঘরের জমি ছাড়া আর কোনও জমি নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাবাকে ঘরেই দাফন করলেন তারা। তবে আর কোনও স্বজনকে বা এলাকার অন্য কাউকে যে ঘরে দাফন করতে না হয়, সেজন্য এলাকায় একটি গণকবরস্থান তৈরির দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাতীহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, ‘শালামারা এলাকায় কোনও গণকবরস্থান নেই। বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। আজ আব্দুর করিমের দাফনের পর বিষয়টি শুনে খারাপ লাগলো। মঙ্গলবার তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পাশেই ষাইটকাকড়া গণকবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা আহমেদ বলেন, ‘বসতঘরের একপাশ ভেঙে বৃদ্ধের মরদেহ দাফনের কথা শুনেছি। এখন তাকে অন্য স্থানে দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।’