বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে পাইকগাছার জেলে পল্লীতে ব্যাপক প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে পাইকগাছার জেলে পল্লীতে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য পাইকগাছার জেলে পল্লীগুলোতে এখন ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। দিন রাত কাজ আর ব্যস্ততায় মালোপাড়ায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নতুন ট্রলার তৈরি এবং পুরাতন ট্রলার মেরামত, জাল বুনা ও জাল শুকানোর কাজের ধুম পড়ে গেছে। জেলে পল্লীর নারী-পুরুষ ও শ্রমিকরা সুন্দরবনের দুবলার চরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গোছাতে কর্মব্যস্ত দিন কাঁটাচ্ছে।

মহাজনের চড়াসুদে ও দাদনে টাকা নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিতে আশা-হতাশায় সাগর যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলেরা।

মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে তারা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সাগরে ধরা মাছ বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে জেলেরা জানায়।
পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া, হিতামপুর, মাহমুদকাটী, নোয়াকাটি, কপিলমুনি, কাটিপাড়া, রাড়লী, শাহাপাড়া, বাঁকাসহ বিভিন্ন গ্রামের জেলে পল্লী থেকে প্রায় ২৫০টি ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সব কাজে বাড়ীর ছোট বড় সবাই সহযোগীতা করছে। নতুন ট্রালার তৈরি, পুরাতন ট্রলারগুলো সংস্কার, জালবুনা, লোহার নোঙ্গর/গ্রাফি, ট্রলারের রং করা, জালে গাবকুটে তার রস লাগানো সহ সমুদ্রে যাওয়ার বিভিন্ন কাজ কর্ম নিয়ে জেলে পল্লীর নারী-পুরুষরা ব্যস্ত দিন কাঁটাচ্ছে।

উপজেলার বোয়ালিয়া মালোপাড়া সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলাপাড়ার নারী-পুরুষ সকলেই সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। মালোপাড়ার দিপঙ্কর, অশোক বিশ্বাস নতুন ট্রলার তৈরী করছে। তাছাড়া সিতেরাম বিশ্বাস, তাপস বিশ্বাস,শংকর বিশ্বাস, বিশ্ব বিশ্বাস, দয়াল মন্ডল তাদের পুরাতন ট্রলারগুলি মেরামত করছে। কপোতাক্ষ নদের তীরে বোয়ালিয়া ব্রীজের দুই পাশে ট্রলার তৈরী ও মেরামতের কাজ চলছে। বোয়ালিয়া মালোপাড়ার বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানায়, সমুদ্রে মাছ ধরতে য়েতে নতুন ট্রলার তৈরী করতে সর্বমোট খরচ পড়ছে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। পুরাতন ট্রলার মেরামত করতে ২০-৭০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একটি নতুন ট্রলারে প্রায় ৩ মন পেরেক, এক শত কেজি জলই/পাতাম প্রয়োজন হয়।

 

ট্রালার তৈরি পর ইঞ্জিন বসাতে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিটি ট্রলারে জাল ধরার জন্য ২টি করে নোঙ্গর প্রয়োজন হয়। লোহার তৈরী নোঙ্গর তৈরী করতে খরচ পড়ছে ২৮ হাজার টাকা। প্রতিটি মাছ ধরার জাল তৈরি করতে তাদের খরচ হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে ১লাখ টাকা। সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য প্রতি ট্রলারে ২টি জাল প্রয়োজন হয়। প্রতি ট্রলারে জাল ধরার জন্য ৮/১০ জন কর্মচারীর প্রয়োজন হয়। তাদের থাকা-খাওয়া বাদে প্রতি মাসে ১৫/২০ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য ট্রলার প্রতি ৫/৬ মাসে সব কিছু মিলে খরচ পড়ে প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা।

মালোপাড়ার সিতেনাথ বিশ্বাস জানান, শীত মৈসুমে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়। ৫ থেকে ৬ মাসের জন্য দুবলার চরে অস্থায়ী জেলে পল্লীতে বাসা বেধে থাকা ও মাছ শুকানোর আড়ত তৈরী করতে হয়। এর জন্য অনেক টাকার দরকার পড়ে। সব টাকা নিজের না থাকায় এলাকার বিভিন্ন মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা দাদন নিতে হয়। ৫ থেকে ৬ মাসের জন্য তারা দাদন নিলেও ১ বছরের হিসাবে টাকা দিতে হয়। প্রতি ১ লাখ টাকায় মহাজনদের প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা সুদ দিতে হয়।

 

জেলেপাড়ার অজয় বিশ্বাস জানান, সরকার আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে লোনের ব্যবস্থা করত তাহলে মাছ ধরে উপার্জিত টাকা ঘরে ফিরে আনতে পারতাম।তা না হলে মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া চড়া সুদের টাকা শোধ করার পর উপার্জিত টাকা ঘরে ফিরে আসে না। তাই জেলে পরিবাররা সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে, শীত মৌসুমে মাছ ধরতে যাওয়া সময় জেলেদেরকে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করলে তারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে।

জেলেরা বিভিন্ন মহাজনের অধীনে থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। মহাজনরা জেলেদের পাস পারমিট করে রাখে। মংলা থেকে পাস নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য দুবলার চরে রওনা দেয়। মংলা হয়ে বলেশ্বর নদী দিয়ে দুবলার চরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মোংলা ঘুরে দুবলার চরে যেতে পাইকগাছার জেলেদের প্রায় ৩ দিন বাড়তি সময় লাগে এবং খরচ অনেক বেড়ে যায় বলে জেলেরা জানায়।

দূর্গা পূজার পরে জেলেরা মাছ ধরার জন্য সুন্দরবনের দুবলার চরের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। সূত্রে জানাগেছে, বন সুরক্ষার জন্য বনের ১৩টি চর নিয়ে জেলেরা যে মৎস্য পল্লী তৈরি করে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর উপকূলে মাছ ধরার মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। পূর্ব বন বিভাগের অধিনে দুবলা তাই জেলেদের পূর্ব বন বিভাগ থেকে পাশ পারমিট নিতে হবে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে বন বিভাগ সে মত সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ।

দূর্গাপূজার পর উপজেলার বোয়ালিয়া জেলে পল্লীর জেলেরা সকল ট্রলার এক সঙ্গে রওনা দিবে। মংলা হয়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে গিয়ে বাসা বেঁধে অবস্থান নিবে। জীবিকার জন্য প্রতি বছর সুমুদ্রে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বনদস্যু ও জলদস্যুদের সাথে জেলেদের জীবন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে ভয়ংকর,বিক্ষুদ্ধ উত্তাল ঢেউয়ের সংগে যুদ্ধ করে জেলেদের জাল ফেলে মাছ ধরতে হয়।

এতো বিপদের সংগে লড়াই করে তাদের জীবিকা অর্জন করতে হয়। জেলে পল্লী মানুষের আয়ের প্রধান উৎস্য সমুদ্রে মাছ ধরা। তবে এটা যেন তাদের নেশা ও পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জেলে পল্লীর নারী-পুরুষ সবাই মিলে প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র তৈরী ও গোছাতে দিন রাত কাজ করছে। এই নিয়ে জেলে পল্লীগুলোতে সাগর যাত্রার মহাকর্মযজ্ঞর প্রস্তুতি চলছে।

Ads small one

শ্যামনগরে গাছ কাটতে বাধা পেয়ে মা-মেয়েকে পিটিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে গাছ কাটতে বাধা পেয়ে মা-মেয়েকে পিটিয়ে জখম

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গাছ কাটায় বাঁধা পেয়ে ময়না বেগম(৫৫) ও তার মেয়ে আমিনা বেগম(২৬)কে পিটিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বুধবার বিকালে উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এসময় দুই নারীকে উদ্ধারে এগিয়ে আসায় আমিনার স্বামী আলআমিন মোড়লও মারধরের শিকার হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আমিনা বেগমের ভাষ্য তাদের জমি ইজারা নিয়ে নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি কাঁকড়ার হ্যাচারী গড়ে তুলেছে। বুধবার বিকালে পানখালীর সাইদের নেতৃত্বে নুরুজ্জামানের ৭/৮ জন কর্মচারী আকস্মিকভাবে উক্ত জমিতে থাকা কেওড়া ও বাইন গাছ কাটা শুরু করে। এসময় বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে তারা মা-মেয়ে বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে সাইদের নেতৃত্বে লাঠিশোটা দিয়ে গাছ কাটতে আসা লোকজন তাদের মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে তার স্বামী ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করায় তাকেও মারধর করা হয়।

আলআমিন মোড়লের দাবি তার স্ত্রীর পেটে মারাত্বকভাবে আঘাত করার কারনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী শ^াশুড়ীও মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে। ইজারা নেয়া জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নুরুজ্জামান তার লোকজন দিয়ে গত তিন বছর ধরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের জমির উপর দিয়ে নির্মিত চলাচলের রাস্তা পর্যন্ত তারা তালাবদ্ধ করে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালাচ্ছে।

অভিযুক্ত নুরুজ্জামান জানান তিনি ঘটনাস্থলে না থাকায় তার কর্মচারীরা ভুল করেছে। ইতিমধ্যে আহত মা-মেয়ের চিকিৎসার দায়-দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসার প্রস্তাবও দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করতে সহকারী উপ-পরিদর্শক নবীর হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ৪০টি ডাস্টবিন বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ৪০টি ডাস্টবিন বিতরণ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ডাস্টবিনে ফেলি, সুন্দরবনকে রক্ষা করি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নীলডুমুর বাজারে বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবির সিসিআরসি-এর সহযোগিতায় এ ডাস্টবিন বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোল্লার রুহুল আমিন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হালিম এবং সিসিডিবি পিসিআরসিবি প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রুপন, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার অমিতাভ হালদার, ফিল্ড অর্গানাইজার ওয়ারেসুর রহমান, সাখিরা খানম, দিল আফরোজসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে নীলডুমুর বাজারের ৪০ জন ব্যবসায়ীর হাতে একটি করে ডাস্টবিন তুলে দেওয়া হয়। বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উৎপন্ন প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতলসহ অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে যথাযথভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে এসব ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকার বাজারগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এসব বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখলে তা নালা-নর্দমা ও নদীতে গিয়ে পড়ার পাশাপাশি একসময় সুন্দরবনের জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশ রক্ষায় বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তারা আরও বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। সুন্দরবন ও এর আশপাশের নদ-খালকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি।

ডাস্টবিন বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ক্ষেত্রে তারা সচেতন থাকবেন। একই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানান তারা।

কলারোয়ায় ৮০জন মেধাবী শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পেলো বাইসাইকেল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ৮০জন মেধাবী শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পেলো বাইসাইকেল

আরিফ মাহমুদ: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পেলো বাইসাইকেল। সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে কলারোয়া উপজেলার ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে ওই বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর প্রথম ও দ্বিতীয় রোলধারী ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শ্রেনীপ্রতি ২টি করে মোট ১০টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল চত্বরে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক, সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

কলারোয়া পাইলট হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান।
কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল, গার্লস পাইলট হাইস্কুল, মডেল হাইস্কুল, বেত্রবতী হাইস্কুল, সোনাবাড়িয়া হাইস্কুল, বামনখালী হাইস্কুল, চন্দনপুর হাইস্কুল ও কাজিরহাট হাইস্কুলের ৪৩ জন ছাত্রী ও ৩৭ জন ছাত্রের মাঝে মোট ৮০টি সাইকেল তুলে দেয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে মেধাবী ও গবীর শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি, বাইসাকেল ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধাবিকাশে উৎসাহিত হয় সেজন্য আমরা তাদের পাশে আছি।
এসময় তিনি পাইলট হাইস্কুলে একটি সাইকেল শেড তৈরির জন্য দুই লাখ টাকা প্রদানের ঘোষনা দেন।

পাইলট স্কুলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ তামিম আজাদ মেরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরীফুজ্জামান তুহিন, বেত্রবতী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শেখ রাশেদুল হাসান কামরুল, সোনাবাড়িয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্তার আসাদুজ্জামান চান্দু, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক মাস্টার মনিরুজ্জামান প্রমুখ। এসময় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।