সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বজ্রপাত ও মৃত্যু/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
বজ্রপাত ও মৃত্যু/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বজ্রপাত সাতক্ষীরার মানুষের কাছে নতুন কোনো দুর্যোগ নয়। বর্ষার কালো মেঘ, বিদ্যুতের ঝলকানি আর হঠাৎ বিকট শব্দÑএর সঙ্গে উপকূলের মানুষ পরিচিত। কিন্তু পরিচিত এই প্রাকৃতিক ঘটনাই প্রতিবছর কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। বিশেষ করে আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে কৃষি, মৎস্যঘের, নদী ও জলাভূমিনির্ভর জীবিকার কারণে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এই তিন উপজেলার বাস্তবতা বুঝতে হলে মানুষের কর্মক্ষেত্রের দিকে তাকাতে হবে। এখানে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন মাঠে, ঘেরের পাড়ে কিংবা নদীতে কাজ করেন।

 

২০২১ সালের সরকারি ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে প্রায় ১৯ হাজার ৪৫৯টি মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার মোট আয়তন ছিল প্রায় ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর। এটি বজ্রপাতের পরিসংখ্যান নয়; তবে কত বিপুলসংখ্যক মানুষ উন্মুক্ত জলাভূমি ও ঘেরকেন্দ্রিক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত, তার একটি ধারণা দেয়। আশাশুনির আনুলিয়া, প্রতাপনগর, শ্রীউলা, খাজরা, বড়দল ও বুধহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মৎস্যচাষ ও কৃষির বিস্তার রয়েছে। ঘেরের শ্রমিক কিংবা মালিককে দিনের বিভিন্ন সময়ে খোলা জায়গায় থাকতে হয়।

 

বজ্রপাত শুরু হলে অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত নিরাপদ পাকা ভবনে পৌঁছানোর সুযোগ থাকে না। ঘেরের মাঝখানে থাকা টিনের ঘর বা অস্থায়ী স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করার প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে বজ্রপাতের মৌসুমে ঘেরভিত্তিক কর্মীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রয়োজন। শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুরের মানুষের জীবনের সঙ্গে নদী, খাল, ঘের ও সুন্দরবন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। জেলেদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বেশি। নদীর মাঝখানে বজ্রপাত শুরু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।

 

২০২৬ সালের জুনে শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে একজন জেলে নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার ঘটনা সেই বাস্তবতাই সামনে আনে। একই বছর মৎস্যঘেরে কাজ করতে গিয়ে এবং ধানক্ষেতে কাজ করার সময়ও বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর এসেছে। অর্থাৎ এখানে আক্রান্ত হচ্ছেন শুধু কৃষক নন-জেলে, ঘেরশ্রমিক ও সাধারণ মানুষও। কালিগঞ্জের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, নদী-খাল ও মৎস্যঘের বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে বর্ষাকালে মাঠ ও জলাভূমিতে কর্মরত মানুষের বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, বজ্রপাত কখনো একটি পরিবারের একাধিক সদস্যকেও একসঙ্গে কেড়ে নেয়।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কালিগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনসহ একাধিক মানুষের বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; স্থানীয় সমাজ ও অর্থনীতির ওপরও বড় আঘাত। সাতক্ষীরায় বজ্রপাত নিয়ে আলোচনা হলেও আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে গত পাঁচ বা দশ বছরে ঠিক কতজন মারা গেছেন, কতজন আহত হয়েছেন এবং কোন ইউনিয়ন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ-তার সমন্বিত প্রকাশ্য তথ্য খুবই প্রয়োজন। প্রতিটি ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ করা হলে সহজেই জানা যাবে-কোন এলাকায় মৃত্যুর হার বেশি, কৃষক না জেলে কারা বেশি আক্রান্ত, কোন মাসে ঝুঁকি বাড়ে এবং ঘটনাগুলো প্রধানত মাঠ, ঘের না নদীতে ঘটে।

 

বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে না দাঁড়ানো, খোলা মাঠ ও জলাশয় থেকে সরে যাওয়া-এসব সচেতনতা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু মাঠের কৃষক বা ঘেরের শ্রমিক যদি কাছাকাছি নিরাপদ ভবনই না পান, তাহলে শুধু সচেতনতার বার্তা কতটা কার্যকর হবে? তাই বড় কৃষিজমি ও ঘের এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা দরকার। ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য পাকা ভবনকে প্রয়োজনে আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

 

নদীতে থাকা জেলেদের জন্য মোবাইলভিত্তিক দ্রুত আবহাওয়া সতর্কবার্তাও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বজ্রপাতে আহতদের জরুরি চিকিৎসার প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। উপকূলের মানুষকে বলা সহজÑবজ্রপাতের সময় বাইরে যাবেন না। কিন্তু কৃষক, জেলে বা ঘেরশ্রমিকের পক্ষে সব সময় কাজ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাঁদের জীবিকা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তাই সমাধানও হতে হবে বাস্তবভিত্তিক। কাজ বন্ধ নয়, ঝুঁকি কমানোÑএই নীতিতে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

 

আশাশুনি-শ্যামনগর-কালিগঞ্জে ইউনিয়নভিত্তিক বজ্রপাতের তথ্যভান্ডার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, নিরাপদ আশ্রয়, আগাম সতর্কবার্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ-এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। বজ্রপাত থামানো মানুষের হাতে নেই। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা কমানোর সুযোগ আছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে মৃত্যুর পর শোক প্রকাশের চেয়ে মৃত্যুর আগে প্রস্তুতি জরুরি। সাতক্ষীরার কৃষক মাঠে যাবেন, ঘেরশ্রমিক ঘেরে যাবেন, জেলে নদীতে নামবেনÑএটাই তাঁদের জীবন। রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সেই জীবনকে যতটা সম্ভব নিরাপদ করা। বজ্রপাত প্রকৃতির ঘটনা; কিন্তু বজ্রপাতে মৃত্যু কতটা হবে, তার একটি অংশ নির্ভর করে আমাদের প্রস্তুতির ওপর।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

পাইকগাছায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে আলোচনা সভা

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: ‘একসাথে আরও শক্তিশালী জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে খুলনার পাইকগাছায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জলাতঙ্কের ভয়াবহতা, সংক্রমণের কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন চিকিৎসকেরা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে ময়না, গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুজন কুমার সরকার, চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সঞ্জয় কুমার ম-ল ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শকিলা আফরোজ।

চিকিৎসকেরা জানান, কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর ও বাদুড়ের কামড় বা আঁচড়ে তাৎক্ষণিক প্রতিষেধক টিকা নিতে হবে। তবে ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালি, গুঁইসাপ বা মানুষের কামড়ে এই টিকার প্রয়োজন নেই।

অনুষ্ঠানে উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক উদয় কুমার ম-ল, নার্স খাদিজা খাতুন, ইতি রানী বিশ্বাস, শারমিন সুলতানা এবং পরিসংখ্যানবিদ জাহাঙ্গীর আলমসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় তৃণমূল নারী সুরক্ষা ফোরামের সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তৃণমূল নারী সুরক্ষা ফোরামের সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূল নারী সুরক্ষা ফোরামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে শহরের তালতলা এলাকার সোনার বাংলা চাইনিজ কমিউনিটি সেন্টারে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আরা’র উদ্যোগে ‘রেসপন্স, এনগেজমেন্ট অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং ফর এক্সক্লুডেড উইমেন’ প্রকল্পের আওতায় এবং ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্রিশ্চিয়ান এইড’-এর সহযোগিতায় এটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। আরা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেখ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার ও পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।

সম্মেলনে বক্তারা নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও ফোরামের সদস্যরা অংশ নেন।

কলারোয়া বাজারে ডেঙ্গু সচেতনতায় ইউএনওর প্রচারাভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়া বাজারে ডেঙ্গু সচেতনতায় ইউএনওর প্রচারাভিযান

কলারোয়া প্রতিনিধি: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে কলারোয়া বাজারে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম।

২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিনি কলারোয়া বাজারের বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে ঘুরে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরেন এবং সচেতনতামূলক প্রচারপত্র হস্তান্তর করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশই এডিস মশার বংশবিস্তারের মূল কারণ। তাই বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই। চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

প্রচারাভিযানে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল হক, কলারোয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কান্তি দাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম, কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ সাজেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু ও সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।