বাজারের চাপে জনজীবন, জ্বালানি সংকটে অর্থনীতি, নিরাপত্তাহীন জনগণ: সমাধান কোথায়?
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত আগস্টের হিসাবে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
খাদ্য মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে। তবে একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে। এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পূর্বাভাসে বাংলাদেশের ২০২৭ সালের মূল্যস্ফীতি নিয়ে আগের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী চাপের কথা বলা হয়েছে। এডিবি বলছে, বাংলাদেশে খাদ্যদামের চাপ কিছুটা কমলেও অ-খাদ্য ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ মূল্যস্ফীতিকে ঝুঁকির মধ্যে রাখছে। তাই মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় শুধু পরিসংখ্যানের হার কমানোর দিকে তাকালে হবে না, মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা, বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনজীবনের ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আরেকটি বড় বিষয় হলো জ্বালানি তেলের দাম। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সরকার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা লিটার দরে রেখেছিল। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দরে ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, অকটেন ১৬৫ এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু গাড়ির মালিকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন, কৃষি, পণ্য পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে এর একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে।
একই সাথে ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর সমস্যার পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। আগস্টে কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের খবর প্রকাশিত হয়, ১২ আগস্ট জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী কোনো কোনো সময়ে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেয়।
পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গ্যাস সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও সংকট পুরোপুরি দূর হয়নি। ১৫ সেপ্টেম্বর দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হয়ে মোট সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছিল। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর মহেশখালী এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হলে সরবরাহ আবার প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যায় এবং মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সুশাসন ও জননিরাপত্তার বিষয়টিও জনজীবনের স্বস্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সেপ্টেম্বর মাসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ চাঁদাবাজি, দখল ও সহিংসতার কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সন্ত্রাসী, সশস্ত্র অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।
লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, গবেষক ও উদ্যোক্তা












