শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক: তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সমতায় নেমে এসেছে বাংলাদেশ নারী দল। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ।

 

১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা ৫ রান করে বিদায় নেন। ইমেশা দুলানি করেন ৮ রান। তবে ওপেনার ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৯ বলে ৮টি চারে ৪০ রান করেন তিনি।

 

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের জুটিতে। করুনারত্নে ৪০ ও সামারাবিক্রমা ৫০ রান করে আউট হলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কৌশানি ৪ রান করে ফেরেন। পরে কাভিশা ও নীলাক্ষী দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া সুলতানা খাতুন ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল। মাত্র ৪ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (২) ও শারমিন আক্তার (০) আউট হয়ে যান।

 

একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন অধিনায়ক জ্যোতি। ১০১ বলে ৪টি চারে ৫৮ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তিনি। শারমিন সুলতানা ২৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতু মনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০ ও রাবেয়া খান ১৫ রান করে কিছুটা অবদান রাখেন। এছাড়া সোবহানা মোস্তারি ৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন।

 

শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া আরও তিন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

Ads small one

পাইকগাছায় পলিথিনের জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন সাকাত দম্পতির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় পলিথিনের জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন সাকাত দম্পতির

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ যেন থামছেই না। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে অনেকটাই ক্লান্ত খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের সিলেমানপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. সাকাত মোড়ল। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন জরাজীর্ণ একটি ঘরে। ঘরটির একাংশ ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। বাকি অংশও যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘরের চালের কোথাও ভাঙা টিন, কোথাও মাটির টালি, আবার কোথাও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। মাটির দেয়াল জরাজীর্ণ, ভরসা বলতে বাঁশের খুঁটি আর পলিথিনের বেড়া। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, এটি পরিত্যক্ত কোনো ঝুপড়ি। অথচ এই ঘরেই স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাকাত মোড়ল।

ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। স্থায়ী আয়ের কোনো উৎস নেই। বয়স্ক ভাতা ছাড়া সরকারি কোনো সহায়তাও পান না। জমি বলতে আছে মাত্র দুই শতক, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাঁদের জীর্ণ ঘরটি।

বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ঘরের চাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন সাকাত মোড়ল। তারপরও বৃষ্টি বা বন্যা হলে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে কাদা হয়ে যায়। তখন সেখানে থাকা সম্ভব হয় না; আশ্রয় নিতে হয় প্রতিবেশীদের ঘরে। এমনকি ঘরে থাকার মতো একটি খাটও নেই। মেঝেতে পলিথিন বিছিয়ে রাত কাটান এই বৃদ্ধ দম্পতি।

এত কষ্টের মধ্যেও সাকাত মোড়লের স্বপ্ন, তাঁদের একটি নিরাপদ ঘর হবে। ঝড়-বৃষ্টি এলেও অন্তত অন্যের কাছে আশ্রয় চাইতে হবে না।

সাকাত মোড়ল বলেন, “সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতা ছাড়া আর কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাই না। প্রতিবেশীদের কেউ খাবার দেন, কেউ টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করেন। বৃষ্টির সময় তাঁদের ঘরেও আশ্রয় নিতে হয়। বলা যায়, তাঁদের দয়াতেই টিকে আছি। মানুষের সাহায্যে দুমুঠো ভাত জোটে। কেউ সাহায্য না করলে না খেয়েও থাকতে হয়। থাকার জায়গাটুকু ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই। সরকার অনেককে ঘর দিয়েছে। আমাকেও একটি ঘর দিলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।”

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ গাজী বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন, মানবিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়ান। তাঁদের একটি নিরাপদ ঘর তৈরি করে দেওয়া গেলে অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।”

 

যশোর-বেনাপোল সড়কে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
যশোর-বেনাপোল সড়কে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২

পত্রদূত ডেস্ক:

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট মোড়ের বড় মেঘলা এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী এলাকার শামিম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন এবং শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোডের শহিদুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম জয়। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।

আহত ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাতকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিয়াম, ওমর ও রাকিব একই মোটরসাইকেলে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছিলেন। নতুনহাট মোড় পার হয়ে বড় মেঘলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন নিহত হন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, নিহতদের একজনের কাছ থেকে আরিফুল ইসলাম জয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

পাইকগাছায় বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও চালকুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। কম খরচে চাষ করে ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন এ সবজির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া চালকুমড়া চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়াচ্ছে।

চালকুমড়া চাষের জন্য আলাদা জমি চাষ করার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির কোণে বা আঙিনার পতিত জায়গায় মাদা তৈরি করে বীজ বপন করা হয়। পরে গাছের লতা বড় হলে তা ঘরের চাল বা বাঁশের মাচায় তুলে দেওয়া হয়। ঘরের চালে বেড়ে ওঠে বলে এ সবজির নাম হয়েছে চালকুমড়া।

সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বাড়ির আঙিনা বা ফাঁকা জায়গায় চালকুমড়ার বীজ বপন করা হয়। এ সবজি চাষে খুব বেশি রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। সামান্য পরিচর্যা ও জৈব সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

চালকুমড়া একটি পুষ্টিকর সবজি। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত চালকুমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন অনেকেই। পাইকগাছার স্থানীয় বাজারগুলোতে এ সবজির চাহিদা থাকায় কৃষকেরা বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করেন। এতে গ্রামীণ পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চালকুমড়া দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। এ ছাড়া এটি দিয়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের জনপ্রিয় খাবার কুমড়ার বড়ি তৈরি করা হয়। পরিপক্ব চালকুমড়া দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করেও খাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, “বিনা চাষে ও কম খরচে বাড়ির চালে চালকুমড়া উৎপাদন করা যায়। সবজি হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চালকুমড়া চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। বাড়ির কোণে বা আঙিনার পতিত জমি ফেলে না রেখে সেখানে চালকুমড়া কিংবা মিষ্টিকুমড়া চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, উন্নত ও হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে প্রতিটি গাছ থেকে প্রচুর চালকুমড়া পাওয়া যাচ্ছে। এসব চালকুমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো আয় করতে পারছেন।