বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রাজনীতিতে মেধার অবমূল্যায়ন: ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অশনিসংকেত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
রাজনীতিতে মেধার অবমূল্যায়ন: ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অশনিসংকেত

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম বড় সংকট আজ শুধু মতাদর্শের নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। যখন সততা, শিক্ষা, দক্ষতা ও জনকল্যাণের চেয়ে তোষামোদ, ব্যক্তিপূজা কিংবা ক্ষমতাকেন্দ্রিক আনুগত্য বেশি গুরুত্ব পায়, তখন রাজনীতি ধীরে ধীরে তার আদর্শিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলে। আর আদর্শহীন রাজনীতি কখনোই একটি জাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণকর হতে পারে না।

‎‎বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত মেধাবী, সৎ ও আদর্শবান কর্মীদের তুলনায় বেশি মূল্যায়িত হন তারা, যারা ক্ষমতাবানদের খুশি রাখতে পারদর্শী। ফলে যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তি-নির্ভর মূল্যায়নের একটি সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এর ফলে নেতৃত্বের পদে মানুষ এলেও, নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও দূরদর্শিতা সবসময় বিকশিত হয় না।

‎‎সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের অসংখ্য মেধাবী তরুণ রাজনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে আগ্রহী। তারা দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু যখন তারা দেখতে পায় যে জ্ঞান, গবেষণা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসেবার চেয়ে তোষামোদই অগ্রগতির প্রধান সিঁড়ি, তখন তাদের অনেকেই রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কারণ আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মানুষ সাধারণত ব্যক্তিপূজার মাধ্যমে নয়, নিজের যোগ্যতা ও কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়।

‎‎এর প্রভাব শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সমাজের বিভিন্ন স্তরেও প্রতিফলিত হয়। রাজনীতিতে যখন চিন্তাশীল ও নীতিবান মানুষের অংশগ্রহণ কমে যায়, তখন যুক্তির পরিবর্তে আবেগ, আদর্শের পরিবর্তে সুবিধাবাদ এবং জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পায়।

‎‎ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, যে জাতি তার মেধাবীদের অবমূল্যায়ন করে, সে জাতি দীর্ঘমেয়াদে পিছিয়ে পড়ে। অন্যদিকে যে জাতি যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতাকে সম্মান করে, সেই জাতিই উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। তাই রাজনীতিতে মূল্যায়নের সংস্কৃতি পরিবর্তন আজ সময়ের দাবি।

‎‎ব্যক্তিপূজার পরিবর্তে আদর্শ, তোষামোদের পরিবর্তে যোগ্যতা এবং পেশিশক্তির পরিবর্তে যুক্তি ও প্রজ্ঞাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তরুণদের এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে তারা আত্মমর্যাদা বজায় রেখেই দেশের জন্য কাজ করতে পারে এবং নিজেদের মেধা ও কর্মের মাধ্যমে নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

‎‎একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার অস্ত্র বা অর্থে নয়; বরং তার মেধাবী, সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষের মধ্যে নিহিত। সেই মানুষদের যদি রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে ক্ষতি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয় ক্ষতি পুরো জাতির। তাই দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে রাজনীতিকে আবারও মেধা, নৈতিকতা, আদর্শ ও জনসেবার মূল চেতনায় ফিরিয়ে আনা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা (গাজী বাজার)

Ads small one

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্রী অপহরণের দুই সপ্তাহ, উদ্ধার ও মামলা নিয়ে অসন্তোষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কলেজছাত্রী অপহরণের দুই সপ্তাহ, উদ্ধার ও মামলা নিয়ে অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অপহরণের দুই সপ্তাহ পার হলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ এখনো মামলা রেকর্ড করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অপহৃত ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ রিফা তাসফিয়া সদর উপজেলার শ্রীরামপুর মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা ও ওই কলেজের শিক্ষক ফিরোজ হোসেন জানান, গত ১৭ জুন দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসে করে রিফাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় তিনি চৌবাড়িয়া গ্রামের অয়েজ কুরুনি, আল আমিন ও আল মামুনুল হকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ২৩ জুন থানায় এজাহার দেন। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও মেয়েকে উদ্ধার বা মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। রিফা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মামলা ও উদ্ধারের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুজ্জামান জানান, ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, অভিযুক্তরা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে অপহরণের পরও মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: কোটি টাকার সড়ক যখন ‘কাদার মহাসড়ক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: কোটি টাকার সড়ক যখন ‘কাদার মহাসড়ক’

সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী ইউনিয়নে সদ্য সমাপ্ত হওয়া কোটি টাকার একটি পিচঢালা সড়কের যে করুণ দশা চিত্রিত হয়েছে, তা এককথায় উদ্বেগজনক ও চরম জনদুর্ভোগের কারণ। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক নির্মাণের কিছুদিন যেতে না যেতেই সামান্য বৃষ্টিতে ‘কাদার মহাসড়কে’ পরিণত হবেÑতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সড়কটির পিচকরণের কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পিচ ও পাথরের আস্তরণ ঢাকা পড়ে পুরো সড়ক জুড়ে এখন ঘন কাদার আস্তরণ জমেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে মাটিবাহী ট্রলি, হল্লাগাড়ি ও মিনিট্রাকে করে অবাধে মাটি বহন করার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। গাড়ি থেকে পড়ে যাওয়া মাটির বড় বড় দলা যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে শুকনোর সময় ধুলা আর বর্ষায় মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির পিচ গলে যাচ্ছে ও পাথর উঠে যাচ্ছে।
এই পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক রাস্তার কারণে এলাকায় ইজিবাইক, ভ্যান বা মোটরসাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলার উপায়ও নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এমন জনদুর্ভোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অনতিবিলম্বে এই সড়কটির দুরবস্থার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। শুধু কুশখালি সড়ক নয়, জনস্বার্থে জেলার সকল সড়কে মাটিবাহী ট্রলি, হল্লাগাড়ি ও মিনিট্রাক বন্ধ হওয়া জরুরী। একই সাথে, সড়ক আইন লঙ্ঘন করে সড়ক নষ্টকারী অবৈধ মাটিবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বার্থে রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

কয়রায় গাঁজাসহ আটক দুজনের কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় গাঁজাসহ আটক দুজনের কারাদন্ড

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় ৬৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) শেষে এই আদেশ দেন। দ-প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আলামিন হোসেন (৩৫) ও গাজিনগর গ্রামের আব্দুস সালাম (১৯)।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ইসলামপুর চৌরাস্তা এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে এই দুজনকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে আব্দুস সালামের কাছ থেকে ৩৫ গ্রাম এবং আলামিন হোসেনের চায়ের দোকান থেকে আরও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযোগ দাখিলের পর আদালত এই রায় দেন। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।