বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্ব মানবিকতা দিবস: মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
বিশ্ব মানবিকতা দিবস: মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ১৯ আগস্ট ‘বিশ্ব মানবিকতা দিবস’ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানবতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা। যুদ্ধ, দুর্যোগ, দারিদ্র্য, মহামারি কিংবা বাস্তুচ্যুতির মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে যেসব মানুষ নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে অন্যের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসেন, এই দিনটি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন। একই সঙ্গে এটি বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকটে আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
বিশ্ব মানবিকতা দিবসের পেছনে রয়েছে এক বেদনাদায়ক ইতিহাস। ২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত ক্যানাল হোটেলে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ভয়াবহ বোমা হামলায় জাতিসংঘের ইরাক বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি সার্জিও ভিয়েরা দে মেলোসহ ২২ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন। মানবতার সেবায় নিয়োজিত এই কর্মীদের আত্মত্যাগের স্মরণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৮ সালে এ/আরইএস/৬৩/১৩৯ প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং ২০০৯ সাল থেকে ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিকতা দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।
বর্তমান বিশ্বে মানবিক সংকটের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সুদান, গাজা, কঙ্গো, ইয়েমেন, হাইতি, মিয়ানমার, সিরিয়া ও ইউক্রেনের মতো অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধ, সহিংসতা, ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার। কোথাও হাসপাতাল ধ্বংস হচ্ছে, কোথাও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও শিশুদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগও মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তাকর্মীরা খাদ্য, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, শিক্ষা ও সুরক্ষার মতো জীবনরক্ষাকারী সেবা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারাই আজ অনেক সময় হামলা, অপহরণ, আটক, গুম, নির্যাতন, কিংবা হত্যার শিকার হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক, চিকিৎসাকর্মী এবং মানবিক সহায়তাকর্মীরা বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এই আইন প্রতিনিয়তই লঙ্ঘিত হচ্ছে। উদ্বেগ প্রকাশ বা নিন্দা জানানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর জবাবদিহিতা, নিরাপদ মানবিক প্রবেশাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়নের দৃঢ় উদ্যোগ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও মানবিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চল, নদীভাঙন এলাকা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এছাড়া পাহাড়ীঢল আমাদের জনপদে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মানবিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা প্রতিরোধে শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা ও কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করার দাবী।
একজন মানবিককর্মী হিসেবে আমি মনে করি, মানবতা কোনো দান নয়; এটি মানুষের মৌলিক নৈতিক মানবিক ও নাগরিক দায়িত্ব। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা, ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটে। কিন্তু বর্তমান সময়ে চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, বস্তুবাদী প্রতিযোগিতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রা, কর্মীর নিরাপত্তাহীনতা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক সময় মানবিক মূল্যবোধকে পিছনে ফেলে দিচ্ছি। ফলে অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করার ক্ষমতা এবং পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
এই বাস্তবতায় বিশ্ব মানবিকতা দিবস আমাদের প্রতিনিয়ত নতুন করে ভাবতে শেখায়—মানবতা কেবল আন্তর্জাতিক সংস্থা বা ত্রাণকর্মীদের দায়িত্ব নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্তব্য। একজন ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা কিংবা মানবিক মূল্যবোধে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলাও মানবতারই অংশ। এজন্য টেকসই মানবিক মূল্যবোধ, তহবিল ও লজিস্টিকস নিশ্চিত করতে হবে।
আজকের আহ্বান হোক—বেসামরিক নাগরিক, মানবিক সহায়তাকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে; আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বাস্তবায়ন করতে হবে; মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে; এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির অবসান ঘটাতে হবে। কারণ মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু তাদের জীবন রক্ষা নয়, বরং সংকটাপন্ন মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশাকে বাঁচিয়ে রাখা। বিশ্ব মানবিকতা দিবস তাই কেবল একটি স্মরণদিবস নয়; এটি মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর, সহমর্মিতাকে শক্তিতে রূপান্তর করার এবং একটি আরও ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকারের দিন।

Ads small one

কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতদের ২ জন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের একজনের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী এবং অপরজন একই উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যাথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকান্ডে সে নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশী।

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।