শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস: শুনতে হবে মনের কথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস: শুনতে হবে মনের কথা

সাকিবুর রহমান বাবলা
মানুষের সুস্থতার কথা উঠলেই আমরা সাধারণত শরীরের যতœ, রোগ-ব্যাধি ও চিকিৎসার কথা ভাবি। অথচ সুস্থ জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসিক স্বাস্থ্য। মন ভালো না থাকলে শরীর, পরিবার, শিক্ষা, কর্মজীবন ও সামাজিক সম্পর্কÑকোনোটিই স্বাভাবিক গতিতে এগোয় না। তাই মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া এখন আর ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

১০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে থাকা ভয় ও সামাজিক কলঙ্ক দূর করা এবং প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করাই এ দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য। ১৯৯২ সালে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ-এর উদ্যোগে দিবসটি প্রথম পালিত হয়।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যÑ’বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা হোক: প্রকৃত কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন।’ এবারের বার্তার কেন্দ্রে রয়েছে যাঁরা নিজের জীবনে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া। শুধু তাঁদের গল্প শোনা নয়, তাঁদের মতামত যেন সেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়Ñএটাই এবারের আহ্বান।

মানসিক স্বাস্থ্য কোনো নির্দিষ্ট বয়সের বিষয় নয়। এর যতœ শুরু হওয়া উচিত জীবনের শুরু থেকেই। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। জন্মের পর শিশুর নিরাপদ পরিবেশ, স্নেহ, ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধন তার আবেগীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৈশোরে পড়াশোনা, পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক চাপ, বুলিং ও সম্পর্কের নানা পরিবর্তন মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে। আবার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে কর্মক্ষেত্রের চাপ, আর্থিক সমস্যা, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা একাকিত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বার্ধক্যে একাকিত্ব, স্মৃতির পরিবর্তন ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি জড়িয়ে থাকে।

তাই শিশুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, কৈশোরে হঠাৎ নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাওয়া, দীর্ঘদিনের মন খারাপ, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন কিংবা কর্মজীবনে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তিকে অবহেলা করা উচিত নয়। এসব ক্ষেত্রে ধমক বা উপহাস নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া।

পরিবার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রথম আশ্রয়স্থল। সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা, পারিবারিক কলহ থেকে শিশুদের রক্ষা করা, বয়স্ক সদস্যদের কথা শোনা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত গুণগত সময় কাটানো জরুরি। একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও অতিরিক্ত শিক্ষাচাপ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের কথা বলার নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

কর্মক্ষেত্রেও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যতœশীল হওয়া জরুরি। অতিরিক্ত কাজের চাপ, বৈষম্য, হয়রানি, চাকরির অনিশ্চয়তা ও অসম্মানজনক পরিবেশ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিপরীতে নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ মানুষের আত্মবিশ্বাস ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১২ বিলিয়ন কর্মদিবস হারিয়ে যায়।

ডিজিটাল যুগেও প্রয়োজন সচেতনতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনকে ছোট করে দেখা, অতিরিক্ত স্ক্রিনে ডুবে থাকা কিংবা নেতিবাচক ও ভুয়া তথ্যের প্রভাবে মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে পরিমিত ও দায়িত্বশীল।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আত্মসচেতনতা, আবেগকে বুঝতে শেখা, চাপ সামলানোর স্বাস্থ্যকর উপায়, সময় ব্যবস্থাপনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সুস্থ ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-কষ্টকে লুকিয়ে না রেখে বিশ্বাসযোগ্য মানুষ ও প্রয়োজনীয় পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য, অধিকারভিত্তিক ও মানুষকেন্দ্রিক করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় আক্রান্ত মানুষের নিজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁদের সেবা পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার করার বিষয়টিও এখন বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইন, নীতি, চিকিৎসা ও সচেতনতা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে দক্ষ জনবল বৃদ্ধি, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কলঙ্ক কমানো এখনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পরিবার, শিক্ষক, চিকিৎসক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম-সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের লক্ষ্য হোক-মানুষের মনের কথা শোনা, কষ্টকে অবহেলা না করা এবং মানসিক অসুস্থতাকে লজ্জার বিষয় হিসেবে না দেখে সব জড়তা দূর করা। একজন মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা তার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই অভিজ্ঞতা থেকে সমাজও শিখতে পারে। আসুন, আমরা শুধু মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা না বলে মানুষের কথা শুনি, সহমর্মী হই এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে মানসিক সুস্থতাও শারীরিক সুস্থতার মতোই মর্যাদা পায়।

Ads small one

জাকারিয়া হত্যার বিচার দাবিতে নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
জাকারিয়া হত্যার বিচার দাবিতে নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধন আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সাতক্ষীরার নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাকারিয়া হত্যার বিচার বাস্তবায়ন কমিটি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের লেকভিউয়ের হলরুমে কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। আহ্বায়ক ডা. আবুল কালাম বাবলার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সদস্যসচিব শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড়, আইনজীবী আকবার হোসেন, আবুল কাসেম, মশিউর রহমান, শফিকউদ্দৌলা সাগর, শেখ আবু রায়হান, মেহেদী হাসান, আল ইমরান ইমু, ডা. মহিদার রহমান ও আব্দুল গফুর প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যকর কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। এ কারণে শনিবার সাতক্ষীরা নিউমার্কেট চত্বরে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পাটকেলঘাটায় জাসাসের মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পাটকেলঘাটায় জাসাসের মিছিল

সংবাদদাতা: সারাদেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রতিবাদে পাটকেলঘাটায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। পাটকেলঘাটা থানা জাসাসের উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

পাটকেলঘাটা থানা জাসাসের আহ্বায়ক শেখ সামিউল ইসলাম রুবেল ও সদস্যসচিব মো. রায়হানের নেতৃত্বে মিছিলটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে পাটকেলঘাটা থানা জাসাসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুক্তার আলী, সরুলিয়া ইউনিয়ন জাসাসের আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড জাসাসের আহ্বায়ক আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

 

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে তৃণমূলে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাসাসের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

 

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচার, অর্থোপেডিক চিকিৎসায় আস্থা ডা. হুমায়ূন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচার, অর্থোপেডিক চিকিৎসায় আস্থা ডা. হুমায়ূন

নিজস্ব প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা ও আশপাশের এলাকার রোগীদের হাড়-জোড় এবং পঙ্গুত্বজনিত চিকিৎসায় আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন চিকিৎসক হুমায়ূন কবির। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাড়-জোড় ও অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা অর্থোপেডিক সার্জারিতে উচ্চতর ডিগ্রি ‘ডি. অর্থো’ ও ‘এফসিপিএস’ অর্জন করেছেন। হাড় ভাঙা, হাড় ক্ষয়, বাতের ব্যথা, জয়েন্ট প্রতিস্থাপন, পঙ্গুত্ব প্রতিরোধসহ নানা জটিল অস্ত্রোপচারে তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সমন্বয়ে নিয়মিত জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে স্থানীয় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা ছেড়ে রাজধানী বা দূরদূরান্তে ছুটতে হচ্ছে না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় নামমাত্র খরচে নিজ জেলাতেই মিলছে মানসম্মত অর্থোপেডিক চিকিৎসা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, চিকিৎসক হুমায়ূন কবিরের আন্তরিক আচরণ ও নিবিড় তদারকি তাঁদের দ্রুত সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখছে। জটিল সমস্যা নিয়ে আসা অনেক রোগী চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।

চিকিৎসক হুমায়ূন কবির বলেন, ‘অর্থোপেডিক সমস্যায় সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব কিংবা অপচিকিৎসার কারণে সামান্য আঘাত থেকেও স্থায়ী পঙ্গুত্ব তৈরি হতে পারে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বস্তরের মানুষের জন্য আধুনিক ও সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।’

উপকূলীয় এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালে এমন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের নিয়মিত সেবা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।