সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বেকারত্ব: একটি মানসিক ব্যাধি ও উত্তরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
বেকারত্ব: একটি মানসিক ব্যাধি ও উত্তরণ

শিরিন সিদ্দিকী

চাকরি সোনার হরিণ! আর আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তো কোনো বিশেষণেই বিশেষায়িত করার প্রশ্নই আসে না।

চাকরি মানে চাকরি। সরকারি চাকরিই আসল কথা।তা আপনি মাধ্যমিক পাস হোন আর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনকারী হোন। একটা সরকারি চাকরিই যেন মানবজীবনের আরাধ্য চাওয়া। আর সোনার হরিণ সম এই অতীব মূল্যবান চাকরি জুটাতে গড় আয়ুর প্রায় অর্ধেক অংশ পার করে ফেলি আমরা। এখানে কোনো ভাবেই বিবেচ্য নয় যে আপনি কোন বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন। সার্টিফিকেট অর্জনের আসল মাকসাদ চাকরি!

সরকারি চাকরি। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়াগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাস্ত অনেক মেধাবী চাকরিপ্রার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধ আর অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বেকার ট্যাগ ঘুচাতে চাকরি যুদ্ধ সমান গুরুত্ব বহন করে। একমাত্র তারাই বুঝতে পারবেন যারা এই যুদ্ধে পারিবারিকতা ও সামাজিকতা, বন্ধুমহল ও প্রিয়জন ভুলে এই পথের যোদ্ধা হিসেবে সময়,শ্রম ও মেধা দিয়ে যারপরনাই চেষ্টা করে দিনরাত এক করে ফেলে জীবনের পঁচিশ-তিরিশ বসন্ত নির্বাসিত তপস্বীর জীবন যাপন করেছেন।

সমস্যা নেই ফার্মেসি বিভাগের টপার হয়েও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেন নাকি ইসলামী ইতিহাসের ছাত্র হয়ে ব্যাংক এর ক্যাশ ইন চার্জ হিসেবে নিয়োগ পেলেন।
ট্যাগ দরকার শুধু আপনি আর বেকার যুবকের তালিকায় নেই। আপনি এখন সরকারি চাকুরীজীবী।

ব্যস্! আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত সম্মান, মর্যাদা ও ঠিকঠাক গ্রেডিং এর চেয়ারটাতে সমাসীন হয়েছেন কিনা এতো ব্যক্তি সচেতনতা দেখানোর মতো আদিখ্যেতা বাতুলতা মাত্র। দূর্লভ এ চাকরির বাজারে আপনিও সরকারি অনুদানভুক্ত চাকর! এই সংবাদটি নিশ্চিত করতে পারলেই পেটে ভাতে আপনি ছাপোষা কেরানি। একটা মানুষ জীবন আর কী চাই!
হায় আমার সোনার বাংলাদেশ!

আহা! আমরা সোনার দামাল বঙ্গসন্তান!
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, শরীরের রক্ত পানি করে, মগজের কোষে চাপাচাপি করে চাকরির রেসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এনএসআই ভেরিফিকেশনের নামে কী ভয়ংকর ছলনাই না করলো! আমি সমব্যথী একজন মানুষ হিসেবে সত্যিই বুকে পাঁজরভাঙা কষ্ট অনুভব করছি।কারণ আমি নিজেও পাবলিকিয়ান হয়েও চাকরির প্রথম জীবন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবেই শুরু করেছিলাম। সে-ই অভিজ্ঞতার আলোকেই হৃদয়ের রক্তক্ষরণে হৃদক্রিয়া বন্ধের শ্বাসকষ্ট অনুভব করছি। অবশ্যই কোমলমতি শিশুদের সাথে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্বর্গীয় আনন্দ অনুভব হতো তবে তা বেশিদিনের সুখ অনুভুতি নয়। যখন বুঝতে পারছিলাম আমার অর্জিত জ্ঞান নয় বরং ওদের খোরাকি মেটানোর প্রয়োজন মতো আমাকেই ওদের মতো হয়ে পড়াতে হচ্ছে। দারুন একটা মর্মপীড়ার আহত হতাম নিজের ভবিষ্যৎ বিবেচনায়। তখন আমার অর্জিত সার্টিফিকেটগুলোকে নিষ্প্রয়োজন বলেই বোধ করেছি। বলতে গেলে এতো এতো মেধাবী চাকরিপ্রার্থী নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক সনদের যোগ্য পদ ও পদবির জন্যে নয়; বরং অপেক্ষাকৃত অনেক অনেক নি¤œস্তরের (অবশ্যই ছোট করছি না) বলতে গ্রেড হীন (সদ্য গ্রেডিং ভুক্ত) কিছু অর্থের বিপরীতে লাখ লাখ মেধাবীর সাথে প্রতিযোগিতা করে লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা ফেইস করে সুপারিশপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

তারপর আবার নিয়োগপত্র বেহাত হয়ে যাচ্ছে। আঙুল তুলছে রাষ্ট্রের দিকে।রাষ্ট্র সে অভিমান বুঝতে পারছে কি? না, পারছে না।আর পারবেও না।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের যোগ্য শিক্ষক ততদিন পর্যন্তই ঠিকঠাক ছিল যতদিন পর্যন্ত ম্যাট্রিক পাস করেই কাক্সিক্ষত মেধাবী চাকরিপ্রার্থী রাষ্ট্র নিয়োগদান করতে পেরেছে। কারণ ম্যাট্রিকুলেশন পাশ দিয়ে তাঁরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই সেবাদানের মাধ্যমে এ মহান পেশায় নিয়োজিত থেকেছেন। তখন এক সময় ছিল বটে। কিন্তু যেদিন থেকে একজন অনার্স-মাস্টার্স শেষ করা একজন চাকরিপ্রার্থী প্রাথমিক স্তরে নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি ঠিক কতটুকু ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারেন অ আ ক খ বর্ণ পরিচয় কিংবা গণিতের ধারাপাত আত্মস্থ করাতে। এসব উচ্চ ডিগ্রিধারী সহকারী শিক্ষক মূলত চাকরিই করতে আসেন মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার মতো সৎ মানসিকতার আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন না।

 

প্রচুর উদাহরণ আছে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে প্রবেশের ছয় মাস এক বছর না পেরোতেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে নামেমাত্র মাসিক বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে মরছে। আর বড় একটা অংশ আছেন যারা রীতিমতো আফসোস করে হাপিত্যেশ করছেন। ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন মাত্র। তবে অবশ্যই হাতেগোনা দু’চারজন যাঁরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন না সে ধৃষ্টতা দেখানোর স্পর্ধা আমার নেই। তাঁদের জন্য আমার শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

 

আর সেই সাথে প্রশ্ন রাখছি রাষ্ট্রের কাছে একজন ফার্মেসি বিভাগের টপার শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাঁর ছয় সাত বছরের মগজ গলানো অর্জিত জ্ঞান প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া কোমলমতি শিশুদের ঠিক কোন বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের পাথেয় হবে? আর ছোট্ট পরামর্শ হলো, যেসব মেধাবী চাকরিপ্রার্থীগণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জিং সাবজেক্টসমূহে সার্টিফিকেট অর্জনের পর নিজেদের যোগ্যতা বিচারের ভার রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সিমপ্যাথি কুড়ানোর মতো হালকা ব্যঙ্গর মোচড়ে খবরের শিরোনামে ভাইরাস ছড়াচ্ছেন তাদের ঘিলুটাকে ভাঙরির দোকানে ওজনে তুলে দিয়ে ঝুড়ি ভাজা খেতে পারেন। তবে, ইদানিং একটা আশার আলো দেখতে পাই, যখন দেখি প্রচুর সংখ্যক প্রতিষ্ঠিত চাকরিজীবী লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান ফেরি করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন। শুধুমাত্র অন্যের অধীনে চাকরি করবেন না বলে।

 

বেকার থাকবেন না বলে তাঁরা বেকারত্ব “শব্দটিকে কেটে ছিঁড়ে একেবারে যাচ্ছেতাই কান্ড করে বসে আছেন। সরকারি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্তও আজকাল স্ট্রিট ফুড উদ্যোক্তা! আপনি হতাশবাদী সার্টিফিকেটধারী একজন উচ্চ শিক্ষিত বেকার। আপনার কাছে যদি সাবজেক্ট ম্যাটার না করে এবং চাকরি পাওয়াই শিক্ষাজীবনের আরাধ্য হয় তবে নিজের নামের আগে বেকার ‘বিশেষণটাকে আগে ঝেড়ে ফেলুন।

 

আমার তো মনে হয় বেকার ‘শব্দটাকেই অভিধান থেকে আগে তুলে দেয়া দরকার। বে কার অর্থ্যাৎ নেই কাজ যার।কাজ নেই এমন মানুষ হয় না কি আবার? প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে চাকরি পাচ্ছি না বেকার ইত্যাদি সেøাগানে নিষ্কর্ম অলসভাবে মূল্যবান সময় নষ্ট করে যাচ্ছে। যদি আপনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সাথে কর্মসংস্থানের খুব বেশি সাজুয্য না থেকে মানে চাকরি পাওয়াই আপনার একমাত্র লক্ষ্য হয় তবে আপনি আপনার বেকারত্বের অভিশপ্ত ট্যাগ থেকে নিজের উত্তরণ ঘটাতে পারেন। নিঃসন্দেহে বেকার ‘শব্দটি একটি মানসিক ব্যাধি। বাস্তবিক পক্ষে এ শব্দটির অস্তিত্ব মেটার করে না।

 

আজকাল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও বহু শিক্ষিত ছেলেমেয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে গেছে। আপনার মেধা-শ্রম-অধ্যবসায় দিয়ে নিজের যোগ্যতা নিজেই বুঝে নিন।রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে ধৃষ্টতা প্রদর্শন কিংবা অভিমান দেখানোর মিনিমাম সময়টুকুও আত্মোন্নয়নে ও স্বাবলম্বী হওয়ার দক্ষতা অর্জনে কাজে লাগিয়ে নিজের প্রতি রহম করুন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক (বাংলা), নাংলা পি এস জে ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, সুজনসাহা, তালা, সাতক্ষীরা

Ads small one

সম্পাদকীয়/ অসমাপ্ত কপোতাক্ষ সেতু: জনগণের দুর্ভোগের দায় কে নেবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ অসমাপ্ত কপোতাক্ষ সেতু: জনগণের দুর্ভোগের দায় কে নেবে?

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেরশা এবং খুলনার পাইকগাছার লাড়ুলি ইউনিয়নের সীমানায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ অর্ধেক শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদের ওপর ৮০ মিটার সেতু ও ৪৪ মিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণের যে শুভ সূচনা হয়েছিল, আজ তা মাঝপথে থমকে গেছে। রাতের আঁধারে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে চম্পট দিয়েছে, তা কেবল ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনাই প্রকাশ করে না, বরং পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরে।

এই সেতুটি কেবল সাতক্ষীরা ও খুলনার দুটি প্রত্যন্ত অঞ্চলকে যুক্ত করার অবকাঠামো নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তালা, পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা শহরগুলোর সঙ্গে সহজে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হওয়ার কথা ছিল এই সেতু। কিন্তু বর্তমানে নদের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা মাত্র চারটি অসম্পূর্ণ পিলার এখন যেন স্থানীয় অধিবাসীদের হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক। বিগত আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা বিলসংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে এভাবে পণবন্দী করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দিনের পর দিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে গিয়ে কৃষক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

 

পাইকগাছা উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারবার চিঠি দিয়েও ঠিকাদারের সাড়া না পাওয়ায় চুক্তি বাতিলের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে জনগণের ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হওয়া উচিত নয়। কেবল চুক্তি বাতিলই যথেষ্ট নয়; কাজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সটে পড়া এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আমাদের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করে পুনর্দরপত্রের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তালা ও পাইকগাছাÑউভয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এলজিইডি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করবেন, এটাই ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। কপোতাক্ষের পাড়ের মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান হোক।

পাইকগাছায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে আলোচনা সভা

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: ‘একসাথে আরও শক্তিশালী জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে খুলনার পাইকগাছায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জলাতঙ্কের ভয়াবহতা, সংক্রমণের কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন চিকিৎসকেরা।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে ময়না, গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুজন কুমার সরকার, চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সঞ্জয় কুমার ম-ল ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শকিলা আফরোজ।

চিকিৎসকেরা জানান, কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর ও বাদুড়ের কামড় বা আঁচড়ে তাৎক্ষণিক প্রতিষেধক টিকা নিতে হবে। তবে ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালি, গুঁইসাপ বা মানুষের কামড়ে এই টিকার প্রয়োজন নেই।

অনুষ্ঠানে উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক উদয় কুমার ম-ল, নার্স খাদিজা খাতুন, ইতি রানী বিশ্বাস, শারমিন সুলতানা এবং পরিসংখ্যানবিদ জাহাঙ্গীর আলমসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় তৃণমূল নারী সুরক্ষা ফোরামের সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তৃণমূল নারী সুরক্ষা ফোরামের সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূল নারী সুরক্ষা ফোরামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে শহরের তালতলা এলাকার সোনার বাংলা চাইনিজ কমিউনিটি সেন্টারে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আরা’র উদ্যোগে ‘রেসপন্স, এনগেজমেন্ট অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং ফর এক্সক্লুডেড উইমেন’ প্রকল্পের আওতায় এবং ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্রিশ্চিয়ান এইড’-এর সহযোগিতায় এটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। আরা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেখ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার ও পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।

সম্মেলনে বক্তারা নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও ফোরামের সদস্যরা অংশ নেন।