শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

বেতনা নদীতে অবৈধ আড় জাল, ভেস্তে যাচ্ছে খনন প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
বেতনা নদীতে অবৈধ আড় জাল, ভেস্তে যাচ্ছে খনন প্রকল্প

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী বেতনা নদীর নাব্যতা ফেরাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খননকাজ করা হলেও অবৈধ ‘আড় জাল’ পাতার কারণে সেই সুফল ভেস্তে যেতে বসেছে।

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদীটির খনন শেষ হওয়ার পর জোয়ার-ভাটা চালু হয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এসেছিল। কিন্তু সম্প্রতি নদীর বিভিন্ন স্থানে একশ্রেণির প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত আড় জাল পেতে মাছ শিকার করছে। এর ফলে পলি জমে নদীটি আবারও ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সদর উপজেলার বিনেরপোতা, শাল্ল্যে, মাছখোলা ও কামারডাঙ্গা এলাকায় নদীর এক তীর থেকে অন্য তীর পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে জাল বেঁধে রাখা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক স্রোত আটকে যাচ্ছে।

পরিবেশকর্মীরা সতর্ক করে বলছেন, এই ক্ষতিকর জালের কারণে ছোট-বড় মাছসহ জলজ প্রাণীর প্রজনন ব্যবস্থা ধসে পড়ছে। এভাবে প্রতিবন্ধকতা চলতে থাকলে নদীর তলদেশ দ্রুত ভরাট হয়ে আশপাশের বিলের চেয়ে উঁচুতে উঠে যাবে। ফলে স্লুইসগেট দিয়ে বিলের পানি নদীতে নামতে পারবে না, যা পুরো সাতক্ষীরা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।

সরকারি প্রকল্পের সুফল বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে এই অবৈধ আড় জাল উচ্ছেদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Ads small one

স্ত্রীর দুটি কিডনিই বিকল: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান কলারোয়ার যুবদল নেতা মিলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
স্ত্রীর দুটি কিডনিই বিকল: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান কলারোয়ার যুবদল নেতা মিলন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৬ নম্বর সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহানুর রহমান মিলনের স্ত্রী সেলিনা নাসরিন মারাত্মক জীবন-সংকটে পড়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল (ড্যামেজ) হয়ে গেছে। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার অভাবে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের মেয়াদে রাজনৈতিক মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার এবং ধারাবাহিক জেল-জুলুমের কারণে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল যুবদল নেতা সোহানুর রহমান মিলনকে। সেসময় পরিবারের প্রতি সঠিক খেয়াল রাখা বা স্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার সময়মতো সুচিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। নিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসার অভাবে ক্রমান্বয়ে সেলিনা নাসরিনের শারীরিক অবস্থার অবক্ষয় ঘটে এবং অবশেষে তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে পড়ে।

স্ত্রীকে বাঁচাতে এ পর্যন্ত সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন মিলন। তবে দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ যোগাতে গিয়ে তিনি আজ পুরোপুরি নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত। বর্তমানে চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন অথবা জরুরি ও ব্যয়বহুল উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন, যা বহন করা তাঁর পক্ষে আর কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

এ অবস্থায় স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে এবং সঠিক সুচিকিৎসার সুব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ ও মানবিক সহায়তা প্রার্থনা করেছেন মিলন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর আকুল আবেদন ও কষ্টের কথা তুলে ধরতে চান। স্ত্রীর সুস্থতা ফেরাতে দলীয় প্রধান ও দেশের স্বহৃদয় ব্যক্তিবর্গের কাছে আকুল মানবিক আবেদন জানিয়েছেন এই ক্ষতিগ্রস্ত যুবদল নেতা।

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহত্যা

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সারথী সরকার নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সারথী সরকার ওই গ্রামের বিশ্বনাথ সরকারের স্ত্রী।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার ও দৈনন্দিন কাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বিশ্বনাথ সরকারের বড় ছেলে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে মাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সারথী সরকার ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে দেখতে পান। তবে ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে পরিদর্শন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে কী কারণে সারথী সরকার আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিক ভাবে জানা যায়নি।

সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাত রোগী হাসপাতালে ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাত রোগী হাসপাতালে ভর্তি

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রেরিত ডেঙ্গু রোগী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৫৪ জন রোগী। এসময় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ৩ রোগীকে। তবে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখনো পর্যন্ত রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদরের হাসপাতালভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন। এছাড়া কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এখন নপর্যন্ত সর্বাধিক ১১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া সদর হাসপাতালে ২৫ জন এবং তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো খুবই জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গণর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”