বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গত ৪ ও ৫ নভেম্বর সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) অধীন মাদরা, চান্দুরিয়া ও তলুইগাছা বিওপির টহল দল পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ, উইনসারেক্স সিরাপ, মোবাইল চার্জিং পিন ও মাউথ স্পিকার জব্দ করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এসের ১০ নম্বর আরবি থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজপুর ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল চার্জিং পিন ও মাউথ স্পিকার জব্দ করে।

চান্দুরিয়া বিওপির দল সীমান্ত পিলার ১৭/৭-এসের ৪ থেকে ৬ নম্বর আরবি থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মন্দির এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় উইনসারেক্স সিরাপ জব্দ করে। অন্যদিকে, তলুইগাছা বিওপির দল সীমান্ত পিলার ১২/৬ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ জব্দ করে।

তিনটি অভিযানে সর্বমোট ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সীমান্তে চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

Ads small one

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ভিডিও কনফারেন্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ভিডিও কনফারেন্স

পত্রদূত ডেস্ক: শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার সফল করতে সাতক্ষীরায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাওছার আজিজ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ আশরাফুল আলম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাসেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাব্লু, সাবেক আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুখ, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুল নাহার এবং সাবেক পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তারা বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস তরুণদের মেধা ও ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের বিকল্প নেই। সভায় অনুষ্ঠান সম্প্রচারের কারিগরি প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেবহাটায় বার্ষিক পুষ্টি পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় বার্ষিক পুষ্টি পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপুষ্টি প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেবহাটায় ইউনিয়ন মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্মের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক পুষ্টি পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেবহাটা উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুসাইন শওকত, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন, বিভিন্ন ইউনিয়নের ইমাম এবং ইউনিয়ন পুষ্টি কমিটির সদস্যরা।

সভায় পুষ্টি উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টিসেবা, শিশুদের সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, পারিবারিক পুষ্টিবাগান গড়ে তোলা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, পুষ্টি উন্নয়ন একটি সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ। এ ক্ষেত্রে সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য ও কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুসাইন শওকত পুষ্টি উন্নয়নে কৃষি বিভাগের ভূমিকা তুলে ধরে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও পারিবারিক পুষ্টিবাগান সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যুদ্ধের ক্ষত শুধু মানুষের নয়, প্রকৃতির বুকেও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের ক্ষত শুধু মানুষের নয়, প্রকৃতির বুকেও

সাকিবুর রহমান বাবলা

যুদ্ধ মানেই ধ্বংস, মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক বিপর্যয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা পরিমাপ করতে সাধারণত নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা, ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর হিসাব করা হয়। কিন্তু যুদ্ধের আরেকটি নীরব শিকার প্রকৃতি ও পরিবেশ। গোলাবারুদ, রাসায়নিক পদার্থ, তেল নিঃসরণ এবং পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বনভূমি, নদী, সমুদ্র, কৃষিজমি ও বন্যপ্রাণী। অথচ মানুষের জীবন, খাদ্য, পানি ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন এই প্রকৃতি। তাই যুদ্ধের ক্ষত শুধু মানুষের শরীরে নয়, পৃথিবীর বুকেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে।

যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে পরিবেশের ধ্বংস ও শোষণ প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ৬ নভেম্বর পালিত হয় ‘যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে পরিবেশের শোষণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক দিবস’। ২০০১ সালের ৫ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৫৬/৪ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন ৬ নভেম্বর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। যুদ্ধের সময় পরিবেশের ওপর সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, গত ৬০ বছরে সংঘটিত অভ্যন্তরীণ সংঘাতের অন্তত ৪০ শতাংশের সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ ও নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক রয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে কাঠ, হীরা, সোনা, তেল, পানি ও উর্বর জমি। প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘাতের ক্ষেত্রে শান্তিচুক্তির পর পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও অন্যান্য সংঘাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ কারণে সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে পরিবেশ সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে জাতিসংঘ।

২০১৬ সালের ২৭ মে জাতিসংঘের পরিবেশ পরিষদে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে সুস্থ বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কারণ, বন, পানি, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলে মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হয়। দূষিত পানি ও মাটি রোগের বিস্তার ঘটায়, খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত করে। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও পরিবেশগত ক্ষতির প্রভাব মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে রাখে।

বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধের ইতিহাসে পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত রয়েছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কুয়েতের প্রায় ৭০০টি তেলকূপে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক মাস ধরে জ্বলতে থাকা এসব কূপের কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত পদার্থ বায়ুমণ্ডল দূষিত করে। পারস্য উপসাগরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধেও ডিপ্লিটেড ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ গোলাবারুদের ব্যবহার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এজেন্ট অরেঞ্জ নামের রাসায়নিকের কারণে বিস্তীর্ণ বনভূমি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ফলে মানুষ ও প্রকৃতির ওপর তেজস্ক্রিয়তার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের ‘জোন রুজ’ বা লাল অঞ্চল গোলাবারুদ ও রাসায়নিক দূষণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের বহু বছর পরও সেখানকার কিছু এলাকায় বসবাস ও কৃষিকাজ সীমিত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতেও পরিবেশ ধ্বংসের একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক হামলায় বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। এসব ধ্বংসস্তূপে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ, অ্যাসবেস্টস ও ক্ষতিকর বর্জ্য পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। কৃষিজমি, গাছপালা, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি জানিয়েছে, এই পরিবেশগত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে সুদানের দারফুরসহ বিভিন্ন সংঘাতকবলিত এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জ্বালানির চাহিদা, বন উজাড়, মরুকরণ ও বন্যপ্রাণী নিধন জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

যুদ্ধের সময় পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনও রয়েছে। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনের ১৯৭৭ সালের প্রথম অতিরিক্ত প্রটোকলে পরিবেশের ব্যাপক, দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক ক্ষতি ঘটাতে পারে—এমন যুদ্ধপদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের ২০২২ সালের ‘সশস্ত্র সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবেশ সুরক্ষার নীতিমালা’য় সংঘাতের আগে, চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারত্ব এবং সংঘাত-পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনাবিষয়ক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিবেশের অবক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

যুদ্ধের ময়দানে মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায়ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল হতে হবে। সংঘাতের অবসানের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধার, প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার এবং পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। যুদ্ধ থেমে গেলেই প্রকৃতির ক্ষত সেরে যায় না। তাই পরিবেশ ধ্বংসের দায়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোর পরিবেশ পুনরুদ্ধারে জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়তে প্রকৃতির সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই।