বেনাপোল বন্দর দিয়ে আসছে ভারতীয় সামুদ্রিক ইলিশ
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের দারুণ কদর থাকা সত্ত্বেও চড়া দামের কারণে সেখান রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরে ধরা পড়া কম দামি ইলিশ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে উল্টো আমদানি হচ্ছে দেশে। প্রতি কেজি দুই থেকে চার ডলারে এসব ইলিশ কেনা হচ্ছে।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, বেনাপোলসহ বিভিন্ন শুল্কস্টেশন দিয়ে সাদা মাছের পাশাপাশি ইলিশ লেনদেন হয়। দাম বেশি হওয়ায় দেশীয় রুপালি ইলিশের পাঠ চুকলেও ভারত থেকে রুই, কাতলা ও সামুদ্রিক ইলিশ আসছে নিয়মিত।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান উল্লেখ করেন, একসময় এখান থেকে প্রচুর ইলিশ পাড়ি দিত ভারতে। তবে ৬০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের দেশীয় ইলিশ এখন ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপরীত দিকে আন্দামান দ্বীপসংলগ্ন মহাসাগরের ইলিশ মিলছে ৪ শত থেকে ৭ শত রুপিতে। স্বাদ কিছুটা কম হলেও তাই কম মূল্যের এই ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি এই বন্দর দিয়ে ৬ হাজার কেজি ভারতীয় ইলিশ এসেছে। শুল্ক ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশ কেজিপ্রতি সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ১ কেজি ওজনের মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় পড়ছে। তবে দেশের বাজারে এ মাছ আরও চড়া দামে কেনাকাটা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মতিয়ার রহমান বিষয়টিকে তুলে ধরেন এভাবে—দেশীয় ইলিশের মূল্যবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ওপার বাংলায় বাজার হারাচ্ছে। আর ভারত মহাসাগরে প্রচুর মাছ মেলায় তারা কম খরচে রপ্তানি বাড়িয়ে ডলার আয় করছে। ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের দেশি ইলিশ বাজারে এখন ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় ঠেকেছে।
বন্দর ব্যবহারকারী সাইফুল ইসলাম আফসোসের সুরে জানান, ইলিশ এখন দেশে যেন সোনার হরিণ, যার রপ্তানি পুরোপুরি থমকে আছে।
বেনাপোল কাস্টমসের সুপারিনটেনডেন্ট আরিফুল ইসলাম জানান, সাদা মাছের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলেও ইলিশের রপ্তানি বন্ধ। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মিথ্যে ঘোষণায় আনা ১২ কার্টন ভারতীয় ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত বিকেল থেকে রাতের মধ্যে এসব চালানের খালাসপ্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন করা হয়।












