ভোমরায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের বৈচনা গ্রামে নিপা খাতুন (৩২) নামের দুই সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নিপা খাতুন চৌবাড়িয়া গ্রামের আওরঙ্গজেবের মেয়ে এবং বৈচনা গ্রামের মুজাফফর হোসেনের স্ত্রী। ১৪ বছর আগে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির ঘরে ১২ ও ৮ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবার অভিযোগ, স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও মুজাফফর পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত রবিবার (৭ জুন) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে নিপাকে মারধর করে বিষ খাইয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার ভোরে নিপাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে মারধর ও পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নিপার স্বামী মুজাফফর হোসেন বলেন, ‘আমি ছুটিতে বাড়িতে এসেছি এবং সরকারিভাবে কুয়েতে যাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু স্ত্রী আমাকে বিদেশে যেতে দিতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে আমি রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে সে আবারও ভাত খেতে বললে আমি অস্বীকৃতি জানাই। এতে অভিমান করে ভোরে কোনো একসময় সে বিষপান করে আমার পাশেই শুয়ে পড়ে। পরে বমি শুরু করলে সে নিজেই বিষপানের কথা জানায়। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।’
খবর পেয়ে সাতক্ষীরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। নারী পুলিশের সহায়তায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।
সাতক্ষীরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









