বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

মনিরামপুরে কালবৈশাখীর তান্ডব: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ব’জ্রপাতে কৃষক নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
মনিরামপুরে কালবৈশাখীর তান্ডব: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ব’জ্রপাতে কৃষক নিহত

মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা গ্রামে হানা দিয়েছে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ের তীব্রতায় গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের লাইনের একটি খুঁটি ভেঙে রেন্ট্রি গাছের উপর পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্নসহ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে পারখাজুরা গ্রামের রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফরমার রেন্ট্রি গাছের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বিদ্যুতের খুঁটিটি ভেঙে যায় এবং তার ছিঁড়ে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ঝড়ের সময় গাছের ডালপালা বসতবাড়ির ওপর পড়ায় বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ও টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ের সময় বিকট শব্দে বিদ্যুতের খুটি ভেঙে গাছের ওপর পড়ে। সৌভাগ্যবশত সে সময় রাস্তায় কোনো পথচারী না থাকায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ও লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো গ্রাম বিদ্যুৎহীন রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী দ্রুত গাছটি অপসারণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাছ অপসারণ করে লাইন মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

কালবৈশাখীর এই তান্ডবে এলাকায় গাছপালা ও ফসলেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, মনিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের মো. লুৎফর সরদার (৭২) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুরের কালবৈশাখী ঝড়ে ব’জ্রপাতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত লুৎফর সরদার শাহাপুর গ্রামের মৃত বাবর আলী সরদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে লুৎফর সরদার ও তার স্ত্রী দুজনে মিলে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটতে যান। ঘাস কাটা শেষে মাথায় করে ঘাসের বোঝা নিয়ে তারা দুজনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড় এবং ব’জ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এসময় আকস্মিক বজ্রপাতে লুৎফর সরদার ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তার স্ত্রী দ্রুত পাশের একটি বাড়িতে দ্রুত আশ্রয় নিলেও পেছনে থেকে যায় স্বামী। অল্পের জন্য স্ত্রী রক্ষা পেলেও চোখের সামনে স্বামীর এই করুণ মৃত্যুতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।

মশ্বিমনগর ইউনিয়নের শাহাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লুৎফর সরদার একজন পরিশ্রমী কৃষক ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।