মশার দাপট, ডেঙ্গু আতঙ্কে ঘুম হারাম
জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে গ্রাম থেকে শহর—সবত্রই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বর্ষার মৌসুম শুরু হতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। তবে মশা দমনে স্থানীয় প্রশাসন বা পৌরসভার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনের জমে থাকা পানি ও আবর্জনার কারণে মশার বংশবৃদ্ধি চরম আকার ধারণ করেছে। মশার কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও রেহাই মিলছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি মাসে সদর উপজেলায় দুজন এবং তালায় একজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার জন্ম হয়। এ বিষয়ে গৃহস্থালি সচেতনতার পাশাপাশি ব্যাপক প্রচার দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত তিন মাসে পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা মারতে কোনো ওষুধ ছিটানো বা ফগিং করা হয়নি। কোথাও কোথাও লোকদেখানো ওষুধ দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পৌরসভার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত কর দেওয়ার পরও পৌরসভা থেকে মশা নিধনে কার্যকর সেবা মিলছে না।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে সতর্ক ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ফগিং নয়, মশা দমনে ড্রেন পরিষ্কার ও নালা-নর্দমার জমা পানি নিষ্কাশন করা জরুরি। দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।









