মানুষ
জহুরুল হক জুলু
একদিন সন্ধ্যার শেষে
আমি দেখেছি একটি শিশু
মুঠোভরা ধুলো নিয়ে
পৃথিবীকে খেলনার মতো সাজিয়ে রাখছে।
তার চোখে কোনো বিভাজনের রেখা ছিল না,
ছিল কেবল বিস্ময়ের নীল আলো।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
তার কাঁধে তুলে দেওয়া হলো
অসংখ্য অদৃশ্য পরিচয়ের বোঝা।
সে শিখল—
মানুষের আগে আরও অনেক নাম উচ্চারণ করতে হয়।
অথচ নদী
কখনো তার দুই তীরকে শত্রু ভাবে না।
ভোরের আলোও
জানালার কপাট দেখে আলাদা হয় না।
অসুখ এলে
সব কপালেই সমান জ্বর জ্বলে;
একটি শোক নামলে
সব চোখেই একই রাত্রি নামে।
আমি বহু শ্মশান দেখেছি,
বহু কবরের নীরবতা শুনেছি;
মাটির নিচে
কেউ নিজের পরিচয় বহন করে না।
পৃথিবী শেষ পর্যন্ত
সব পদচিহ্ন একই ধুলোর কাছে ফিরিয়ে দেয়।
তবু মানুষ
নিজের চারপাশে অদৃশ্য প্রাচীর গড়তে ভালোবাসে,
যেন ভালোবাসারও
আলাদা নাগরিকত্ব আছে।
আমি বিশ্বাস করি,
একটি রুটির উষ্ণতা
সব ক্ষুধার জন্য সমান।
এক ফোঁটা অশ্রু
যে গাল বেয়ে নামে,
তার কোনো অভিধান নেই।
তাই আজও
আমি মানুষের মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকি।
যদি কোনোদিন
পরিচয়ের সব শব্দ ঝরে পড়ে,
তবে হয়তো
একটি মাত্র নামই থেকে যাবে
সেই নাম
এই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চারণ,
সবচেয়ে কোমল,
সবচেয়ে সত্য
‘মানুষ’।










