বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেভাবে চীনের কাছ থেকে অস্ত্র ও পণ্য কিনছে ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেভাবে চীনের কাছ থেকে অস্ত্র ও পণ্য কিনছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে তেল বিক্রির অর্থে চীনের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জামসহ কোটি কোটি ডলারের পণ্য কিনছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া দুটি উচ্চপদস্থ ইরানি সূত্রসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই গোপনীয় বার্টার বা পণ্য বিনিময়ের মতো এক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি তেলের বিপরীতে চীনের আমদানির জন্য ক্রেডিট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ালেও এই পদ্ধতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরানকে একটি আর্থিক জীবনরেখা জুগিয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীনও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নজরদারি বা জরিমানা থেকে নিজেদের ব্যাংক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করে কম মূল্যে ইরানি তেল সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল কেনা বা জাহাজে বহনে সহায়তাকারী কিছু ছোট চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন কঠোর পদক্ষেপ থেকে বিরত রয়েছে।

ছয় মাসের যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ আরোপের ফলে এই বিনিময় ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে তা নির্ধারণ করতে পারেনি রয়টার্স। গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহাল হওয়ার পর থেকে কোনও ইরানি ক্রুড কার্গো সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে চীনে পৌঁছাতে পারেনি।

চীন এবং ইরান অতীতেও পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে বারবার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। দীর্ঘদিনের এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কীভাবে বাণিজ্য সচল রাখছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কিছু জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান চীন থেকে ওষুধ, গাড়ি এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম কিনেছে। এসব পণ্যের প্রস্তুতকারকরা সরাসরি ইরানের সঙ্গে লেনদেন করে না এবং তারা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে- এমন কোনও ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিগত এক বছরে অন্তত একবার কোটি টাকার বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তির ক্ষেত্রেও এই মেকানিজম ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Ads small one

কলারোয়ায় ভোররাতে নারীর দুই কান কেটে দুল ছিনতাই, হাতেনাতে আটক-এক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ভোররাতে নারীর দুই কান কেটে দুল ছিনতাই, হাতেনাতে আটক-এক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ভোররাতে ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া এক নারীর দুই কান চাকু দিয়ে কেটে কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় আব্দুল গনি নামের একজনকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে উপজেলার কেঁড়াগাছী ইউনিয়নের কাকডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে ফজরের নামাজের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বাইরে বের হন ওই নারী। আগে থেকেই ওত পেতে থাকা আব্দুল গনি পেছন থেকে এসে ধারালো চাকু দিয়ে তার কানের দুটি দুল কেটে নিয়ে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই নারীর দুই কান কেটে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তপাত শুরু হয়। ভুক্তভোগী নারীর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আব্দুল গনিকে হাতেনাতে আটক করেন।

এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আটক আব্দুল গনি এলাকার একজন কুখ্যাত ও চিহ্নিত অপকর্মকারী। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, মাদক কেনাবেচা এবং বিভিন্ন অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করতে গিয়ে সে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিল। এমনকি তার বিরুদ্ধে থানায় পূর্বের অপরাধের একাধিক মামলাও রয়েছে।”

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রেখে স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অভিযুক্ত গনিকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় পরিবেশ রক্ষায় ও টিআরএম কার্যক্রমকে গতিশীল করতে যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পরিবেশ রক্ষায় ও টিআরএম কার্যক্রমকে গতিশীল করতে যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপণ

সংবাদদাতা: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় উত্তরণ এসআরবিএম প্রকল্পের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচিতে যুব পানি কমিটির সদস্যরা আম গাছ, মেহগনি, আমড়া, বকুল, রেইনট্রি ও সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি বড় আকৃতির গাছের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণের পাশাপাশি প্রতিটি গাছের সুরক্ষায় ও পরিচর্যার সুবিধার্থে ছোট ছোট সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করেই স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। রোপণ করা গাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সঠিকভাবে বাড়িয়ে তোলার দায়িত্বও নিয়েছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য ইফতি জামিল, ইমতি জামিল, লামিয়া জেরিন, মো. সাইমুন হাসনাত, মাহাবুবুর রহমান, সিয়াম হোসেন, করিমন নেছা শান্তরা, তাসনিহা জুই, মো. নাইমুর রহমান চৌধুরী, লামিয়া সুলতানা, আবু তাহের বিল্যাহ, মিলন কুমার রুদ্র, জাহাঙ্গীর আলম ও হাফিজা আফরোজ নীলা। এছাড়া অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’-এর ফিল্ড অর্গানাইজার মো. গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধি ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল বলেন, “সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। নদী ও খালের নাব্যতা হ্রাস, অতিরিক্ত পলি জমা ও অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে এখানে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে টিআরএম বা জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্তর কার্যকারী নদীভিত্তিক সমাধান। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করা হয়, যা নদীর পানি ধারণ ও নিষ্কাশন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।”

সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোকাররাম বিল্লাহ ইমন বলেন, টিআরএমের সুফল টেকসই করতে শুধু বিল ও নদী ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট নয়। নদী-খালের আশপাশে পরিকল্পিত সবুজায়ন, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা অত্যন্তর জরুরি। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম জানান, তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ ও নদী-খাল সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধিই তাদের মূল লক্ষ্য।

যুব পানি কমিটি আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের ধারাবাহিক সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকায় সবুজ পরিবেশ তৈরি হবে, তরুণ সমাজ তাদের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম ও পলি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে।

আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ গ্রেপ্তার ৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ গ্রেপ্তার ৪

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওসি জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে এসআই নিতিশ বিশ্বাস, এসআই আনজির হোসেন, এসআই আব্দুর রউফ, নাজিরসহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

অভিযানে কল্যাণপুর গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ইসলাম (৪০), বৈকারঝুটি গ্রামের মৃত ক্ষতীন্দ্রনাথ ঘোষের ছেলে সন্তোষ কুমার ঘোষ, বাউশুলি গ্রামের মৃত এনায়েত আলী সরদারের ছেলে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবুল হাশেম (কেনা) এবং শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারি গ্রামের আব্দুস সবুর গাজীর ছেলে সিআর মামলার আসামি মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এর মধ্যে মোঃ শহিদুল ইসলামকে আশাশুনি উপজেলার বুড়াখরাটি ক্লাব মোড় সংলগ্ন সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চার আসামিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আশাশুনি থানার ওসি জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে পুলিশের এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।