শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম। নদী কেবল ভূখন্ডের ওপর দিয়ে বয়ে চলা পানির ধারা নয়, বরং এটি লাখ লাখ জলজ ও স্থলজ জীবের জীবনধারণের মূল ভিত্তি। প্রকৃতির এক জটিল ভারসাম্য রক্ষাকারী ব্যবস্থা। নদী ও এর অববাহিকা হাজারো প্রজাতির মাছ, উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী এবং অগণিত জলজ উদ্ভিদের প্রধান বাসস্থান। অনেক বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির জীব কেবলমাত্র নদীর নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রেই বেঁচে থাকতে পারে।

বিশ্ব নদী দিবস প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ রবিবার বিশ্বব্যাপী পালিত একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস। নদীগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরা, পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

প্রখ্যাত কানাডীয় নদী সংরক্ষণবাদী ও পরিবেশবিদ মার্ক অ্যাঞ্জেলো এই দিবসটি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে লাইফ ফর ওয়াটার বা জীবনের জন্য পানি দশক ঘোষণা করে। সেই বছর থেকেই মার্ক অ্যাঞ্জেলোর প্রস্তাবনায় প্রথম বিশ্ব নদী দিবস পালন শুরু হয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত নদী রক্ষা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম ও অনন্য। নদী হলো পৃথিবীর রক্তনালীর মতো, যা সমগ্র স্থলভাগের প্রাণশক্তিকে টিকিয়ে রাখে। নদী বিভিন্ন অঞ্চলের বনাঞ্চল, জলাভূমি ও মহাসমুদ্রের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সংযোগ সেতু বা করিডোর হিসেবে কাজ করে। নদী উজান থেকে পুষ্টি উপাদান ও পলি বহন করে ভাটির প্লাবনভূমি ও মোহনায় নিয়ে যায়, যা মাটিকে উর্বর করে এবং জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অনেক মাছ ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে নদীতে বা নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মাইগ্রেশন বা পরিযায়ন করে। নদী সচল না থাকলে এই বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

নদীর বাস্তুতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশাল খাদ্যকৃঙ্খল গড়ে ওঠে। নদীর ফাইটোপ্লাংকটন ও জুপ্লাংকটনকে খেয়ে ছোট মাছ বাঁচে, ছোট মাছ খেয়ে বড় মাছ এবং বড় মাছ খেয়ে পাখি, ডলফিন বা মানুষ জীবনধারণ করে। নদী দূষিত বা শুকিয়ে গেলে এই পুরো কৃঙ্খলটি ভেঙে পড়ে। প্রাকৃতিক ফিল্টার এবং ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জনদী ও এর চারপাশের জলাভূমি প্রাকৃতিকভাবে পানিকে ফিল্টার বা পরিশোধন করে। এছাড়া নদীর পানি চুইয়ে মাটির নিচে জমা হয়, যা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে আশেপাশের অঞ্চলের স্থলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীরাও পানির সংকট থেকে রক্ষা পায়।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও তাপমাত্রা হ্রাসনদী আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় জলবায়ু স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এটি চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমায়, যা ওই অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

নদীর স্্েরাত প্রতিনিয়ত উর্বর পলি এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে নিয়ে যায়। এটি জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে এবং মাছের খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। বহু পরিযায়ী পাখি এবং বন্য প্রাণী নদীর ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। নদী বিভিন্ন বনাঞ্চল ও জলাভূমিকে বাঁচিয়ে রেখে সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। নদী ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতে এবং স্থানীয় জলবায়ু শীতল ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

বর্তমানে মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে নদীর বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক হুমকির মুখে। শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করার ফলে জলজ প্রাণীদের যাতায়াত এবং বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

নদীর স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে মিঠা পানির পুরো বাস্তুতন্ত্র ধসে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রকৃতির ভারসাম্যের ওপর। তাই নদী রক্ষা করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত।

মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নদী মাছ, উভচর প্রাণী, জলজ উদ্ভিদ এবং অণুজীবের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে নদীর ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম।
নদী দূষণ বা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পুরো মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়ে। নদী যদি তার স্বাভাবিক গতি ও পরিচ্ছন্নতা হারায়, তবে পুরো মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে এবং বিলুপ্ত হবে বহু অমূল্য জীববৈচিত্র্য।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় চারটি কাঁচা ঘর লন্ডভন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় চারটি কাঁচা ঘর লন্ডভন্ড

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে আকস্মিক টর্নেডো ঝড়ে চারটি কাঁচা বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উত্তর বাইনতলা গ্রামে প্রবল বাতাসের সঙ্গে আকস্মিক এ ঝড়ের ঘটনা ঘটে। এতে চারটি বসতঘর, ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে হঠাৎ প্রচন্ড বেগে বাতাস শুরু হয়। একপর্যায়ে টর্নেডোর মতো ঝড়ে উত্তর বাইনতলা গ্রামের মৃত রহিম মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা, আইয়ুব আলী মোল্যা, সাহেব আলী মোল্যা ও তার ছেলে নয়ন মোল্যার মোট চারটি কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের তান্ডবে ঘরের এলবেস্টারের ছাউনি ও বেড়া উড়ে যায়। একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে বড়দল ইউনিয়নের জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরে আব্দুল গফুর সানা ও শরিফুল ইসলাম শরীফ নিজস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তারা।

এদিকে, টর্নেডো ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি জানতে লোক পাঠিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

কৃতী ভলিবল খেলোয়াড় মোসলেম গাজীর মৃত্যুতে সাজেক্রীস এর শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
কৃতী ভলিবল খেলোয়াড় মোসলেম গাজীর মৃত্যুতে সাজেক্রীস এর শোক

সাতক্ষীরা জেলা দলের প্রাক্তন কৃতী ভলিবল খেলোয়াড় মোসলেম গাজী আজ (শনিবার) সকাল আনুমানিক ৫টার দিকে সাতক্ষীরার কুখরালীস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও কোচদের পক্ষ থেকে সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ আবু জাহিদ ডাবলু মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদে ডেঙ্গু প্রতিরোধ পরিছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদে ডেঙ্গু প্রতিরোধ পরিছন্নতা অভিযান

দীপঙ্কর বিশ্বাস/কে এম রেজাউল করিম: সারা দেশের ন্যায় দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডেঙ্গু প্রতিরোধ পরিছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিভিন্ন আঙ্গিনা ও ড্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ডা: আশফাকুজ্জামান, ডা: আরিফ বিল্লাহ, ডা: অনন্যা রানী, ডা: নাহিদা আক্তার হিরা, ক্যাশিয়ার বাবুর আলি, পরিসংখ্যানবিদ মামুন আর রশিদ, মিড ওয়াইফ রানী খাতুন, এস এস এন চম্মা মিস্ত্রি, অফিস সহায়ক নয়ন কুমার দাশ।

এদিকে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।
অভিযানে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী ইউপি গ্রাম পুলিশ সদস্যারা উপস্থিত থেকে কার্যক্রমে অংশ নেন।