বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তমত/ জুয়া কি এক অনিরাময়যোগ্য মায়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
মুক্তমত/ জুয়া কি এক অনিরাময়যোগ্য মায়া

সুজন হোসেন

খেলাধুলা মনকে সতেজ এবং প্রফুল্ল করে। খেলাধুলা করলে দেহ মন ভালো থাকে। তবে সে খেলা যদি হয় জীবনকে নিয়ে খেলা, সেটা কখনই ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না। তখন সেটা মানুষের কাছে অত্যাধিক প্রশান্তির হলেও তা হয়ে যায় মরণব্যাধির মতো। তেমনই এক ভয়ঙ্কর ব্যাধির কথা বলছিলাম যেটা হচ্ছে অনলাইন জুয়া। মস্তিষ্ক নিয়ে যে কয়টা জিনিস খেলতে পারে তার মধ্যে অন্যতম জুয়া। জুয়ার ধর্মই সুখের সংসার ভেঙে তৈরি করা হাহাকারে ভরা সমাজ।

মানুষ বর্তমানে এতই আসক্ত হয়েছে যে, ইসলাম ধর্মের মানুষ ভালো করেই জানে জুয়া হারাম, তবে তারা ভুলে গেছে এ কথা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি পূজা ও ভাগ্য নির্ধারণের তীর-এসব শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, এগুলো থেকে বিরত থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।” (সূরা আল-মায়েদা: ৯০) স্পষ্টত জুয়া হারাম, তবে কে মানে সে কথা? নিজের ভাগ্য তো পরিবর্তন করতে চাই সকলেই! তাইতো নামাজ পড়েও অনেকে জুয়া খেলতে শুরু করে। মূল্যবোধের অবক্ষয় চরম পর্যায়ে।

একজন ব্যক্তি যখন জুয়া খেলে, সে প্রতি বারে টাকা জমা দেয় আল্লাহর নামে। আবার যখন গেম খেলে তখনও তার মুখে থাকে আল্লাহর নাম। সে খেলার মাঝে মাঝে বলে, আল্লাহ দয়া করো আমার উপর, এই একটা বার আমাকে দাও ইত্যাদি ইত্যাদি। জুয়া যে সৃষ্টিকর্তা হারাম করেছে, তার কাছেই অনুগ্রহ প্রার্থনা করে এই সমস্ত জুয়ারিরা।

ক্যান্সার অপেক্ষা জুয়ায় আসক্ত হওয়া বেশি ভয়ংকর। যেখানে ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে, সেখানে জুয়ায় আসক্ত হওয়া মানে নিজেকে জীবিত রেখে আত্মহত্যা করা। নিজেকে দেউলিয়া করা ছাড়া কিছুই না। কতো সুন্দর সংসার ভাঙতে দেখেছি, কতো স্বামী-স্ত্রীর তালাক দেখেছি, আরও দেখেছি কতো মহাপাপ আত্মহত্যা। ফুলের মতো একটা সংসার নিমিষেই শেষ করার জন্য আসক্তিই যথেষ্ট। অথবা গৃহস্থের সকল সুখ কাড়তে সক্ষম, দোকানির সমৃদ্ধ ব্যবসাও শেষ করতে পারে মুহূর্তেই।

সাতক্ষীরা জেলার প্রত্যন্ত এক গ্রাম ভাদড়া; মানুষ জুয়ায় এতটাই আসক্ত যে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা হারছে এখানকার মানুষজন। তাতে তাদের বিন্দুপরিমান অনুশোচনা নেই, না আছে বিবেকের দংশন। একজন অন্যজনকে জুয়ার প্রলোভন দেখাতে ব্যস্ত। নিজে কতো টাকা পেয়েছে সেটা সবাইকে উচ্চস্বরে বলে, তবে যে অর্থ হারিয়েছে জুয়ার পিছনে তার হিসেব সে নিজেও রাখে না, লোককেও বলেনা। যেখানেই দেখি সেখানেই অনলাইন জুয়ার আসর বসে। মানুষ এত অর্থ নষ্ট করার পরও জুয়া ছাড়তে পারছে না। অথবা ছাড়ার চেষ্টাও করছে না।

যখনই মানুষের বিবেক আর ঠিকঠাক কাজ করে না, অন্যায়কে অন্যায় মনে করে না, তখনই প্রয়োগ করতে হয় আইন। ভালো মানুষের জন্য নিশ্চিত আইন না? জেল জরিমানা না? আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষের খুব দ্রুত অনলাইন জুয়া নিয়ে একটা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। এখনো পানি গলার নিচেই আছে, এখনো বেশি কিছু হয়নি। কর্তৃপক্ষ চাইলেই এর একটা সুরাহা হতে পারে। পরবর্তী প্রজন্ম একটা সুস্থ সমাজ পেতে পারে।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২০ অনুযায়ী অনলাইন জুয়া খেলা, জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি ও প্রচারণা চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য ২ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দন্ড প্রযোজ্য। আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগই পারে এই ক্যান্সার ব্যাধি প্রতিরোধ করতে। নতুবা আমরা আমাদের জনগণের জীবন তিলে তিলে শেষ হওয়া দেখবো, তখন কিছুই করতে পারব না।

লেখক: সুজন হোসেন, ইংরেজি বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

Ads small one

সাতক্ষীরায় গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতাল সাতক্ষীরার উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশরালের সহযোগিতায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতাল সাতক্ষীরার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোর্ত্তজা আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল (টিটো)।

আলোচনা সভায় বক্তারা চোখের সঠিক যতœ, নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং দৃষ্টিজনিত নানা সমস্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতাল সাতক্ষীরার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জিএম আজহারুল ইসলাম, ডা. ফাতেমা তুস জোহরা, ডা. মনিরুজ্জামান ও ডা. অতীশ কুমার বাছারসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কেশবপুর এমএম গোবিন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুর এমএম গোবিন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের মেহেরপুর, মির্জাপুর ও গোবিন্দপুর (এম এম) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম এম ইলিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান শিক্ষক বাবলুজ্জামানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমি সুপারভাইজার তোরাবুল ইসলাম, সাংবাদিক এম এ রহমান, আক্তার হোসেন, চিংড়া বাজার ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ শামিম হোসাইন এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান।
শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিদ্যালয়ের জমিদাতা সৈয়দ জাফর হাসান লাভলু, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও যুবনেতা শাহিনুর রহমান শাহীন উপস্থিত ছিলেন। তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কেশবপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
কেশবপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে হাজী আব্দুল মোতালেব মহিলা ডিগ্রি কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কলেজের দাতা সদস্য আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল হোসেন আজাদ বলেন, “তোমরা যারা নতুন ভর্তি হয়েছ, তোমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হতে হলে এখন থেকেই পড়াশোনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত ক্লাসে আসতে হবে এবং শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে পরিবার ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দত্ত এবং শিক্ষার্থী ইরিন জামান ও সুমী খাতুন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াত করেন মনিরা হারুন মীম এবং গীতা পাঠ করেন সৌমিতা চক্রবর্তী মৌমিতা। পরে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং কলেজের চারজন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।