শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তমত/ দলের ঊর্ধ্বে দেশ: পদ নয় অপরাধের লাইসেন্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
মুক্তমত/ দলের ঊর্ধ্বে দেশ: পদ নয় অপরাধের লাইসেন্স

এম.এম হায়দার আলী

রাজনীতিতে ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা যায়। পদ আসে, পদও একদিন চলে যায়। কিন্তু মানুষের কাছে একটি রাজনৈতিক দলের যে দায়, তার মেয়াদ কোনো নির্বাচনী সময় সূচিতে বাঁধা নয়। সেই দায়ের নাম জবাবদিহি। আর সেই জবাবদিহি যখন নিজের দলের মানুষটির ক্ষেত্রেও সমান ভাবে কার্যকর হয়, তখন রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটি কিছুটা হলেও শক্ত হয়।

 

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত তদন্তও চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং গত ১ অক্টোবর তার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা সামনে এনেছে।

 

বার্তাটি হলো, দলের পরিচয় কারও জন্য দায়মুক্তির ঢাল হতে পারে না। এখানেই রাজনীতির আসল পরীক্ষা। কারণ নিজের দলের মানুষকে শাসন করা সহজ নয়। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক সুবিধা থাকে, কিন্তু নিজের দলের জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মানে নিজের ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে নিজের ঘরকেই প্রশ্ন করা। সেই জায়গায় নেতৃত্বের দৃঢ়তা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও একটি পরীক্ষা। রাড্ডার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিষয়টিই সামনে আসেনি।

 

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের কথাও এসেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইন। কিন্তু সাংগঠনিক পর্যায়ে যে বার্তা সামনে এসেছে, সেটি স্পষ্ট, পদ-পদবি মানেই অপরাধের লাইসেন্স নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই বার্তাটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে মানুষের দূরত্ব তৈরি হয় তখনই, যখন দলের নাম ব্যবহার করে কেউ সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।

 

চাঁদাবাজি, দখল, ভয়ভীতি, নৈরাজ্য কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যখন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে চাপা পড়ে যায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একজন ব্যক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি। একজন কর্মীর অন্যায়ের দায় অবশ্যই পুরো দলের ওপর চাপানো যায় না। কিন্তু দলের নাম, পদ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে দল যদি দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যায়, অন্যায় করলে পরিচয় রক্ষা করবে না। এখানে আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা জরুরি। অভিযোগ উঠলেই কেউ অপরাধী হয়ে যান না।

 

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণা কিংবা সংবাদে প্রকাশিত কোনো তথ্য, কোনোটিই আদালতের রায়ের বিকল্প নয়। তদন্তের নিরপেক্ষতা, প্রমাণের মূল্য এবং আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই শেষ কথা। কিন্তু একই সঙ্গে অভিযোগ উঠলে তদন্ত না করে বসে থাকাও সমাধান নয়। অভিযোগের তদন্ত হবে, সত্য-মিথ্যা যাচাই হবে, প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা হবে, এই তিনটি ধাপই একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। আজ দেশের মানুষ রাজনীতির কাছে শুধু বড় বড় প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা দেখতে চায় বাস্তব আচরণ। তারা দেখতে চায়, ক্ষমতায় থাকা মানুষটির জন্য যে আইন, সাধারণ মানুষের জন্যও সেই আইন। তারা দেখতে চায়, দলের পতাকা কারও অন্যায়ের আড়াল নয়। রাজনীতির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই, ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না; মানুষের প্রতি দায়িত্বই একজন রাজনীতিককে বড় করে।

 

যে নেতা নিজের দলের অন্যায়কে অন্যায় বলতে পারেন, তার কাছেই সাধারণ মানুষ জবাবদিহির আশা করতে পারে। আর যে সংগঠন নিজের ঘরের অনিয়মকে আড়াল না করে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি করে, সেই সংগঠনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়। আজ যদি দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো সাধারণ মানুষের জমি দখল করে, কাল কেউ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে, অন্য কেউ ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সরকারি সম্পদে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারণ রাজনৈতিক দল জনগণের জন্য, জনগণ কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

 

ক্ষমতার রাজনীতিতে সবচেয়ে ভয়ংকর শব্দ ছাড়। একবার ছাড় দেওয়া হলে দ্বিতীয়বার অন্যায় করার সাহস বাড়ে। তৃতীয়বার সেটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। আর এক সময় মানুষ ধরে নেয়, রাজনীতির ছায়ায় থাকলে আইনকে পাশ কাটানো যায়। এই ধারণাটিই ভাঙতে হবে। প্রয়োজনে নিজের দলের এমপি, চেয়ারম্যান, নেতা কিংবা কর্মী, যেই হোক, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হতে হবে। সত্য প্রমাণিত হলে আইন ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকেও সম্মানের সঙ্গে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এটাই ন্যায়বিচারের সৌন্দর্য। একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি শুধু তার জনসমর্থনে নয়; তার আত্মশুদ্ধির ক্ষমতার মধ্যেও। ভুল হলে ভুল স্বীকার করা, অন্যায় হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিজের মানুষকেও জবাবদিহির আওতায় আনা, এসবই রাজনৈতিক পরিপক্বতার লক্ষণ।

 

আজ দেশের মানুষ এমন রাজনীতি দেখতে চায়, যেখানে দল ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, মানুষের সেবার প্রতিষ্ঠান; যেখানে পদ মর্যাদার অলংকার নয়, দায়িত্বের প্রতীক; যেখানে দলীয় পরিচয় নিরাপত্তার দেয়াল নয়, বরং আরও বড় জবাবদিহির কারণ। তারেক রহমানের নির্দেশে একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ এবং রাড্ডার ঘটনাকে ঘিরে সাংগঠনিক ব্যবস্থাগুলো সেই বৃহত্তর আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের আইনগত ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন অবশ্যই সময় ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। তবে নীতিগত ভাবে একটি কথা পরিষ্কার, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের ওপরে কোনো দল, কোনো পদ, কোনো ব্যক্তি থাকতে পারে না। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার চেয়ারটি কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

 

আজ যে চেয়ারকে ঘিরে এত আলো, কাল সেখানে অন্য কেউ বসবেন। কিন্তু মানুষের মনে একজন রাজনীতিকের যে পরিচয়টি থেকে যায়, তা হলো, তিনি ক্ষমতার সময়ে কেমন আচরণ করেছিলেন। তাই সময়ের দাবি একটাই, দলের আগে দেশ, পদের আগে দায়িত্ব, পরিচয়ের আগে আইন। রাজনীতির এই তিনটি শব্দ যদি বাস্তবে প্রতিষ্ঠা পায়, তবে ক্ষমতার চেহারা বদলাবে না শুধু, বদলাবে মানুষের রাজনীতির প্রতি আস্থার ভাষাটাও। সর্বোপরি, প্রধানমন্ত্রীর এমন মহতী ও জনকল্যাণ মুখী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। মানুষের কল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। রাষ্ট্রের নেতৃত্ব যখন মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তখন তা শুধু একটি সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা হয়ে ওঠে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এমন জনবান্ধব উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা

অভিনয়ের পাশাপাশি একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। দীর্ঘ দুই দশক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে কাজ করার পর এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে পেশাগত জীবনের এই সুখবরের কথা জানিয়েছেন তিনি।

পোস্টে মিথিলা বলেন, ‘আমার পেশাগত জীবনে এক নতুন অধ্যায়ে পা দিচ্ছি। ব্র্যাকের সাথে দুই দশকের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর—যার মধ্যে ১৫ বছরই কেটেছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের হয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে—এবার একটা নতুন প্রফেশনাল জার্নি শুরু করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট বা সহযোগী ‘গবেষণা বিজ্ঞানী’ হিসেবে জয়েন করছি আজ (১ অক্টোবর) থেকে।’

এই গবেষণায় মিথিলা কী কাজ করবেন পোস্টে সেটিও জানান। তার ভাষ্য, ‘এখানে আমার কাজ হবে নিউইয়র্ক এ অবস্থিত ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রজেক্টের ডিজাইন এবং মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেওয়া। এই উদ্যোগটি, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে; যেখানে একদম ছোট বাচ্চাদের (জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স) পরিবারগুলোকে তাদের বেড়ে ওঠার জন্য দরকারি সব সুযোগ-সুবিধা আর পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।’

অভিনেত্রী পোস্টে লেখেন, ‘স্থানীয় মানুষের চাহিদার সাথে গবেষণার লক্ষ্যগুলোর মেলবন্ধন ঘটাতে এবং ডেটা ও প্রমাণ তৈরির মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে আমার গ্লোবাল এক্সপেরিয়েন্সকে কলাম্বিয়ায় কাজে লাগাতে পারবো বলে আশা করছি।’

গবেষণার পাশাপাশি সেখানে শিক্ষকতাও করবেন জানিয়ে মিথিলা বলেন, ‘আমি সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক-এ ‘অ্যাডজাংন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেছি। আমি সেখানে ‘ননপ্রফিট ম্যানেজমেন্ট’ পড়াচ্ছি, যেখানে আমি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জগতের ননপ্রফিট সংস্থাগুলোর কাজের ধারণার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।’

জন্মদিনে জেমস: জীবনকে জটিলভাবে ভাবার দরকার নেইজন্মদিনে জেমস: জীবনকে জটিলভাবে ভাবার দরকার নেই
দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিথিলা বলেন, ‘আমার এই প্রফেশনাল জার্নির জন্য আমি ব্র্যাকের কাছে মনেপ্রাণে কৃতজ্ঞ। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা রিসার্চ ইনফাস্ট্রাকচার ও মেধাবী গবেষকদের টিমের সাথে কাজ করতে পারা আশা করি আমার কর্ম অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

ভারতে সৈকতে ডুবে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ভারতে সৈকতে ডুবে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ভারতের মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দিবেগার সমুদ্রসৈকতে সাগরে ডুবে পুণের আট শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবার বয়স ১৬ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, সাগর থেকে আট জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

নিহতরা পুণে জেলার আলান্দির একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টার উইনার্স অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থী ছিলেন। ভ্রমণের জন্য তারা প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে দিবেগারে গিয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ২৫ ছেলে, ১৭ মেয়ে ও ছয় শিক্ষকসহ মোট ৪৮ জনের একটি দল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সমুদ্রসৈকতে পিকনিকে যায়। একপর্যায়ে আট শিক্ষার্থী সাগরে নামেন। পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা বুঝতে না পারায় তারা স্রোতে ভেসে যান।

খবর পেয়ে দিবেগারে ভাউ মারুতি সালুনখে মহাকালী ওয়াটার স্পোর্টস-এর মালিক ভাউ সালুনখে ও তার দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ওয়াটার স্পোর্টস দলের সদস্যরা সাগর থেকে আট শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দিঘি সাগরি বোরলি পঞ্চতান থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ আওয়াতি একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পুলিশ মরদেহগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহগুলো বোরলি পঞ্চতানের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়।

নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, তন্ময় দত্তাত্রেয় ভাহিলে, সুমিত ভারত আহিরে, প্রণব রামদাস বানসোদে, কৈবল্য সতীশ ওয়াসানকার, রাজবীর যুবরাজ ভাহিলে, যশ কিরণ ওয়াংখেড়ে, সোহম তুকারাম ভান্ধওয়ালকর এবং কৌস্তুভ সন্দীপ দৌন্ড।

ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিস এক্সে দেওয়া পোস্টে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের মরদেহ আলান্দিতে ফিরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসন সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী গিরিশ মহাজন এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কোচিং অ্যাকাডেমিকে এ ঘটনার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্কুলের শিক্ষা সফরের জন্য রাজ্য সরকার শিগগিরই নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করবে বলেও জানান তিনি।

পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে ড্রোন হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের মদিনা শহরের একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে চলতি সপ্তাহের ড্রোন হামলার জন্য হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ করা হয়। তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে (০২১১ জিএমটি) তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ স্টেশনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

অপারেশনাল পর্যালোচনা এবং ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এই পরিকল্পনা ও হামলার পেছনে হুথিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে আল-মালিকি একে একটি ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যায়িত করেন।

তিনি জানান, হামলায় একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ গ্রিডে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। এই সুবিধাটি মদিনার মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।

আল-মালিকি হুথিদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা এবং পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীকে লক্ষ্য করে মুসলমানদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, হুথিদের আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং দুই পবিত্র মসজিদ ও মক্কা-মদিনার আগত দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় জোট তাদের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে এই হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে হুথিরা। হুথি নিয়ন্ত্রিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সামরিক সূত্র সাবা নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে, মদিনার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ওই গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছে বলে সৌদি আরবের করা অভিযোগটি ‘ভিত্তিহীন’।

এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে হুথিদের একটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করার দাবি করেছিল সৌদি আরব, যা নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়। তবে এই অভিযোগও অস্বীকার করেছিল গোষ্ঠীটি। যদিও এর আগে সৌদি আরামকো ফ্যাসিলিটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক কিছু হামলার দায় স্বীকার করেছে এই হুথি বিদ্রোহীরা।