শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তমত: সাতক্ষীরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট: উত্তরণের পথ ও নাগরিক ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: সাতক্ষীরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট: উত্তরণের পথ ও নাগরিক ভাবনা

মো. মাসুদ রানা

সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছেÑতা হলো ‘কিশোর গ্যাং’-এর অপতৎপরতা। জেলার পৌর এলাকা (যেমন: সুলতানপুর, ইটাগাছা, কাটিয়া, কদমতলা) এবং বিভিন্ন উপজেলা সদরগুলোতে এদের উপস্থিতি ও অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মূলত ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর ও যুবকেরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে স্থানীয় সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, তুচ্ছ ঘটনায় দল বেঁধে মারামারি, পাড়া-মহল্লার দোকানে চাঁদাবাজি, মোটরসাইকেলে বেপরোয়া মহড়া এবং মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে এরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ, টিকটক কিংবা রিলস ব্যবহার করে নিজেদের গ্যাং কালচার বা দলগত পরিচিতি তৈরি ও আধিপত্য বিস্তারের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।

সাতক্ষীরায় এই গ্যাং কালচার ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বেশ কয়েকটি স্পষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায়:
পারিবারিক সচেতনতার অভাব: সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছেÑএ বিষয়ে অভিভাবকদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব রয়েছে।

মাদক ও প্রযুক্তির অপব্যবহার: সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় সাতক্ষীরায় মাদকের সহজলভ্যতা একটি বড় ফ্যাক্টর। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধভিত্তিক কনটেন্টের অপব্যবহার।

রাজনৈতিক ও স্থানীয় আশ্রয়ের ছত্রচ্ছায়া: স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও তথাকথিত ‘বড় ভাই’ নিজেদের স্বার্থে এই উদীয়মান তরুণদের ব্যবহার করছেন ও অপরাধ শেষে সুরক্ষা দিচ্ছেন।
বিনোদনের সুযোগের ঘাটতি: সুস্থ সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব এবং পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে কেবল দমনপীড়ন বা আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বহুমুখী পরিকল্পনা।

১. প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা:
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকা, পার্ক ও নির্জন স্থানগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কিশোরদের মোড়ে মোড়ে আড্ডা দেওয়া বন্ধে আইনি তদারকি প্রয়োজন। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ কর্তৃক এলাকার চিহ্নিত গ্যাংগুলোর ডেটাবেস বা তালিকা তৈরি করা এবং এদের পেছনের নেতৃত্বদাতাদের (তথাকথিত ‘বড় ভাই’) চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদকের রুট বন্ধ করতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে কঠোর অভিযান জোরদার করা জরুরি।

২. পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ:
সন্তান রাতে কখন বাড়ি ফিরছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং অতিরিক্ত অর্থের ব্যবহার করছে কি নাÑতা নিয়মিত তদারকি করা পরিবারের মূল দায়িত্ব। সন্তানকে প্রযুক্তিভিত্তিক ভার্চ্যুয়াল জগত থেকে বের করে পরিবারে গুণগত সময় দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত কিশোর অপরাধ ও মাদকের কুফল সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন করা উচিত। সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম, জেলা পরিষদ মাঠসহ স্থানীয় খেলার মাঠগুলোকে খেলাধুলার উপযোগী রাখা এবং কিশোরদের জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও স্কাউটিংয়ের মতো সুস্থ ধারার কর্মকা-ে যুক্ত করা প্রয়োজন।

৪. সংশোধনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি:
লঘু বা প্রথমবার অপরাধে জড়িতদের সরাসরি অপরাধী হিসেবে না দেখে প্রবেশন এবং মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর পথ সুগম করা প্রয়োজন।
কিশোর গ্যাং কোনো স্থায়ী বা দূরারোগ্য সমস্যা নয়; এটি মূলত সামাজিক অসচেতনতা ও দিকনির্দেশনাহীনতার ফল। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের ঐক্যবদ্ধ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপই পারে আমাদের তরুণদের সুপথে ফিরিয়ে এনে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় সাতক্ষীরা উপহার দিতে। লেখক: মো. মাসুদ রানা, এমএসসি (পদার্থবিজ্ঞান), সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

Ads small one

খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি হ্যাচারি মালিকদের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি হ্যাচারি মালিকদের মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে শ্রিম্প হ্যাচারি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব)-এর খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ অক্টোবর দুপুরে সংগঠনের সভাপতি আলহাজ ডা. আবুল কালাম বাবলার সভাপতিত্বে এ সভা হয়।

সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক দিক ও চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন বিভিন্ন হ্যাচারির প্রতিনিধি শহীদ ফারুক সাচী, রুহুল আমিন লেনিন, আবদুল্লাহ আল-মাসুম, মোতালেব হোসেন, মাহফুজ ইকবাল, মো. নজরুল ইসলাম, কাজী আমিনুল ইসলাম বাহার, শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, জসীম, শামীম, বাবন কান্তি দে, জাকির হোসেন, মাহবুবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম ও আনারুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম হাতিয়ার চিংড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হ্যাচারির ওপর আরোপিত কর কমাতে হবে। সমুদ্রসীমা থেকে লবণাক্ত পানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ট্যাক্স ৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ পয়সা করা হয়েছে, যা হ্যাচারিমালিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এর ফলে প্রতি মাসে কেবল পানি আনতেই বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

হ্যাচারিমালিকেরা মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বনবিভাগের কাছে অবিলম্বে এই বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পের মতো এই খাতে বিদ্যুৎ বিলে অন্তত ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া এবং সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ধুলিহরে নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ সূচনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ধুলিহরে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে শুরু হয়েছে নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট। ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় খড়িয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

খড়িয়াডাঙ্গা যুবসমাজের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৮ নম্বর ধূলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন মিঠু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা চাঁদপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু ওহিদ বাবলু, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রিপন হোসেন ও ফিংড়ী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. নাজমুল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, ‘তরুণদের মাদকমুক্ত রাখা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য স্বাভাবিক রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ধরনের নিয়মিত আয়োজন স্থানীয় ফুটবলার গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।’ অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন এবং বল গড়িয়ে টুর্নামেন্টের সূচনা করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক ক্রীড়ামোদী দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির নব-নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির নব-নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের নব-নির্বাচিত কমিটির-এ ২০২৬ এর পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহর কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রওশন আলীর সভাপতিত্বে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাছিম ফারুক খান মিঠু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ত্রিবার্ষিক নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিক রুহুল কুদ্দুস ও সাতক্ষীরা মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মুকুল প্রমূখ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুলতানপুর বড়বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, মিহির সাহা, কদমতলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আইয়ুব আলী, সুলতানপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. অলিউর রহমান প্রমুখ।
সাতক্ষীরার কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মো. রওশন আলী, সহ-সভাপতি মো. ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. কবিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান, দপ্তর সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু সাঈদ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আনারুল ইসলাম, কার্যকরী সদস্য মো. রায়হান গাজী, মো. শহিদুল ইসলাম ও মো. খাইরুল ইসলাম প্রমূখ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা শহর কাঁচা ও পাকামাল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মো. ফজলুর রহমান।