সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুক্তমত: সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্রে জনদুর্ভোগের মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্রে জনদুর্ভোগের মহোৎসব

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
সাতক্ষীরা শহরের পিএন হাইস্কুল মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার হয়ে পালপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কটি যেন এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। উন্নয়ন কাজের ধীরগতি, দখলদারিত্ব, আর বাজারের চরম অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শহরবাসী। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে একদিকে যেমন ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনা চলছে, অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।
১. পিএন স্কুল মোড়: উন্নয়নের নামে ভোগান্তি :
দীর্ঘদিন আগে টেন্ডার হলেও পিএন হাইস্কুল মোড় থেকে পালপাড়া মোড় পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই রাস্তার কাজ থমকে আছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার একপাশে কেবল ইটের গাঁথুনি দিয়ে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন প্রধান এই সড়কটি খুঁড়ে রাখায় দিনরাত তীব্র যানজট লেগেই থাকছে।
রহস্যময় ঠিকাদার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই কাজের ঠিকাদারের নাম বা মোবাইল নম্বর স্থানীয়দের কাছে তো দূরের কথা, সংশ্লিষ্ট অনেক দপ্তরেও মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন এই লুকোচুরি এবং কার ছত্রছায়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
২. পাকাপোল থেকে বড় বাজার: ফুটপাতহীন রাস্তায় দখলের রাজত্ব পাকাপোলের মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার (কেষ্ট ময়রার মোড়) পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা অবর্ণনীয়।
অস্তিত্বহীন ফুটপাত: রাস্তার দুই পাশে কোনো ফুটপাত নেই। তদুপরি সরু রাস্তার সিংহভাগ দখল করে রেখেছেন হকার ও দোকানিরা।
বেহাল দশা: রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যত্রতত্র ভ্যান ও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ফলে পথচারীদের রীতিমতো ‘লড়াই’ করে চলাচল করতে হয়।
কাঁচাবাজারের দখল: বাজারের ভেতর মূল রাস্তা জুড়ে বসেছে অস্থায়ী কাঁচাবাজার, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিয়েছে।
৩. বাজার সিন্ডিকেট: ওজনে কম ও পচা মাংসের কারবার
সুলতানপুর বড় বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগের শেষ নেই। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:
ওজনে কারচুপি: বিশেষ করে মুরগি, গরু ও ছাগলের মাংস এবং মাছ কেনার সময় ডিজিটাল বা সনাতন পাল্লায় কৌশলে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে।
পচা-বাসি মাংস: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা গবাদি পশুর পাশাপাশি অনেক দোকানে আগের দিনের বাসি ও পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবেশ দূষণ: বাজারের মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হওয়ায় পচা পানির দুর্গন্ধ ও ময়লার স্তূপের পাশ দিয়েই ক্রেতাদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।
৪. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও স্বল্প আয়ের মানুষের হাহাকার
সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস—সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। স্বল্প আয়ের মানুষরা বাজারে এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। অনেকেই তালিকা কাটছাঁট করে ব্যাগের এক কোণে সামান্য বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বাজার মনিটরিং কমিটির কোনো তৎপরতা এখানে দৃশ্যমান নয়।
নাগরিক দাবি ও উপসংহার
সাতক্ষীরার এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
জবাবদিহিতা: পিএন স্কুল মোড়ের কাজের বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
উচ্ছেদ অভিযান: রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ দখলদার ও যত্রতত্র পার্কিং উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বাজার তদারকি: ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওজনে কারচুপি ও পচা মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত ময়লা অপসারণ ও বাজার পরিষ্কার রাখা।
সাতক্ষীরা শহরের এই নাভিশ্বাস ওঠা জনজীবন স্বাভাবিক করতে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Ads small one

গাবুরা-বুড়িগোয়ালিনী সংযোগ খেয়াঘাট ভাঙনের মুখে, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
গাবুরা-বুড়িগোয়ালিনী সংযোগ খেয়াঘাট ভাঙনের মুখে, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ডুমুরিয়া খেয়াঘাট বর্তমানে ভাঙনের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘাটের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, ২০০৯ সালে বুড়িগোয়ালিনী অংশের খেয়াঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

 

দীর্ঘদিন পার হলেও সেই ঘাটটি এখনো স্থায়ীভাবে পুননির্মাণ করা হয়নি। ফলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে ডুমুরিয়া ঘাটেও একই ধরনের ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, “ডুমুরিয়া খেয়াঘাটটি গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৯ সালে বুড়িগোয়ালিনী পাশের ঘাট ভেঙে যাওয়ার পরও সেটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এখন ডুমুরিয়া ঘাটটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।” স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইমাম হোসেন বলেন, “প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। ভাঙনের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সংস্কার ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এলাকাবাসীর দাবি, ঘাটটি দ্রুত সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

 

শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা” প্রতিপাদ্য বিশেষ সামনে রেখে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮ জুন সকাল ১০ টা থেকে দিনব্যাপী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষসহ সকল প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ প্রসাদ দেবনাথ।
বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সিএরআরএন-বিফোআরএল প্রকল্পের সরোয়ার হোসেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ আন্দোলনের সহায়ক হিসেবে ১৩ জন ছাত্রী ও ১২ জন ছাত্রের সমন্বয়ে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিবেশ ক্লাব গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীরা দলভিত্তিকভাবে বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা এবং লবণাক্ত মাটিতে এসব গাছের অভিযোজন কৌশল নিয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনা করে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। রোপিত গাছ ও বিদ্যালয়ের নার্সারির নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব পরিবেশ ক্লাবের সদস্যদের প্রদান করা হয়।

 

 

 

তালায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল প্রশিক্ষণ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
তালায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল প্রশিক্ষণ শুরু

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফট স্কিল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ও অর্থায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের “বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ)” প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক রতন কুমার হালদার।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাহাত খান।

প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন উর রশিদ, খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাসুদুর রহমান, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু এবং ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক।

এ সময় বক্তব্য দেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেলিম হায়দার, সাংবাদিক বি.এম. জুলফিকার রায়হান, কামরুজ্জামান মিঠু, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বয়কারী তৌফিক ইমরান, সহকারী অসিত রায় ও ইমদাদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

প্রশিক্ষণে তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করছেন। দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা জানান।