মুক্তমত: সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্রে জনদুর্ভোগের মহোৎসব
শেখ সিদ্দিকুর রহমান
সাতক্ষীরা শহরের পিএন হাইস্কুল মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার হয়ে পালপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কটি যেন এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। উন্নয়ন কাজের ধীরগতি, দখলদারিত্ব, আর বাজারের চরম অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শহরবাসী। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে একদিকে যেমন ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনা চলছে, অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।
১. পিএন স্কুল মোড়: উন্নয়নের নামে ভোগান্তি :
দীর্ঘদিন আগে টেন্ডার হলেও পিএন হাইস্কুল মোড় থেকে পালপাড়া মোড় পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই রাস্তার কাজ থমকে আছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার একপাশে কেবল ইটের গাঁথুনি দিয়ে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন প্রধান এই সড়কটি খুঁড়ে রাখায় দিনরাত তীব্র যানজট লেগেই থাকছে।
রহস্যময় ঠিকাদার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই কাজের ঠিকাদারের নাম বা মোবাইল নম্বর স্থানীয়দের কাছে তো দূরের কথা, সংশ্লিষ্ট অনেক দপ্তরেও মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন এই লুকোচুরি এবং কার ছত্রছায়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
২. পাকাপোল থেকে বড় বাজার: ফুটপাতহীন রাস্তায় দখলের রাজত্ব পাকাপোলের মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার (কেষ্ট ময়রার মোড়) পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা অবর্ণনীয়।
অস্তিত্বহীন ফুটপাত: রাস্তার দুই পাশে কোনো ফুটপাত নেই। তদুপরি সরু রাস্তার সিংহভাগ দখল করে রেখেছেন হকার ও দোকানিরা।
বেহাল দশা: রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যত্রতত্র ভ্যান ও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ফলে পথচারীদের রীতিমতো ‘লড়াই’ করে চলাচল করতে হয়।
কাঁচাবাজারের দখল: বাজারের ভেতর মূল রাস্তা জুড়ে বসেছে অস্থায়ী কাঁচাবাজার, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিয়েছে।
৩. বাজার সিন্ডিকেট: ওজনে কম ও পচা মাংসের কারবার
সুলতানপুর বড় বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগের শেষ নেই। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:
ওজনে কারচুপি: বিশেষ করে মুরগি, গরু ও ছাগলের মাংস এবং মাছ কেনার সময় ডিজিটাল বা সনাতন পাল্লায় কৌশলে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে।
পচা-বাসি মাংস: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা গবাদি পশুর পাশাপাশি অনেক দোকানে আগের দিনের বাসি ও পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবেশ দূষণ: বাজারের মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হওয়ায় পচা পানির দুর্গন্ধ ও ময়লার স্তূপের পাশ দিয়েই ক্রেতাদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।
৪. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও স্বল্প আয়ের মানুষের হাহাকার
সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস—সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। স্বল্প আয়ের মানুষরা বাজারে এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। অনেকেই তালিকা কাটছাঁট করে ব্যাগের এক কোণে সামান্য বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বাজার মনিটরিং কমিটির কোনো তৎপরতা এখানে দৃশ্যমান নয়।
নাগরিক দাবি ও উপসংহার
সাতক্ষীরার এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
জবাবদিহিতা: পিএন স্কুল মোড়ের কাজের বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
উচ্ছেদ অভিযান: রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ দখলদার ও যত্রতত্র পার্কিং উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বাজার তদারকি: ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওজনে কারচুপি ও পচা মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত ময়লা অপসারণ ও বাজার পরিষ্কার রাখা।
সাতক্ষীরা শহরের এই নাভিশ্বাস ওঠা জনজীবন স্বাভাবিক করতে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।









