শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

মেকানিক্যাল পেন্সিল দিবস: হাতে লেখার ঐতিহ্য, নির্ভুলতা ও সৃজনশীলতার উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
মেকানিক্যাল পেন্সিল দিবস: হাতে লেখার ঐতিহ্য, নির্ভুলতা ও সৃজনশীলতার উদযাপন

সাকিবুর রহমান বাবলা
‘যেভাবে একটি সাধারণ লিড-পেন্সিল হয়ে উঠল সৃজনশীলতার প্রতীক।’ ৫ জুলাই ‘মেকানিক্যাল পেন্সিল দিবস’। সাধারণ একটি লেখার উপকরণকে ঘিরে দিবস পালনের বিষয়টি অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু শিক্ষা, প্রকৌশল, নকশা, শিল্পচর্চা ও দৈনন্দিন লেখালেখিতে মেকানিক্যাল পেন্সিলের দীর্ঘ অবদানই এ দিবসের মূল প্রেরণা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্টেশনারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কাল্ট পেনস এ দিবসের সূচনা করে। ফাউন্টেন পেনের জন্য বিশেষ দিবস থাকলেও মেকানিক্যাল পেন্সিলের জন্য কোনো স্বীকৃত দিবস ছিল না। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
৫ জুলাই তারিখটি নির্বাচনের পেছনেও রয়েছে একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা। মেকানিক্যাল পেন্সিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি লিডের আকার হলো ০.৫ মিলিমিটার ও ০.৭ মিলিমিটার। পঞ্জিকা অনুযায়ী ৫ জুলাইকে (৫/৭) সংখ্যায় প্রকাশ করলে তা এই দুই বহুল ব্যবহৃত লিড সাইজের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।
মেকানিক্যাল পেন্সিলের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। ১৫৬৫ সালে সুইস বিজ্ঞানী কনরাড গেসনার এমন একটি লিড-হোল্ডার পেন্সিলের বিবরণ দেন, যেখানে গ্রাফাইট কাঠি আলাদাভাবে প্রবেশ করিয়ে ব্যবহার করা যেত। পরে ১৭৯১ সালে ডুবে যাওয়া ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস রয়্যাল জর্জ’-এর ধ্বংসাবশেষে প্রাচীন মেকানিক্যাল পেন্সিলের নিদর্শন পাওয়া যায়। আধুনিক রিফিলযোগ্য মেকানিক্যাল পেন্সিলের যাত্রা শুরু হয় ১৮২২ সালে, যখন ব্রিটিশ উদ্ভাবক জন আইজ্যাক হকিন্স এ ধরনের পেন্সিলের পেটেন্ট লাভ করেন। ১৯১৫ সালে জাপানি উদ্ভাবক তোকুজি হায়াকাওয়ার তৈরি ‘এভার-রেডি শার্প পেন্সিল’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁর এই আবিষ্কারের নাম থেকেই পরবর্তীতে বিখ্যাত ‘শার্প’ কর্পোরেশনের নামকরণ করা হয়। পরবর্তীকালে উন্নত লিড প্রযুক্তির কারণে মেকানিক্যাল পেন্সিল আরও কার্যকর ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
মেকানিক্যাল পেন্সিলের প্রধান আকর্ষণ এর নির্ভুলতা ও ব্যবহারিক সুবিধা। কাঠের পেন্সিলের মতো এটি বারবার শার্প করতে হয় না। লিড শেষ হলে নতুন লিড ভরে একই পেন্সিল দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। ০.৩, ০.৫, ০.৭ বা ০.৯ মিলিমিটারের নির্দিষ্ট ব্যাসের লিড ব্যবহারের ফলে লেখার রেখার প্রস্থ সবসময় একই থাকে। এ কারণে স্থপতি, প্রকৌশলী, ডিজাইনার, কার্টুনিস্ট ও শিল্পীদের কাছে এটি বিশেষভাবে সমাদৃত।
পরিবেশগত দিক থেকেও মেকানিক্যাল পেন্সিল গুরুত্বপূর্ণ। একটি পেন্সিল বহুবার ব্যবহার করা যায় বলে কাঠের ব্যবহার ও বর্জ্য তুলনামূলকভাবে কম হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল যুগে হাতে লেখার অভ্যাস ক্রমশ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ দিবস হস্তাক্ষর চর্চা, সৃজনশীল লেখালেখি ও অঙ্কনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মেকানিক্যাল পেন্সিল দেশের বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় শিক্ষার্থী, স্থপতি ও পেশাজীবীদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পেন্টেল, ইউনি, জেব্রা, ফেবার-কাস্টেল ও স্টেডলারের মতো ব্র্যান্ডের পণ্য সহজেই পাওয়া যায়।
বিশ্বব্যাপী মেকানিক্যাল পেন্সিল উৎপাদনে জাপানের পেন্টেল ও শার্প এবং জার্মানির ফেবার-কাস্টেল ও স্টেডলার বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। শিল্পকলার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। নাইজেরিয়ান হাইপার-রিয়েলিস্ট শিল্পী আরিন্জি স্ট্যানলি এবং জাপানি শিল্পী কোয়েই ওহমোরি তাঁদের অসাধারণ পেন্সিলচিত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তাঁদের সৃষ্টিকর্ম দেখায় যে, একটি সাধারণ পেন্সিলও অসাধারণ শিল্পসৃষ্টির শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।
মেকানিক্যাল পেন্সিল দিবস মূলত একটি সাধারণ লেখনীকে ঘিরে উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসের স্মারক। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগেও এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিক্ষা, নকশা, শিল্প ও চিন্তার বিকাশে একটি ছোট পেন্সিলের অবদান কোনভাবেই ছোট নয়। তাই এ দিবস শুধু একটি লেখার সরঞ্জামের নয়; এটি হাতে লেখার ঐতিহ্য, নির্ভুলতা, সৃজনশীলতা এবং মানব উদ্ভাবনী শক্তির এক অর্থবহ উদযাপন।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আশাশুনির ‘সাতপোয়া’ ও ‘পাঙ্গাসমারি’ খাল খনন প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আশাশুনির ‘সাতপোয়া’ ও ‘পাঙ্গাসমারি’ খাল খনন প্রকল্প

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ‘সাতপোয়া’ ও ‘পাঙ্গাসমারি’ খাল খনন প্রকল্পে যে ধরনের অনিয়ম, জবরদখল ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে, তা জনমনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। জনস্বার্থে গৃহীত একটি সরকারি প্রকল্প কীভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে, বড়দলের ঘটনা তারই এক নিকৃষ্ট উদাহরণ।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালের খননকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় সেখানে আড়াআড়িভাবে নেট-পাটা (বাঁশের বেড়া ও জাল) দিয়ে মাছ চাষের পাঁয়তারা চলছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা খালের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, সরকারি খাস জমি পুনরুদ্ধার না করে এবং খাস খালের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খালের মাটি সরকারি জমিতে ফেলার নিয়ম থাকলেও, প্রভাবশালীদের সুবিধা দিতে সাধারণ মানুষের ভোগদখলীয় ও রেকর্ডীয় ফসলি জমি এবং বসতবাড়ির ওপর ইচ্ছেমতো মাটির স্তূপ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
যেকোনো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল শর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। অথচ বড়দলের এই প্রকল্পে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা গভীরতা কত—তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা খোদ জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়নি। প্রকল্পের বিবরণী বা সিডিউল দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ গোপনে, নিজেদের খেয়ালখুশিমতো দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরাও এই অনিয়ম ও জবরদখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খাল খনন করার মূল উদ্দেশ্য হলো জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষি কাজের সুবিধা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। কিন্তু বড়দলের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি বরাদ্দের টাকার অপচয় ও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখলের এক ‘হরিলুট’ চলছে। আমরা মনে করি, এই অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে খালের নেট-পাটা উচ্ছেদ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের রেকর্ডীয় জমি থেকে অবৈধভাবে ফেলা মাটি অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আষাঢ়ের সজল আবহে সাতক্ষীরায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
আষাঢ়ের সজল আবহে সাতক্ষীরায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ

পত্রদূত ডেস্ক: আষাঢ়ের সজল বিকেল। প্রকৃতির ক্যানভাসে তখন মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি। এমন এক বর্ষণমুখর মায়াবী আবহে বাংলা সাহিত্যের দুই ধ্রুবতারাÑরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সুর আর বাণীতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত অগ্নিবীণা সাতক্ষীরা জেলা সংসদের আয়োজনে উদ্যাপিত হয় এই রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী। সাহিত্য আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি আর বর্ষার সজল হাওয়ার সঙ্গে বরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীতের মূর্ছনায় মেতে ওঠেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠানে ‘ধূমকেতু’ প্রকাশনার রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নয়, তাঁরা বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। নিজেদের অসামান্য মেধা ও সৃষ্টিকে তাঁরা অকাতরে বিলিয়ে গেছেন মানুষের কল্যাণে। অথচ বর্তমান সময়ে অনেক বুদ্ধিজীবীকে এই দুই মহান স্রষ্টাকে সাম্প্রদায়িকতার সংকীর্ণ গ-িতে আটকে রাখার অপচেষ্টা করতে দেখা যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিল্পের কোনো বিভেদ নেই, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতার মুক্তিতে এই দুই কবির সৃষ্টিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
কবি সৌহার্দ্য সিরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. শাহেদ মন্তাজ। অগ্নিবীণা সাতক্ষীরা জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব সবুজের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে নজরুলের জীবন ও কর্মের ওপর মুখ্য আলোচকের বক্তব্য দেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষা, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম এবং অগ্নিবীণা জেলা সংসদের সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ সরকার। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেন কবি ও প্রাবন্ধিক শুভ্র আহমেদ।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কিশোরী মোহন সরকার, কবি শহীদুর রহমান এবং দেবহাটার ফেয়ার মিশনের পরিচালক আব্দুল কাদের মহিউদ্দিন।
মননশীল আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আষাঢ়ের মেঘমন্দ্রিত সন্ধ্যায় গুণী কণ্ঠশিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীতের সুধায় সিক্ত হন উপস্থিত সাহিত্য ও সংগীতপ্রেমীরা। রাত দশটা পর্যন্ত চলা এই আয়োজন যেন বর্ষার স্নিগ্ধ প্রকৃতি আর সাহিত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছিল।

ইজারাপ্রাপ্ত জলমহাল লুটপাটের অভিযোগে আশাশুনিতে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
ইজারাপ্রাপ্ত জলমহাল লুটপাটের অভিযোগে আশাশুনিতে সংবাদ সম্মেলন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে সরকারি ইজারাপ্রাপ্ত ‘একসরা খাল’ জলমহাল ভোগদখলে বাধা প্রদান, মাছ লুট ও নেট-পাটা কেটে দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় আশাশুনি প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই জলমহালের তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) এবং আনুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর একসরা গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিনুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৯ এপ্রিল আনুলিয়া ইউনিয়নের একসরা মৌজার ১১ দশমিক ৮৬ একরের জলমহালটি সরকারি ইজারা পরিশোধ সাপেক্ষে ১৪৩৩-৩৫ বাংলা সন পর্যন্ত ‘মহিষাডাঙ্গা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’র অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়। গত ১০ মে সমিতি তাঁকে এই জলমহালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর পর থেকে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে এটি ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস ও তাঁর অনুসারীরা জলমহালটি থেকে তাঁদের তাড়িয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
শাহিনুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ২ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাঁর অনুসারীরা জলমহালের নেট-পাটা কেটে দেয়। এতে ঘেরে থাকা বাগদা, গলদা, হরিনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ নদীতে ভেসে যায়। এর পরও ক্ষান্ত না হয়ে তারা খ্যাপলা ও টানা জাল দিয়ে আরও প্রায় ১ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা স্লুইসগেটে জাল পেতে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ৫ আগস্টের পর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস এলাকার একাধিক মৎস্যঘের ও জমি জবরদখল এবং লুটপাট চালিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ইজারাপ্রাপ্ত জলমহালটিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিচারে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।