সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

মেকানিক্যাল পেন্সিল দিবস: হাতে লেখার ঐতিহ্য, নির্ভুলতা ও সৃজনশীলতার উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
মেকানিক্যাল পেন্সিল দিবস: হাতে লেখার ঐতিহ্য, নির্ভুলতা ও সৃজনশীলতার উদযাপন

সাকিবুর রহমান বাবলা
‘যেভাবে একটি সাধারণ লিড-পেন্সিল হয়ে উঠল সৃজনশীলতার প্রতীক।’ ৫ জুলাই ‘মেকানিক্যাল পেন্সিল দিবস’। সাধারণ একটি লেখার উপকরণকে ঘিরে দিবস পালনের বিষয়টি অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু শিক্ষা, প্রকৌশল, নকশা, শিল্পচর্চা ও দৈনন্দিন লেখালেখিতে মেকানিক্যাল পেন্সিলের দীর্ঘ অবদানই এ দিবসের মূল প্রেরণা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্টেশনারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কাল্ট পেনস এ দিবসের সূচনা করে। ফাউন্টেন পেনের জন্য বিশেষ দিবস থাকলেও মেকানিক্যাল পেন্সিলের জন্য কোনো স্বীকৃত দিবস ছিল না। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
৫ জুলাই তারিখটি নির্বাচনের পেছনেও রয়েছে একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা। মেকানিক্যাল পেন্সিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি লিডের আকার হলো ০.৫ মিলিমিটার ও ০.৭ মিলিমিটার। পঞ্জিকা অনুযায়ী ৫ জুলাইকে (৫/৭) সংখ্যায় প্রকাশ করলে তা এই দুই বহুল ব্যবহৃত লিড সাইজের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।
মেকানিক্যাল পেন্সিলের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। ১৫৬৫ সালে সুইস বিজ্ঞানী কনরাড গেসনার এমন একটি লিড-হোল্ডার পেন্সিলের বিবরণ দেন, যেখানে গ্রাফাইট কাঠি আলাদাভাবে প্রবেশ করিয়ে ব্যবহার করা যেত। পরে ১৭৯১ সালে ডুবে যাওয়া ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস রয়্যাল জর্জ’-এর ধ্বংসাবশেষে প্রাচীন মেকানিক্যাল পেন্সিলের নিদর্শন পাওয়া যায়। আধুনিক রিফিলযোগ্য মেকানিক্যাল পেন্সিলের যাত্রা শুরু হয় ১৮২২ সালে, যখন ব্রিটিশ উদ্ভাবক জন আইজ্যাক হকিন্স এ ধরনের পেন্সিলের পেটেন্ট লাভ করেন। ১৯১৫ সালে জাপানি উদ্ভাবক তোকুজি হায়াকাওয়ার তৈরি ‘এভার-রেডি শার্প পেন্সিল’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁর এই আবিষ্কারের নাম থেকেই পরবর্তীতে বিখ্যাত ‘শার্প’ কর্পোরেশনের নামকরণ করা হয়। পরবর্তীকালে উন্নত লিড প্রযুক্তির কারণে মেকানিক্যাল পেন্সিল আরও কার্যকর ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
মেকানিক্যাল পেন্সিলের প্রধান আকর্ষণ এর নির্ভুলতা ও ব্যবহারিক সুবিধা। কাঠের পেন্সিলের মতো এটি বারবার শার্প করতে হয় না। লিড শেষ হলে নতুন লিড ভরে একই পেন্সিল দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। ০.৩, ০.৫, ০.৭ বা ০.৯ মিলিমিটারের নির্দিষ্ট ব্যাসের লিড ব্যবহারের ফলে লেখার রেখার প্রস্থ সবসময় একই থাকে। এ কারণে স্থপতি, প্রকৌশলী, ডিজাইনার, কার্টুনিস্ট ও শিল্পীদের কাছে এটি বিশেষভাবে সমাদৃত।
পরিবেশগত দিক থেকেও মেকানিক্যাল পেন্সিল গুরুত্বপূর্ণ। একটি পেন্সিল বহুবার ব্যবহার করা যায় বলে কাঠের ব্যবহার ও বর্জ্য তুলনামূলকভাবে কম হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল যুগে হাতে লেখার অভ্যাস ক্রমশ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ দিবস হস্তাক্ষর চর্চা, সৃজনশীল লেখালেখি ও অঙ্কনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মেকানিক্যাল পেন্সিল দেশের বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় শিক্ষার্থী, স্থপতি ও পেশাজীবীদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পেন্টেল, ইউনি, জেব্রা, ফেবার-কাস্টেল ও স্টেডলারের মতো ব্র্যান্ডের পণ্য সহজেই পাওয়া যায়।
বিশ্বব্যাপী মেকানিক্যাল পেন্সিল উৎপাদনে জাপানের পেন্টেল ও শার্প এবং জার্মানির ফেবার-কাস্টেল ও স্টেডলার বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। শিল্পকলার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। নাইজেরিয়ান হাইপার-রিয়েলিস্ট শিল্পী আরিন্জি স্ট্যানলি এবং জাপানি শিল্পী কোয়েই ওহমোরি তাঁদের অসাধারণ পেন্সিলচিত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তাঁদের সৃষ্টিকর্ম দেখায় যে, একটি সাধারণ পেন্সিলও অসাধারণ শিল্পসৃষ্টির শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।
মেকানিক্যাল পেন্সিল দিবস মূলত একটি সাধারণ লেখনীকে ঘিরে উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসের স্মারক। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগেও এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিক্ষা, নকশা, শিল্প ও চিন্তার বিকাশে একটি ছোট পেন্সিলের অবদান কোনভাবেই ছোট নয়। তাই এ দিবস শুধু একটি লেখার সরঞ্জামের নয়; এটি হাতে লেখার ঐতিহ্য, নির্ভুলতা, সৃজনশীলতা এবং মানব উদ্ভাবনী শক্তির এক অর্থবহ উদযাপন।

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।