রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

লবণাক্ত পানিতে সাতক্ষীরার উপকূল: জরায়ুর টিউমারসহ ও নারীদের নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
লবণাক্ত পানিতে সাতক্ষীরার উপকূল: জরায়ুর টিউমারসহ ও নারীদের নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের তীব্র লবণাক্তত পানির প্রভাবে হাজার হাজার মানুষ এক নীরব স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে মানুষের শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ ‘সুরুল’ বা কুঁচকি অঞ্চল এবং নারীদের জরায়ুতে মারাত্মক সংক্রমণ ও চর্মরোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গ্রামীণ মানুষের চিরন্তন লজ্জা ও সামাজিক ট্যাবুকে পুঁজি করে এই নীরব ব্যাধি প্রকট আকার ধারণ করলেও, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় এতদিন সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টির বাইরেই থেকে গেছে এই তীব্র সংকট।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি উপকূলীয় এলাকায় অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই অঞ্চলের নারীদের একটা বড় অংশ দীর্ঘক্ষণ চিংড়ি ঘের কিংবা নদীর অতিরিক্ত লবণাক্ত পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই লবণাক্ত পানি সংবেদনশীল অঙ্গে লেগে থাকার কারণে সেখানে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বাসা বাঁধছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ’ এবং তীব্র চর্মরোগ ‘টিনিয়া ক্রুরিস’ বলা হলেও স্থানীয় চিকিৎসকেরা গ্রামীণ মানুষের মুখের ভাষায় একে চিহ্নিত করছেন “সুরুল লাগা”, “সুরুল ফোলা” কিংবা “কুঁচকি নামা” হিসেবে। স্থানীয় নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুঁচকি বা তলপেটের দুই পাশের সংযোগস্থলে প্রচ- চুলকানি, ক্ষত এবং লিম্ফ নোড বা গ্রন্থি ফুলে ওঠার মতো তীব্র যন্ত্রণায় তারা দীর্ঘদিন ভুগছেন।

 

পুরুষদের ক্ষেত্রেও কুঁচকি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ ও টিউমার সদৃশ ফোলা ভাব দেখা দিচ্ছে। কিন্তু রোগটি শরীরের অত্যন্ত গোপন ও সংবেদনশীল অংশে হওয়ায় গ্রামীণ নারীরা লজ্জায় পরিবারের অন্য সদস্য বা পুরুষ চিকিৎসকদের কাছে মুখ খোলেন না। ফলে কোনো ধরনের সুচিকিৎসা না পেয়ে রোগটি ভেতরে ভেতরে আরও জঘন্য রূপ নিচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে জরায়ুর বড় ধরনের ক্ষতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট এবং পানির অতিরিক্ত লবণাক্ততাই এই সংকটের মূল কারণ।

 

এই বিপর্যয় রোধে এখনই উপকূলীয় নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বিশেষায়িত মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তা না হলে সুন্দরবন সংলগ্ন এই জনপদের নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। উপকূলীয় জনপদের বাস্তবতায় নারীদের একটি বড় অংশ সংসারের পাশাপাশি চিংড়ি ঘের, কৃষিকাজ, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নদী-খালের আশপাশের বিভিন্ন কাজে যুক্ত। এসব কাজে দীর্ঘ সময় পানি, কাদা, ভেজা কাপড় ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের সংস্পর্শে থাকতে হয়। বিশেষ করে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং গোসলের সুবিধা না থাকলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

‎অনেক নারী জানান, দিনের পর দিন একই ধরনের অস্বস্তি, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া থাকলেও তারা বিষয়টি কাউকে বলতে চান না। কেউ কেউ স্থানীয় ফার্মেসি থেকে নিজের মতো করে ওষুধ বা মলম ব্যবহার করেন। সাময়িকভাবে উপসর্গ কমে গেলেও সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় হয় না ফলে আবার ফিরে আসে। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ওষুধ ব্যবহার করে ও নতুন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ এখনো শরীরের গোপন অঙ্গ নিয়ে কথা বলাকে অনেক পরিবার অস্বস্তিকর মনে করে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই সংকোচ আরও বেশি। ফলে অনেকেই ব্যথা, চুলকানি, অস্বাভাবিক গ্রাব, ফোলা, ক্ষত কিংবা প্রগ্রাবের সময় জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ প্রকাশ করেন না। ‎

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

Ads small one

মৃত্যুর পরে মানুষ ভালো বললে তবেই আমি ভালো মানুষ: জেলা জজ নজরুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
মৃত্যুর পরে মানুষ ভালো বললে তবেই আমি ভালো মানুষ: জেলা জজ নজরুল ইসলাম

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, “প্রতিটি মৃত্যু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়Ñএই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়। মৃত্যুর পরে মানুষ যদি আমাকে ভালো বলে, তবেই আমি ভালো মানুষ।”

রোববার (৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য প্রয়াত আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদারের স্মরণে আয়োজিত ফুলকোর্ট রেফারেন্স অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব আইনজীবী মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. জাকারিয়া হোসেন, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবু বক্কার সিদ্দিক ও ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারকসহ জেলা বিচার বিভাগের অন্যান্য বিচারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক আইনজীবী বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু, সাবেক সভাপতি আইনজীবী আব্দুল মজিদ, জিপি আইনজীবী অসীম কুমার ম-ল ও আইনজীবী রঘুনাথ ম-ল। প্রয়াত আইনজীবীর আত্মার শান্তি কামনায় ধর্মীয় গ্রন্থ গীতা পাঠ করেন সিনিয়র আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র বল্লভ।

মৃত্যুর আগে প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবন ও কর্মকে মূল্যায়ন করা উচিত উল্লেখ করে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, নিজের মধ্যে ভালো গুণের কোনো ঘাটতি থাকলে সময় থাকতেই তা পূরণ করতে হবে। প্রয়াত আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদারের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “তিনি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। তিনি নিরহংকার ছিলেন এবং কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। তাঁর এই বিনয়ী ও মার্জিত আচরণের কারণেই আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।”

বক্তারা বলেন, আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদার ছিলেন একজন দক্ষ, বিনয়ী ও সদালাপী মানুষ। সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে আইনজীবী অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত সনাতন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে ফুলকোর্ট রেফারেন্স শেষে দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সমিতির হলরুমে প্রয়াত আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদারের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির আহ্বায়ক আইনজীবী বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু।

রাজধানীতে চালের বস্তায় মিললো ১৩২ বোতল ফেন্সিডিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে চালের বস্তায় মিললো ১৩২ বোতল ফেন্সিডিল

পত্রদূত রিপোর্ট: চালের বস্তার মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে পরিবহনের সময় ১৩২ বোতল ফেন্সিডিলসহ মো. ইমরান খান (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী বাগবাড়ীর সড়কে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় যাওয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তল্লাশি করা হয়।

এ সময় চালের বস্তার মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৩২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এছাড়া ৪৫ কেজি চাল, একটি বাসের টিকিট ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ইমরান খান বর্তমানে ঢাকার গুলশান এলাকায় বসবাস করেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দারুস সালাম থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে মাদকের অবৈধ পরিবহন, সরবরাহ ও বিস্তারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালায় গ্রাম পুলিশের উপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
তালায় গ্রাম পুলিশের উপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার অভিযোগ

‎‎তালা প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরার তালায় মাদকের তথ্য পুলিশকে দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে মারধর ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সোহেল শেখ (৩৪) তালা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

‎‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে উপজেলার হাজরাকাটি বাজারে চায়ের দোকানের সামনে বিল্লাল বিশ্বাস, ফারুক বিশ্বাস ও হযরত সরদার স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সোহেল শেখকে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে তাকে জখম করা হয়। পরে তিনি তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

‎‎সোহেল শেখ ১২ নং খলিলনগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জেরে এ হামলা। এর আগে তার সহযোগিতায় আটারই গ্রামের মিলন ও হাজরাকাটির মুস্তাইন ইয়াবাসহ আটক হয়েছিল।

‎‎ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হযরত বিশ্বাসের কোনো দোকান না থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত বাজারে বসে প্রশাসনের গতিবিধির ওপর নজর রাখেন।‎‎ তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।