শরতের ঝোড়ো বৃষ্টিও থামাতে পারেনি ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার উদ্দাম আনন্দ
মিলন বিশ্বাস: শরতের পড়ন্ত বিকেলে নীল আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা। দেখতে দেখতেই গুরুগম্ভীর মেঘের ডাক ছড়িয়ে পড়ল দিগন্তজুড়ে, নামল ঝুম বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঝোড়ো হাওয়া আর ভারী বর্ষণে সাতক্ষীরার আবহাওয়ায় হুট করেই যেন বর্ষার মাতম। জল-কাদায় থইথই শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্ক। কিন্তু প্রকৃতির এই আকস্মিক রুদ্ররূপও বিন্দুমাত্র থমকে দিতে পারেনি প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার অবিনাশী স্পন্দন।
বৃষ্টির জল আর নরম কাদা মাড়িয়েই রঙিন ছাতা মাথায় হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন মেলার আঙিনায়। মায়াবী আলোর রোশনাই আর কাদামাটির মেঠো গন্ধ মেখে বাবার হাত ধরে এসেছে শিশুরা। বাদল হাওয়াকে তোয়াক্কা না করে খুদে পাগুলো ছুটে গেছে নাগরদোলার দিকে, কেউ আবার ব্যাকুল চোখে রঙিন খেলনার ডালা ঘেঁটে মেতে উঠেছে কেনাকাটায়। বর্ষার ভেজা হাওয়ায় ভেসে এসেছে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের হাসি আর অনাবিল উচ্ছ্বাসের সুর।
বৃষ্টি শুরু হতেই মেলার পসরা রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। পলিথিন ও ত্রিপলের সামিয়ানায় ঢেকে রাখা হয় সূক্ষ্ম কারুপণ্য আর সামগ্রী। কিন্তু জল নামার বিরতি মিলতেই ফের জমে ওঠে কেনাবেচার শোরগোল। ক্ষণিক বিপত্তি হলেও দুই বছর পর ফিরে আসা এই প্রাণের মেলার প্রতি সাতক্ষীরাবাসীর ভালোবাসায় জলছিটে সামান্য আঁচও ফেলতে পারেনি।
মেলায় আসা দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বৃষ্টির মধ্যেও তৎপর ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই লোকজ মেলা আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আষাঢ় কিংবা শরতের হঠাৎ ধারাÑকোনো কিছুই যে মাটির টানে জেগে ওঠা এই মেলা উদযাপনের সংস্কৃতিকে দমাতে পারে না, জল-কাদার মাঝেও জনারণ্যের উদ্দাম উপস্থিতি তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।









