শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা
এস এম আল-আমীন
পৃথিবীতে মানুষের জীবনে পিতা-মাতার ঋণ যেমন কোনোদিন শোধ করার মতো নয়, তেমনি শিক্ষকের ঋণও অপরিশোধ্য। পিতা-মাতা আমাদের পৃথিবীর আলো দেখান, স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসায় বড় করে তোলেন; আর শিক্ষক আমাদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেন, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় ও ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখান। একজন শিক্ষকের হাত ধরেই একজন শিক্ষার্থী স্বপ্ন দেখতে শেখে এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবতার পথে এগিয়ে নেওয়ার সাহস পায়।
শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; শিক্ষক একটি জাতির বিবেক, একটি সমাজের আলোকবর্তিকা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম কারিগর। তাঁদের জ্ঞান, শ্রম, ত্যাগ, শাসন ও স্নেহের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে আগামী দিনের প্রজন্ম। তাই পৃথিবীর সকল শিক্ষক নিঃসন্দেহে মানবসমাজের এক মহান সম্পদ।
আজ শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আমার জীবনের সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা, গভীর কৃতজ্ঞতা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দোয়া। যাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান, আদর্শ ও জীবনের পথচলার শিক্ষা পেয়েছি, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমি চিরঋণী। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সুস্থতা, দীর্ঘ নেক হায়াত ও উত্তম প্রতিদান দান করুন।
তবে শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আমাদের একটি বিষয় গভীরভাবে ভাবতে হবে। আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকরা নানাভাবে হয়রানি, অপমান ও অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন। যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মহান দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের যদি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা না দেওয়া হয়, তাহলে একটি জাতির ভবিষ্যৎই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান করা নয়; বরং জ্ঞান, শিক্ষা ও সভ্যতার মর্যাদা রক্ষা করা। তাই শিক্ষকদের প্রতি সকল ধরনের হয়রানি, অপমান ও অসম্মানজনক আচরণ বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের মানুষকে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকরা সম্মানিত হলে শিক্ষা সম্মানিত হবে, শিক্ষা সম্মানিত হলে জাতি এগিয়ে যাবে।
এস এম আল-আমীন, ছাত্র, সাতক্ষীরা বদ্দীপুর কলনী কওমী মাদরাসা









