রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হল ছায়া উপকূলীয় পানি সংসদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হল ছায়া উপকূলীয় পানি সংসদ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: “”আমাদের পানি, আমাদের অধিকার” এ স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (১৮ জুলাই) শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স হলরুমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হল ব্যাতিক্রমধর্মী ছায়া উপকূলীয় পানি সংসদ।
যুব সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিমের আয়োজনে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সিডো, বারসিক, এ্যাকশন এইডের সহায়তায় শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈমের সঞ্চালনায় পানি সংসদে প্রথম অধিবেশনে পানির সংকট ও সমাধান বিষয়ক প্রস্তাব এবং দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রস্তাবের উপর সরকারি দল ও বিরোধী দল সংসদীয় ভাবে বক্তব্য রাখেন।

ছায়া সংসদে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ছায়া মন্ত্রী বক্তব্য পেশ করেন। একই সাথে সরকার দলীয় চিফ হুইপ, সরকার দলীয় হুইপ, বিরোধী দলীয় নেতা, বিরোধী দলীয় উপনেতা, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, বিরোধী দলীয় হুইপ বক্তব্য রাখেন।

সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা, দখলকৃত পুকুর, সরকারি সেবা প্রাপ্তি, টেকসই বেড়ী বাঁধ নির্মান, দুর্যোগ প্রস্ততিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, ইউডিএমসি সক্রিয়করণ, তরুণ প্রতিনিধিত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থা, নারী ও শিশুর যতœ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, সরকারের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি, উপকূলীয় এলাকার জন্য বিশেষ বরাদ্ধের দাবী, উপকূলীয় বোর্ড গঠন, লবনাক্ততা দূরী করণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, সুপেয় পানি প্রাপ্যতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাংক বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ড্রাম বিতরণসহ অন্যান্য বিষয়ে সংসদীয় ভাবে স্পীকারের মাধ্যমে সংসদে তুলে ধরা হয়। সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশ সরকারি দলের নিকট বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

সংসদে স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন জহুরা বিনতে জামান বনি এবং ডেপুটি স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ শাহিন ইসলাম। ছায়া সংসদেসরকারি ও বিরোধী দলের ৪০ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম অধিবেশন শেষে অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক রনজিৎ বর্মন, সাউদান চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ফরহাদ হোসেন, সিডোর কর্মকর্তা তৌহিদ হোসেন, বিদেশী পর্যবেক্ষক তাসফিয়া, সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন।

দ্বিতীয় অধিবেশন সহ সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কর্মকর্তা আরিফ সিদ্দিকী, মাসুদ পারভেজ অভি, জহুরা বিনতে জামান বনি, সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার মন্ডল, বারসিকের কোস্টালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম, সহকারী সমন্বয়কারী রাম কৃষ্ণ জোয়ারদ্দার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রত্যেক অংশ গ্রহণকারী সংসদ সদস্যকে সনদপত্র প্রদান ও অতিথিবৃন্দ, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যগণ সকলে প্রায় যুব প্রতিনিধিবৃন্দ ছিলেন।

জানা যায়, এই ছায়া সংসদের মূল দাবী গুলি মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।

Ads small one

গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। টানা দুই আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট।

আট ম্যাচে ১০ গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে। এর আগে কাতার বিশ্বকাপেও আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। ফলে টানা দুই বিশ্বকাপে এই পুরস্কার জিতে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি জার্ড মুলারের পর এক আসরে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপ্পে। একটি বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের (১৩, ১৯৫৮) এবং হাঙ্গেরির শান্দর কচিশের (১১, ১৯৫৪)।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে পুরুষদের ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও এখন সবার ওপরে এমবাপ্পে। তার গোলসংখ্যা ২২, যা লিওনেল মেসির চেয়ে একটি বেশি।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে যান এমবাপ্পে। যদিও সেই ম্যাচে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থান নিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করে ফ্রান্স।

আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

৯০ মিনিট ধরে যেন একাই দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তার অবিশ্বাস্য সব সেভে বারবার হতাশ হয়েছে স্পেন, আর ১০ জনের আর্জেন্টিনাও বাঁচিয়ে রেখেছিল শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন। মনে হচ্ছিল, আরেকবার হয়তো বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখবেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত হাসল স্পেনের দিকেই। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ৩৭ সেকেন্ড পর ফেরান তোরেসের অসাধারণ ফিনিশ ভেঙে দেয় আর্জেন্টিনার সব স্বপ্ন। সেই একমাত্র গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নিল লা রোহারা।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা মুহূর্তটি। ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ এক আক্রমণের সূচনা করেন পেদ্রো পোরো। তার নিখুঁত ক্রস দূরের পোস্টে কোনোভাবে খেলায় রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফিরতি হেড থেকে বক্সের ভেতরে পাওয়া বল জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান তোরেস। গোল হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম, আর স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার শিবির।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের দখলে। বলের দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি মিলিয়ে এগিয়ে ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে ম্যাচ জমিয়ে রাখেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১০টি সেভ করে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও গড়েন নতুন রেকর্ড।

তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ভাঙে অচলাবস্থা। ১০৬ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রস দূরের পোস্টে হেড করে ফেরান নিকো উইলিয়ামস। সেই বল কাছ থেকে জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। এক মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি, স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।

এর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে পাও কুবার্সির ওপর বেপরোয়া ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে।

একজন কম নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ম্যাচের ১১৭ মিনিটে লিওনেল মেসির শট ব্লক হওয়ার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে আঘাত হানার চেষ্টা করে। সেটিই ছিল পুরো ম্যাচে তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য শট।

১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের আধিপত্যের সামনে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মেসিও নিজের ছাপ রাখতে পারেননি।

শেষ দিকে আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও স্পেনের রক্ষণ আর গোলরক্ষক কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয়ে যায় লাল জার্সিধারীদের উৎসব। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে উঠলো স্পেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার রেকর্ড

স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখে ইতিহাসের বিরল এক তালিকায় নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ চলাকালে বহিষ্কৃত হওয়ার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হন।

এর পাশাপাশি এনজো তৃতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন। এর আগে ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনজোন এবং গুস্তাভো দেজোত্তি লাল কার্ড দেখেছিলেন।

প্রায় ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ যুক্ত হলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসের অন্যতম বিরল ও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি পরিসংখ্যানে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়দের তালিকা
• ১৯৯০: পেদ্রো মনজোন (আর্জেন্টিনা)
• ১৯৯০: গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা)
• ১৯৯৮: মার্সেল দেসাই (ফ্রান্স)
• ২০০৬: জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)
• ২০১০: জন হেইটিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস)
• ২০২৬: এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা)

এক নজরে দুই দলের শুরুর একাদশ:
আর্জেন্টিনার একাদশ (৪-৩-৩):
এমিলিয়ানো মার্তিনেস (গোলরক্ষক), গনসালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, লিওনেল মেসি (অধিনায়ক), হুলিয়ান আলভারেস, নিকোলা গনসালেস।

স্পেনের একাদশ (৪-২-৩-১ / ৪-৩-৩):
উনাই সিমন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি অলমো, আলেক্স বায়েনা, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারসাবাল।