শ্যামনগরে দুই শতক জমি না দেয়ায় ধর্ষণের মামলা!
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক নারী তার স্বামীর চার নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছে। শনিবার সকাল সাড়ে আটার দিকে শ্যামনগর থানায় হাজির হয়ে তিনি উক্ত মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার স্বামী আফসার আলীর নিকটাত্মীয় আবু বক্কার, আব্দুল কাদের, মঞ্জুরুল ইসলাম ও রবিউল ফকিরকে আসামী করা হয়।
মামলায় ঐ নারী দাবি করেন স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগর সদরের চন্ডিপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি স্বামীর কাশিমাড়ী গ্রামের বাড়িতে যেয়ে ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পায়। এসময় কল দিয়ে স্বামীর মোবাইল বন্ধ পেয়ে সাতক্ষীরায় অবস্থানরত ভাশুর আব্দুর রাজ্জাকের পরামর্শে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে বারান্দায় পায়চারী করার সময় অভিযুক্তরা মুখে গামছা বেঁধে ঘর থেকে তুলে নিয়ে পাশের খড়ের ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে বনিবনা না হওয়ায় অভিযোগকারী নারী দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নিকট থেকে তালাক দাবি করে আসছিলেন। বিনিময়ে স্বামী থেকে দুই শতক জমি বা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। তবে স্বামী আফছার আলীর এসব নিকটাত্মীয়রা নাসিমা পারভীনকে জমি বা টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি করায় নাসিমা তাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা ও হয়রানীমুলক এ মামলা করেছেন।
এবিষয়ে জানতে বাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার সাথে যা হয়েছে তা নিয়ে কথা বলবো না। তবে আমার বসবাসের জন্য দুই শতক জমি দিলে আমি মামলা করতাম না। আগের রাত পর্যন্ত বার বার বলা সত্ত্বেও জমি দিতে সম্মত না হওয়ায় তিনি মামলা করেছেন বলেও নিশ্চিত করেন।
অভিযোগকারী নারীর স্বামী আফছার আলীর ভাষ্য তাদের স্বামী-স্ত্রী’র এটা দ্বিতীয় বিয়ে। নিজের নামে মাত্র দুই শতক জমি তার অবশিষ্ট রয়েছে। তাই তিনি কোন জমি দিতে সম্মত না হওয়ায় হয়ারনী করতে তার স্বজনদের নামে মামলা দিয়েছে তার স্ত্রী। তিনি বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান উক্ত নারীর পরীক্ষা করে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তিন/চার দিন পুর্বেও একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে শাররীক পরীক্ষা করাতে অস্বীকার করেছিলেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার সাফিউল ইসলাম জানান, বাদীনীর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ডের পর একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে।






