রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্যামনগরে খোলপাটুয়া নদীতে কার্গো জাহাজে দুর্ঘটনা, মাস্টারের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে খোলপাটুয়া নদীতে কার্গো জাহাজে দুর্ঘটনা, মাস্টারের মৃত্যু

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খোলপাটুয়া নদীতে নোনা পানি বহনকারী কার্গো জাহাজের ধাক্কা ঠেকাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় লুৎফার রহমান (৫৫) নামে এক জাহাজের মাস্টারের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে খোলপাটুয়া নদীসংলগ্ন চৌদ্দরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত লুৎফার রহমান বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার নুর ইসলামের ছেলে। তিনি এমভি আশকাফুর নামের নোনা পানি বহনকারী কার্গো জাহাজের মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে জাহাজটি খোলপাটুয়া নদীর চৌদ্দরশি এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় জাহাজটি অন্য একটি বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা দেখা দিলে নিজেদের জাহাজে সংঘর্ষ এড়াতে লুৎফার রহমান তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লুৎফার রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বুড়িগোয়ালিনী নৌ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বুড়িগোয়ালিনী নৌ থানার ইনচার্জ হাফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণসহ মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাজের গতিপথ, অন্য বাল্কহেডের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি এবং কীভাবে লুৎফার রহমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েন-এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Ads small one

শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ট্রলার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ই¯্রাফিল হোসেন নামে ঐ ট্রলার মালিক আশাশুনি উপজেলার চাপড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

 

শনিবার রাতে উপজেলার খোলপেটুয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় ট্রলারটি আটক করা হয়। এসময় মালিক পালিয়ে গেলেও শ্রমিক মো: সালমান হোসেন লিওন (২০)কে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত। পরবর্তীতে রোববার সকালে ভ্রাম্যমান আদালতের অর্থদন্ড মালিক পরিশোধের পর আটক শ্রমিককে মুক্তি দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত সুত্র জানায় বালুমহাল ইজারা না হওয়ায় খোলপেুটয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক চক্র অবৈধভাবে খোলপেটুয়া নদী থেকে অব্যাহতভাবে বালু লুট চালিয়ে যাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় খোলপেটুয়া নদীর খুটিকাটা এলাকা থেকে ই¯্রাফিল হোসেনের মালিকানাধীন ঐ ট্রালটি আদাক করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত ট্রলার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহকারী কমিশনার(ভুমি) রাশেদ হোসাইন জানান গত দুই মাসে অন্তত ছয়টি অভিযানে প্রায় সম সংখ্যক ট্রলার আটকের পর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আটক ট্রলার মালিককে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কপিলমুনিতে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান খুলে পড়ে এক ছাত্রী গুরুতর আহত 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান খুলে পড়ে এক ছাত্রী গুরুতর আহত 
কপিলমুনি (খুলনা)‌ প্রতিনিধি: রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ৪৭ নম্বর হাউলী প্রতাপকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আফিয়া ইভনাত আলভী প্রতাপকাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস খানের মেয়ে। সে ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
বিদ্যালয় ও আহত ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে বিদ্যালয়ে যথারীতি পাঠদান চলছিল। এ সময় শ্রেণিকক্ষে ফ্যানটি চালু ছিল। হঠাৎ ফ্যানটির নাট খুলে সেটি নিচে পড়ে যায়। প্রথমে ফ্যানটি শ্রেণিকক্ষের একটি টেবিলের ওপর পড়ে। পরে সেখান থেকে ছিটকে ফ্যানের হাতল আফিয়ার নাক ও মুখের ওপর আঘাত করে।
এতে তার নাক ও মুখ কেটে গিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে কপিলমুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেলাই দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিনাকী সাধু বলেন, নতুন ভবনের শ্রেণিকক্ষে ফ্যানটি লাগানো হয়েছিল। ফ্যানের নাট খুলে যাওয়ার কারণে সেটি প্রথমে টেবিলের ওপর পড়ে। পরে সেখান থেকে ছিটকে ফ্যানের হাতল ওই ছাত্রীর নাকে লাগে। এতে সে আহত হয়েছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো রয়েছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ অন্যান্য সরঞ্জামের নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত ফ্যান, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

খুলনায় সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
খুলনায় সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা কর্মশালা

খুলনা বিভাগের সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা  (Workshop on Integrated EPI, HPV, Open SRP and Health Program Review in Khulna Division)  শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা আজ (রবিবার) খুলনা হোটেল সিটি ইনে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

প্রধান অতিথি বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোধে কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হচ্ছে। জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এইচপিভি টিকার শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এইচপিভি টিকার আওতায় আনতে হবে।

 

দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় মাইলফলক এইচপিভি টিকা। এই টিকা দিলে কিশোরীরা জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, এইচপিভি টিকার বিষয়ে মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সকল মসজিদের ইমামরা এবিষয়ে মুসল্লিদের অবগত করতে পারেন। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে তাহলে একটি সুস্থ জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো: মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ ও ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ। কর্মশালায় অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো: মোজাম্মেল হক, এমআইএস’র পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিসেফ খুলনা চিফ মো: কাওসার হোসেন, ইপিআই’র সহকারী পরিচালক ডা. সাব্বির হায়দার ও খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস। কর্মশালায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ১০ জেলার সিভিল সার্জন, চিকিৎসক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা,  ইপিআই সুপার, ১০ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ইউনিসেফ, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী