শ্যামনগরে ছেলের বদলে মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ভাটা সর্দারের বিরুদ্ধে
পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অগ্রিম টাকা নিয়ে ইটভাটায় কাজে না যাওয়ায় এক শ্রমিকের মাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের লুৎফরের দোকানের সামনে থেকে দীপালী মণ্ডল (৫২) নামের ওই নারীকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
দীপালী মণ্ডল জেলেখালি গ্রামের পঞ্চানন মণ্ডলের স্ত্রী। তাঁর ছেলে জগদীশ মণ্ডল ইটভাটার শ্রমিক। পরিবারের সদস্য একাদশী মণ্ডলের দাবি, শ্রীফলকাটি গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন জগদীশকে বরিশালের একটি ইটভাটায় কাজের জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। জগদীশ কাজে না যাওয়ায় আমজাদ তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁর খোঁজ করেন।
একাদশী মণ্ডলের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ডেকে দীপালীকে লুৎফরের দোকানের সামনে নেওয়া হয়। পরে জগদীশের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে তাঁকে জোর করে মোটরসাইকেলে তোলা হয়। এরপর তাঁকে শ্রীফলকাটি এলাকার একটি স্থানে নিয়ে শ্রমিকবোঝাই বাসে উঠতে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁকে বরিশালের হিজলখালির কামালপুর এলাকার একটি ইটভাটায় নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর থানায় যান বলে জানান একাদশী মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ না করে জগদীশের অগ্রিম টাকা নেওয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত চায়। পরে শনিবার ভোরে তাঁরা শ্যামনগর থানায় গিয়ে দীপালীকে দেখতে পান। এ সময় উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন তাঁকে বিষয়টি নিয়ে বেশি দূর না এগোনোর পরামর্শ দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দীপালী মণ্ডল বলেন, তাঁকে এক কাপড়ে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাজের জন্য আমজাদ তাঁকে শাড়ি, সায়া ও ব্লাউজ কিনে দেন। তবে তিনি সেগুলো ব্যবহার করেননি। তাঁর প্রশ্ন, ছেলে কোনো অপরাধ করলে তার দায় কেন মাকে নিতে হবে? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আমজাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পরও আমজাদ ফোন করে তাঁকে অন্য এক ভাটা সর্দারের কাছে যেতে চাপ দেন এবং না গেলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেন।
জেলেখালি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে তার সমাধান করা উচিত। ছেলের পরিবর্তে মাকে তুলে নেওয়া অন্যায় এবং এ ঘটনার বিচার হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি দীপালী মণ্ডলকে জোর করে নিয়ে যাননি। জগদীশের পাসপোর্ট বই তাঁর কাছে রয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, পুলিশের কথামতো দীপালীকে থানায় নিয়ে এসেছিলেন।
শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের সহায়তায় দীপালী মণ্ডলকে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে প্রতিবেদক জানান।






