শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

খোলা কলাম/ সাংবাদিকদের জাহান্নাম যখন ডাক্তারের হাতে!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
খোলা কলাম/ সাংবাদিকদের জাহান্নাম যখন ডাক্তারের হাতে!

এম. এম. হায়দার আলী

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের ফেসবুকে সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যে প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বিতর্ক নয়; এটি প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ, পেশাগত শিষ্টাচার ও গণমাধ্যমের মর্যাদার প্রশ্ন।

গত ২০ অক্টোবর রাতে তাঁর ফেসবুক আইডিতে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) তালা প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—কোনো সংবাদে ভুল থাকলে প্রতিবাদ, সংশোধনী কিংবা আইনগত প্রতিকারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য কেন?

সাংবাদিকেরা সমাজের দর্পণ। তাঁদের দায়িত্ব সমাজের বাস্তব চিত্র, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জনসমক্ষে তুলে ধরা। আয়নায় নিজের মুখের দাগ দেখে আয়নাকে দোষারোপ করলে দাগ মুছে যায় না। তেমনি কোনো সংবাদে প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা কিংবা অনিয়মের অভিযোগ উঠে এলে প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান এবং ভুল থাকলে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া।

অবশ্যই সাংবাদিকেরা ভুলের ঊর্ধ্বে নন। সংবাদে তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতিবাদ জানাতে পারেন, সংশোধনী চাইতে পারেন কিংবা প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিকার নিতে পারেন। কিন্তু একটি পেশার মানুষকে সামগ্রিকভাবে হেয় করে বক্তব্য দেওয়া দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় বহন করে না। সরকারি পদমর্যাদা কাউকে সামাজিক শিষ্টাচারের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না; বরং দায়িত্ব যত বড়, আচরণে সংযমের প্রত্যাশাও তত বেশি।

স্বাস্থ্য বিভাগের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের সেবার মান, রোগীদের ভোগান্তি কিংবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার জবাব হওয়া উচিত তথ্য ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে। তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা, হাসপাতালের মালামাল বিক্রি এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় অতিরিক্ত ৪০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ মানববন্ধনে উত্থাপন করেছেন বক্তারা। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত সত্য হয়ে যায় না, আবার তদন্ত ছাড়াই তা উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য দ্রুত বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যকে অনেকে দায়িত্বশীল প্রশাসনিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখেন। তাই মত প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংযম, শালীনতা ও দায়িত্ববোধও জরুরি।
ডা. মিজানুর রহমান পরবর্তী সময়ে তাঁর পোস্টের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিরোধ নিরসনে এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্বশীল আচরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার মানসিকতা।

অন্যদিকে সাংবাদিকদেরও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় তথ্যের নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ। ভুল হলে সংশোধন করাও পেশাগত সততার পরিচয়। তবে সাংবাদিকদের ভুলের সম্ভাবনাকে অজুহাত করে তাঁদের সামগ্রিকভাবে অবমাননা করার সুযোগ নেই।

প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়; জনস্বার্থে সহযোগিতার। সাংবাদিকেরা প্রশাসনের শত্রু নন, আবার প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করাও তাঁদের দায়িত্ব নয়। যেখানে ভালো কাজ হবে, সেখানে প্রশংসা থাকবে; অনিয়মের অভিযোগ উঠলে প্রশ্নও থাকবে। সেই প্রশ্নের জবাব তথ্য দিয়ে দেওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

আমি প্রত্যাশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবেন। অভিযোগের সত্যতা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

আমার এই দাবি প্রতিহিংসার নয়; ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির। কাউকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করা নয়, বরং সত্য উদ্ঘাটন ও প্রমাণিত অপরাধের যথাযথ প্রতিকারই হোক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য। কারণ, সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা করা মানে শুধু একটি পেশার সম্মান রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা, জনগণের জানার অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি।

মনে রাখতে হবে, সরকারি পদ সাময়িক, কিন্তু দায়িত্বশীল আচরণের দৃষ্টান্ত দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকে। সাংবাদিকের কলমকে অবজ্ঞা করে নয়, সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহস দিয়েই একজন কর্মকর্তা তাঁর যোগ্যতার পরিচয় দেন। তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপই এখন প্রত্যাশা। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বনদস্যুদের নির্যাতন, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন লিটন।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ বনের ওপর নির্ভর করে হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের ভয় ও নির্যাতনের কারণে তাঁদের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সুন্দরবনে কাজ করতে গিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তাঁরা আরও বলেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে শুধু প্রতিবাদ সভা নয়, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সভায় বনজীবীদের নিরাপত্তা ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবিকা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শেখ নুরুল হক নুরু (৭৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুলতানপুর এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি মরহুম শেখ আনোয়ারুল হকের বড় পুত্র এবং দুই ছেলে, ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

মরহুমের নামাজের জানাজা রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সুলতানপুর ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

 

সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থাপনাটির খাবার পানির পুকুর, চারপাশের সরকারি খাল, গাছপালা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসা নদীভাঙন এবং লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম উৎসটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০০৩ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় গাবুরা এলাকার খাবার পানির সংকট নিরসন ও সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইকোপার্কের আদলে ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে এটি দক্ষিণ উপকূলের একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটিতে উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি।

গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নত সড়ক নির্মিত হলেও খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত এ স্থাপনাটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জোয়ারের লবণাক্ত পানি স্থাপনার ভেতরে প্রবেশের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খাবার পানির পুকুরের পাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পুকুরটি প্লাবিত হয়। এতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পান করার অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় সমগ্র গাবুরা প্লাবিত হলে এলাকার অধিকাংশ খাবার পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার পুকুরটি এলাকার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বহু পরিবার এ পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ঝুঁকিতে সেই পানির উৎসও সংকটের মুখে পড়েছে।

উপকূলীয় জনপদ গাবুরায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানকার মানুষের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির পুকুর ও আশপাশের অবকাঠামো রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি নষ্ট হয়ে গেলে কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহে আরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থাপনাটির চারপাশের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও পুকুরের পাড় সংস্কার, লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ, সরকারি খাল পুনঃখনন এবং গাছপালা ও অন্যান্য অবকাঠামো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থাপনাটিকে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে শুধু একটি দৃষ্টিনন্দন সরকারি স্থাপনাই নয়, উপকূলের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎসও হারিয়ে যেতে পারে। তাই নদীভাঙন ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।