শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ ইটভাটার টানে উপকূলের শ্রমজীবী মানুষ: দরকার স্থানীয় কর্মসংস্থান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ইটভাটার টানে উপকূলের শ্রমজীবী মানুষ: দরকার স্থানীয় কর্মসংস্থান

উপকূলীয় জনপদগুলোতে কাজের সংকট ও আকাশছোঁয়া নিত্যপণ্যের বাজারে টিকতে না পেরে প্রতি বছরই হাজারো শ্রমজীবী মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে দূরদূরান্তে পাড়ি জমাচ্ছেন। পাইকগাছা কিংবা সাতক্ষীরার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে বর্ষার শেষেই চোখে পড়ে এই বিষাদময় অভিবাসনের ছবি। কৃষি কাজ শেষ হওয়ার পরপরই জীবিকার তাগিদে পুরো পরিবার নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইটভাটাগুলোতে গিয়ে ওঠার এ চিত্র কেবল এক উপজেলার নয়, বরং গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক নির্মম বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে।

দাদন কিংবা অগ্রিম পারিশ্রমিকের সুদে-আসলে বাঁধা এ জীবন সহজ নয়। ভোর থেকে দুপুর এবং রাতভর দীর্ঘ দুই শিফটের হাড়ভাঙা খাটুনি, ধোঁয়া-ধুলার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং টিনের ঝুপড়ি ঘরে পশুর মতো দিনযাপন—এই রূপেই কাটে ইটভাটার শ্রমিকদের মাসগুলো। আরও মর্মান্তিক হলো, জীবনসংগ্রামে আয়ের পাল্লা ভারী করতে শ্রমজীবী মা-বাবারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন শিশুসন্তানদেরও। ফলে একদিকে যেমন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শ্রমিকের শরীর, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের মুখ না দেখে অকালেই শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ছে এক সম্ভাবনাময় প্রজন্ম।

সাতক্ষীরাও এ বাস্তবতা থেকে মোটেই বিচ্ছিন্ন নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, বারংবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি জমিতে লবণাক্ততার বিস্তার এবং শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে এ অঞ্চলের মানুষকে বাধ্য হয়েই বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় ঘর ছাড়তে হয়। যদি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলা যেত, নদী-খাল পুনখননের মতো সরকারি টিআর বা কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচিগুলোকে এই শুষ্ক মৌসুমে সমন্বিত ও বেগবান করা সম্ভব হতো, তবে হাজারো পরিবারকে এভাবে ভিটামাটি ছেড়ে যাযাবরের জীবন বেছে নিতে হতো না।

উন্নয়নের মহাসড়কে উপকূলের এই নিম্নআয়ের মানুষদের পেছনে ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শ্রমজীবী মানুষদের জীবনের নিরাপত্তা, সন্তানদের নিয়মিত শিক্ষা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে কাজের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া—যাতে বেঁচে থাকার তাগিদে উপকূলের মানুষকে আর দূরদূরান্তে কঠিন প্রবাস জীবনযাপন করতে না হয়।

Ads small one

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বনদস্যুদের নির্যাতন, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন লিটন।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ বনের ওপর নির্ভর করে হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের ভয় ও নির্যাতনের কারণে তাঁদের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সুন্দরবনে কাজ করতে গিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তাঁরা আরও বলেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে শুধু প্রতিবাদ সভা নয়, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সভায় বনজীবীদের নিরাপত্তা ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবিকা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শেখ নুরুল হক নুরু (৭৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুলতানপুর এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি মরহুম শেখ আনোয়ারুল হকের বড় পুত্র এবং দুই ছেলে, ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

মরহুমের নামাজের জানাজা রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সুলতানপুর ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

 

সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থাপনাটির খাবার পানির পুকুর, চারপাশের সরকারি খাল, গাছপালা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসা নদীভাঙন এবং লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম উৎসটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০০৩ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় গাবুরা এলাকার খাবার পানির সংকট নিরসন ও সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইকোপার্কের আদলে ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে এটি দক্ষিণ উপকূলের একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটিতে উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি।

গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নত সড়ক নির্মিত হলেও খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত এ স্থাপনাটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জোয়ারের লবণাক্ত পানি স্থাপনার ভেতরে প্রবেশের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খাবার পানির পুকুরের পাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পুকুরটি প্লাবিত হয়। এতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পান করার অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় সমগ্র গাবুরা প্লাবিত হলে এলাকার অধিকাংশ খাবার পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার পুকুরটি এলাকার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বহু পরিবার এ পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ঝুঁকিতে সেই পানির উৎসও সংকটের মুখে পড়েছে।

উপকূলীয় জনপদ গাবুরায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানকার মানুষের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির পুকুর ও আশপাশের অবকাঠামো রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি নষ্ট হয়ে গেলে কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহে আরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থাপনাটির চারপাশের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও পুকুরের পাড় সংস্কার, লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ, সরকারি খাল পুনঃখনন এবং গাছপালা ও অন্যান্য অবকাঠামো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থাপনাটিকে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে শুধু একটি দৃষ্টিনন্দন সরকারি স্থাপনাই নয়, উপকূলের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎসও হারিয়ে যেতে পারে। তাই নদীভাঙন ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।