রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদকর্মী থেকে গণমাধ্যম উদ্যোক্তা-সাংবাদিক শেখ আমিনুর হোসেনের কর্ম ও সমাজভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
সংবাদকর্মী থেকে গণমাধ্যম উদ্যোক্তা-সাংবাদিক শেখ আমিনুর হোসেনের কর্ম ও সমাজভাবনা

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল

সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতারও এক অনন্য মাধ্যম। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অসঙ্গতির চিত্র তুলে ধরা, নিপীড়িত মানুষের কথা বলা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে একজন সাংবাদিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই দায়িত্ববোধ ও পেশাগত নিষ্ঠাকে ধারণ করে দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতায় কাজ করে আসছেন সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিক শেখ আমিনুর হোসেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থেকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে রিপোর্টিং, সম্পাদনা, সাংগঠনিক কর্মকা- এবং গণমাধ্যম পরিচালনাÑসাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকা-েও তার সম্পৃক্ততা তাকে সাতক্ষীরার নাগরিক সমাজের একটি পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা তার কর্মজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

সাংবাদিকতায় পথচলার শুরু: শেখ আমিনুর হোসেনের সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা ২০০০ সালে। খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পাঠকের কাগজে সদর থানা প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সাংবাদিকতায় আত্মপ্রকাশ করেন। সেই সময় সাতক্ষীরার স্থানীয় সংবাদ, জনজীবনের সমস্যা, প্রশাসনিক কর্মকা-, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নানা প্রত্যাশার বিষয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তার পেশাগত পথচলা শুরু হয়।

শুরু থেকেই সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একজন সংবাদকর্মীর জন্য স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া, তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার পেশাগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতায় তার দায়িত্ব ও পরিধিও বাড়তে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধি থেকে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান। একপর্যায়ে তিনি সাতক্ষীরার সংবাদপেশায় পরিচিত ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন: শেখ আমিনুর হোসেন বর্তমানে দৈনিক তৃতীয় মাত্রার সাতক্ষীরা ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি তিনি সংবাদ দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল আওয়ার নিউজবিডি, আইনিউজবিডি, কাল মহাকাল, দিগন্তের কাগজে সিনিয়র প্রতিবেদক হিসেবেও কাজ করছেন। সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতক্ষীরার সকাল-এর চিফ রিপোর্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

একজন সাংবাদিকের পেশাগত দক্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হলো বিভিন্ন ধরনের সংবাদ নিয়ে কাজ করার সক্ষমতা। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংবাদ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ, সামাজিক সমস্যা, সংস্কৃতি ও মানবিক নানা বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

স্থানীয় সংবাদকে আঞ্চলিক ও জাতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। সাতক্ষীরার বিভিন্ন ঘটনা, সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানুষের প্রত্যাশা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ দায়িত্ব পালনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন।

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মেইল ২৪.নিউজ-এর সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়, খুলনা ও যশোরের আঞ্চলিক এবং ঢাকার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকেও তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকতা করেছেন বলে জানা যায়।

গণমাধ্যম পরিচালনায় নতুন অভিজ্ঞতা: শুধু সংবাদ সংগ্রহ বা রিপোর্টিংয়ের মধ্যেই তার সাংবাদিকতা সীমাবদ্ধ থাকেনি। গণমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রেও তিনি নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন। তিনি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেশ টাইমস ২৪.নিউজ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক।

বর্তমান সময়ে সংবাদপত্রের পাশাপাশি অনলাইন গণমাধ্যম মানুষের সংবাদ গ্রহণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দ্রুত সংবাদ প্রকাশ, তাৎক্ষণিক আপডেট এবং পাঠকের কাছে সহজে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতায় নিজস্ব সংবাদমাধ্যম পরিচালনার মাধ্যমে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে নতুন পরিসরে কাজে লাগাচ্ছেন শেখ আমিনুর হোসেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে একটি সংবাদমাধ্যমের নীতি নির্ধারণ, সংবাদ নির্বাচন, রিপোর্টিং কাঠামো, সম্পাদনা এবং সামগ্রিক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার। ফলে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতার পাশাপাশি সংবাদ ব্যবস্থাপনারও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।

সাংবাদিক সংগঠনে নেতৃত্ব: পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সাংগঠনিক কর্মকা-েও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে শেখ আমিনুর হোসেনের। তিনি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য।
এছাড়া তিনি সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনটির নিবন্ধন নম্বর ৫৮৩/০৪। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সাংগঠনিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো সাধারণত পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সংগঠনের দায়িত্ব পালন তার কর্মজীবনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

সাংবাদিকতার বাইরে সমাজসেবার বিস্তৃত পরিসর: শেখ আমিনুর হোসেনের কর্মপরিধি শুধু সাংবাদিকতা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি নলকুড়া দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নলকুড়া কাসিমুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকা স্থানীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের শিক্ষা, নৈতিক বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, তার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ রয়েছে তার।

মানবিক কর্মকা-ের ক্ষেত্রেও রয়েছে তার সম্পৃক্ততা। তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সাতক্ষীরা ইউনিটের আজীবন সদস্য। দুর্যোগ, মানবিক সংকট ও বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে রেড ক্রিসেন্টের কার্যক্রম দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের একটি মানবিক সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা তার সামাজিক কর্মকা-ের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকা-েও সক্রিয়: সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সাতক্ষীরা জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদের সদস্য এবং সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

সংস্কৃতি একটি সমাজের মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে ধারণ করে। সাংবাদিকতার মাধ্যমে যেমন সমাজের বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়, তেমনি সাংস্কৃতিক কর্মকা- মানুষের সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখে। সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির এই দুই ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তার কর্মজীবনকে বহুমাত্রিক করেছে।

তিনি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সমাজের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কর্মকা- সম্পর্কেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে তার।

তরুণদের সংগঠিত করতে উদ্যোগ: স্থানীয় তরুণদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও তার উদ্যোগ রয়েছে। তিনি নলকুড়া তরুণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।
একটি এলাকার তরুণদের সংগঠিত করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ে যুক্ত করার উদ্যোগ স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকা- থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংগঠনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

নলকুড়া তরুণ সংঘের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাও এ ধরনের সামাজিক কর্মকা-ের একটি অংশ। একই সঙ্গে তিনি নলকুড়া নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতা, সামাজিক সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

শেখ আমিনুর হোসেনের শিকড় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩ নম্বর লাবসা ইউনিয়নের নলকুড়া গ্রামে। একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তার বাবা শেখ আজাদ হোসেন এবং মাতা মোছা. আয়শা খাতুন।

চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন মানুষের জন্য স্থানীয় সমাজ, মানুষের জীবনযাপন ও নানা সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয় তার পরবর্তী জীবনের কর্মধারায় প্রভাব ফেলতে পারে। সাংবাদিকতা জীবনে স্থানীয় মানুষের জীবন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও নিজের শিকড়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

নলকুড়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল জন্মসূত্রের নয়; সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়েও তিনি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

পেশার প্রতি দায়িত্ববোধ: সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে প্রতিদিনই নতুন ঘটনা, নতুন তথ্য ও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। একটি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ, ঘটনার প্রেক্ষাপট বোঝা এবং পাঠকের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার দায়িত্ব সাংবাদিকের ওপর থাকে।

দীর্ঘ সময় ধরে এই পেশায় থাকার কারণে শেখ আমিনুর হোসেনের সাংবাদিকতা জীবনে বিভিন্ন সময়ের পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছে। প্রিন্টনির্ভর সংবাদমাধ্যমের সময় থেকে বর্তমানের দ্রুতগতির অনলাইন সাংবাদিকতাÑগণমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি।

একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা এবং স্থানীয় সংবাদকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়েও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সম্মাননা ও স্বীকৃতি: দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকা-ের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন শেখ আমিনুর হোসেন।

২০২০ সালে এবং ২০২৪ সালের শেষদিকে তাকে বিশেষ ও আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এসব সম্মাননা তার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি বিভিন্ন সংগঠন ও মানুষের স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ।
তবে একজন মানুষের কর্মজীবনের প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু পুরস্কার বা সম্মাননার সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘ সময় ধরে একটি পেশায় দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাওয়া, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং নিজের কর্মের মাধ্যমে সমাজে ভূমিকা রাখার ধারাবাহিকতাই একজন পেশাজীবীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে ওঠে।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে সাংবাদিকতা, বদলায়নি দায়বদ্ধতা: গত দুই দশকের বেশি সময়ে সাংবাদিকতার ধরন অনেক বদলে গেছে। একসময় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট সময়, মুদ্রণপ্রক্রিয়া এবং পত্রিকা প্রকাশের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের কারণে মুহূর্তেই একটি সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

এই পরিবর্তনের ফলে সাংবাদিকদের দায়িত্বও বেড়েছে। দ্রুততার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে পাঠককে সুরক্ষা দেওয়া এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ আমিনুর হোসেনের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন এই পরিবর্তনশীল সময়েরই একটি প্রতিচ্ছবি। স্থানীয় সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে শুরু করে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল পদে কাজ করা এবং পরবর্তীতে নিজেই একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তার পেশাগত পথচলার ধারাবাহিক পরিবর্তনকে তুলে ধরে।

বহুমাত্রিক পরিচয়ের মানুষ: শেখ আমিনুর হোসেনকে শুধু একজন সাংবাদিক হিসেবে দেখলে তার কর্মপরিধির একটি অংশই সামনে আসে। সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম পরিচালনা, সাংবাদিক সংগঠন, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, তরুণদের সংগঠন এবং সামাজিক কর্মকা-Ñবিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

একজন পেশাজীবীর সামাজিক পরিচয় যখন পেশার সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের কল্যাণমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার কর্মপরিধিও বিস্তৃত হয়। শেখ আমিনুর হোসেনের দীর্ঘ পথচলায় সেই বহুমাত্রিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।

সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পাশাপাশি তিনি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছেন; সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন; ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন; মানবিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন এবং স্থানীয় তরুণদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

সামনে আরও দীর্ঘ পথ: সাংবাদিকতা একটি চলমান পেশা। প্রতিদিন নতুন ঘটনা, নতুন প্রশ্ন ও নতুন বাস্তবতার জন্ম হয়। সেই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একজন সাংবাদিককে নিজেকেও প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে হয়।

দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় সমাজ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে শেখ আমিনুর হোসেন এখনও সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকা-ে সক্রিয়। তার কর্মজীবনের পরবর্তী অধ্যায়েও সংবাদপেশার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের জন্য বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকা-ে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।

একটি কলম কখনো শুধু সংবাদ লেখে না; মানুষের কথা বলে, সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে এবং কখনো কখনো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে আনে। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সেই কলমকেই পেশার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন শেখ আমিনুর হোসেন।

সাতক্ষীরার নলকুড়া গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে উঠে এসে সাংবাদিকতার মাঠে পা রাখা, স্থানীয় প্রতিনিধি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন, নিজস্ব অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশক হওয়া এবং একই সঙ্গে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে যুক্ত থাকাÑতার কর্মজীবনের এই দীর্ঘ পথচলা নিঃসন্দেহে বহুমাত্রিক।

তার জীবন ও কর্মের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেÑসাংবাদিকতা তার কাছে শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকার, সমাজের কথা বলার এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী জনকল্যাণে ভূমিকা রাখার একটি ক্ষেত্র। সেই পথচলায় অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দায়িত্ব, আর দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দায়িত্ব ও সামাজিক সম্পৃক্ততার সমন্বয়ে শেখ আমিনুর হোসেন সাতক্ষীরার গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতেও সেই অভিজ্ঞতা ও কর্মস্পৃহা সাংবাদিকতা এবং সমাজসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেÑএমন প্রত্যাশা তার সহকর্মী, শুভাকাক্সক্ষী ও পরিচিতজনদের।

লেখক: সাংবাদিক, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী

Ads small one

মৃত্যুর পরে মানুষ ভালো বললে তবেই আমি ভালো মানুষ: জেলা জজ নজরুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
মৃত্যুর পরে মানুষ ভালো বললে তবেই আমি ভালো মানুষ: জেলা জজ নজরুল ইসলাম

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, “প্রতিটি মৃত্যু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়Ñএই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়। মৃত্যুর পরে মানুষ যদি আমাকে ভালো বলে, তবেই আমি ভালো মানুষ।”

রোববার (৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য প্রয়াত আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদারের স্মরণে আয়োজিত ফুলকোর্ট রেফারেন্স অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব আইনজীবী মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. জাকারিয়া হোসেন, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবু বক্কার সিদ্দিক ও ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারকসহ জেলা বিচার বিভাগের অন্যান্য বিচারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক আইনজীবী বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু, সাবেক সভাপতি আইনজীবী আব্দুল মজিদ, জিপি আইনজীবী অসীম কুমার ম-ল ও আইনজীবী রঘুনাথ ম-ল। প্রয়াত আইনজীবীর আত্মার শান্তি কামনায় ধর্মীয় গ্রন্থ গীতা পাঠ করেন সিনিয়র আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র বল্লভ।

মৃত্যুর আগে প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবন ও কর্মকে মূল্যায়ন করা উচিত উল্লেখ করে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, নিজের মধ্যে ভালো গুণের কোনো ঘাটতি থাকলে সময় থাকতেই তা পূরণ করতে হবে। প্রয়াত আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদারের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “তিনি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। তিনি নিরহংকার ছিলেন এবং কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। তাঁর এই বিনয়ী ও মার্জিত আচরণের কারণেই আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।”

বক্তারা বলেন, আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদার ছিলেন একজন দক্ষ, বিনয়ী ও সদালাপী মানুষ। সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে আইনজীবী অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত সনাতন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে ফুলকোর্ট রেফারেন্স শেষে দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সমিতির হলরুমে প্রয়াত আইনজীবী নিরোধ কুমার মজুমদারের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির আহ্বায়ক আইনজীবী বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু।

রাজধানীতে চালের বস্তায় মিললো ১৩২ বোতল ফেন্সিডিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে চালের বস্তায় মিললো ১৩২ বোতল ফেন্সিডিল

পত্রদূত রিপোর্ট: চালের বস্তার মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে পরিবহনের সময় ১৩২ বোতল ফেন্সিডিলসহ মো. ইমরান খান (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী বাগবাড়ীর সড়কে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় যাওয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তল্লাশি করা হয়।

এ সময় চালের বস্তার মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৩২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এছাড়া ৪৫ কেজি চাল, একটি বাসের টিকিট ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ইমরান খান বর্তমানে ঢাকার গুলশান এলাকায় বসবাস করেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দারুস সালাম থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে মাদকের অবৈধ পরিবহন, সরবরাহ ও বিস্তারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালায় গ্রাম পুলিশের উপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
তালায় গ্রাম পুলিশের উপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার অভিযোগ

‎‎তালা প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরার তালায় মাদকের তথ্য পুলিশকে দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে মারধর ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সোহেল শেখ (৩৪) তালা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

‎‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে উপজেলার হাজরাকাটি বাজারে চায়ের দোকানের সামনে বিল্লাল বিশ্বাস, ফারুক বিশ্বাস ও হযরত সরদার স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সোহেল শেখকে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে তাকে জখম করা হয়। পরে তিনি তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

‎‎সোহেল শেখ ১২ নং খলিলনগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জেরে এ হামলা। এর আগে তার সহযোগিতায় আটারই গ্রামের মিলন ও হাজরাকাটির মুস্তাইন ইয়াবাসহ আটক হয়েছিল।

‎‎ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হযরত বিশ্বাসের কোনো দোকান না থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত বাজারে বসে প্রশাসনের গতিবিধির ওপর নজর রাখেন।‎‎ তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।