পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা আদালত ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের একটি বড় অংশ ধ্বসে পড়েছে। সম্প্রতি রাতে আদালতের সিএসআই অফিস কক্ষের ছাদ ধ্বসে পড়ে। শুধু তাই নয়, বর্ষা মৌসুম এলে ছাদে পলিথিন ও ত্রিফল দিয়ে চালাতে হয় অফিসের কার্যক্রম।
আদালত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের বেশ কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি অংশ ধ্বসে পড়ায় পুরো ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাতে ছাদ ধ্বসে পড়ার সময় বিকট শব্দ হয়। শব্দ শুনে আদালতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাঁরা দেখতে পান, ছাদের ভেঙে পড়া অংশ কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ছাদের পলেস্তারা ও নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ নিচে পড়ে যায়। তবে দিনের বেলায় আদালতের কার্যক্রম চলার সময় ছাদ ধ্বসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পাইকগাছা চৌকি আদালতে প্রতিদিন বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতি থাকে। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে কক্ষগুলোতে মানুষের উপস্থিতিও থাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাতের পরিবর্তে দিনের বেলায় ছাদ ধ্বসের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। ধ্বসে পড়া ছাদের নিচে কেউ থাকলে গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানীরও আশঙ্কা ছিল। আদালতের সিএসআই মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ছাদ ধ্বসে পড়ার ঘটনা দিনের বেলায় ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো। এমনকি ছাদের ভেঙে পড়া অংশ তাঁর মাথার ওপর পড়ার আশঙ্কাও ছিল।
আদালত সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, খুলনা জেলার দুর্গম এলাকা হিসেবে ১৯৮৩ সালে পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশে এখন জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। দেয়াল ও ছাদে ফাটলসহ বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এড. আব্দুস সাত্তার বলেন, “আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। ছাদসহ বেশ কয়েকটি অংশ ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন আদালতে বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিভিন্ন মামলার বিচারপ্রার্থীরা আসেন। ফলে ভবনের কোনো অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজেুক যে, বর্ষা মৌসুম এলে ছাদের উপর পলিথিন ও ত্রিফল দিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।”
আদালতে সেবা নিতে আসা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি অংশ ধ্বসে পড়ার পর বিষয়টিকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুরো ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছাদ ও দেয়ালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।”
আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার করা অথবা ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ার পরও যদি ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য অংশে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা কর্মচারী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।