বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্বের প্রথম ব্যক্তিগত এআই মডেল ‘মিউজ’ নিয়ে আসলো মেটা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
বিশ্বের প্রথম ব্যক্তিগত এআই মডেল ‘মিউজ’ নিয়ে আসলো মেটা

শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, মানুষের হয়ে বিভিন্ন কাজও করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এমনই একটি ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘মিউজ’ উন্মোচন করেছে মেটা। এটি ব্যবহারকারীর লক্ষ্য পূরণে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করবে, বিভিন্ন পরামর্শ দেবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজে থেকেই কাজ এগিয়ে নেবে।

মেটার নতুন এই এআই এজেন্টটি তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে। মিউজ পরিচালিত হবে ‘মিউজ সিকিউর ভিএম’ নামের একটি বিশেষ ভার্চুয়াল মেশিনে, যেখানে এজেন্ট ও ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। মিউজ অ্যাপ বা সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অন্য কারও সঙ্গে মেসেজ চালাচালির মতো করেই এর সঙ্গে কথা বলা যাবে।

মিউজকে কাজ দিতে শুধু কী করতে হবে তা জানালেই হবে। এরপর ‘মিউজ স্পার্ক’ মডেলের মাধ্যমে সেটি কাজ শুরু করবে। মেটার দাবি, এটি তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সক্ষম মডেল, যা বাস্তব জীবনের এজেন্টভিত্তিক কাজের জন্য তৈরি।

কীভাবে কাজ করবে মিউজ

অন্যান্য এজেন্টের তুলনায় মিউজ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়াই যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারেন। ই-মেইল পাঠানো বা ভ্রমণ বুকিংয়ের মতো সাধারণ কাজের পাশাপাশি বড় কোনও লক্ষ্য পূরণেও এটি সহায়তা করতে পারবে।

কোনও লক্ষ্য জানালে মিউজ ব্যক্তির জন্য একটি নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করবে, সময় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ সমন্বয় করবে এবং এরপর নিজে থেকেই কাজ এগিয়ে নেবে। এটি ব্রাউজার খুলতে, বিভিন্ন ফর্ম পূরণ করতে এবং ব্যবহারকারীর হয়ে দর-কষাকষিও করতে পারবে।

কোনও কাজ শেষ হতে সময় লাগলে অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও মিউজ কাজ চালিয়ে যাবে। পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে বা ই-মেইল পাঠানো কিংবা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজের আগে অনুমতির প্রয়োজন হলে এটি আবার ব্যবহারকারীর কাছে ফিরে আসবে।

মিউজ কম পরিশ্রমে আরও ভালো ফল পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে। যেমন গাড়ি বেশি দামে বিক্রি করা, কোনও বিল কমানো কিংবা জীবনের অন্যান্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা বদলে দেওয়া।

নিজেকে দেখতে চান আশির দশকে? ছবি বানাবেন যেভাবেনিজেকে দেখতে চান আশির দশকে? ছবি বানাবেন যেভাবে
অনলাইন কেনাকাটাতেও মিউজ

কেনাকাটার সময় মিউজ স্ট্রাইপের তৈরি ‘লিংক’ ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবে। মেটার দাবি, লিংক-এর ক্রয় সুরক্ষা সুবিধার আওতায় থাকা প্রথম এআই এজেন্ট মিউজ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারিয়ে যাওয়া পণ্যের জন্য বিনামূল্যে সুরক্ষা, দাম কমে গেলে সুবিধা, অতিরিক্ত ফি ছাড়া ফেরত এবং যোগ্য পণ্যে রিটার্ন গ্যারান্টির মতো সুবিধা রয়েছে।

লিংক-এর এজেন্ট ওয়ালেট একবার ব্যবহারযোগ্য কার্ড তৈরি করবে। ফলে ব্যবহারকারীর আসল কার্ডের তথ্য গোপন থাকবে। শিগগিরই আরেকটি পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে ‘শপ পে’ এবং আগে থেকে থাকা লগইন ব্যবহারের জন্য ‘ওয়ানপাসওয়ার্ড’ সমর্থনও যুক্ত হবে।

মিউজ ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখবে। ফলে ব্যবহারকারী নতুন করে নির্দেশ না দিলেও এটি বিভিন্ন পরামর্শ দিতে পারবে এবং আগে একবার বলা তথ্য কাজে লাগাতে পারবে।

উদাহরণ হিসেবে, ইনস্টাগ্রামে সংরক্ষণ করা কোনও রেসিপির রিল থেকে এটি বাজারের তালিকা তৈরি করতে পারবে, ডিনার পার্টির জন্য মেনু সাজেস্ট করতে পারবে এবং অতিথিদের খাবারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ মনে রেখে আমন্ত্রণ পাঠানোর আগে তা বিবেচনায় নিতে পারবে।

নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

ব্যক্তিগত এআই এজেন্টের জন্য নতুন ধরনের নিরাপদ কম্পিউটার প্রয়োজন উল্লেখ করে মেটা ‘মিউজ সিকিউর ভিএম’ তৈরি করেছে। মেটার দাবি, এতে গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

মিউজ ক্লাউডে নিজস্ব একটি আলাদা কম্পিউটারে চলবে। এটি এমনভাবে বিচ্ছিন্ন থাকবে, যাতে অন্য কোনও ব্যবহারকারীর এজেন্ট সেখানে পৌঁছাতে না পারে। ব্যবহারকারীর সংযুক্ত বিভিন্ন সেবার তথ্য ও পরিচয় যাচাইয়ের তথ্যও সেখানে নিরাপদে সংরক্ষিত থাকবে।

একই কম্পিউটারে ‘সেন্টিনেল’ নামে আলাদা একটি এজেন্ট কাজ করবে, যা সিস্টেম পর্যায়ে মিউজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। সেন্টিনেল অনুমোদন না করলে মিউজের কোনও কাজই ইন্টারনেটে পৌঁছাতে পারবে না। প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর অনুমতিও চাইবে এটি।

মিউজ ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট পদ্ধতি দেখতে পারবে না। শেয়ার করা পরিচয় যাচাইয়ের তথ্য নিরাপদ সংরক্ষণে রাখা হবে, যাতে মিউজ সেগুলো না দেখেই ব্যবহার করতে পারে।

ই-মেইল পাঠানো বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজের আগে মিউজ ব্যবহারকারীর অনুমতি নেবে। একই সঙ্গে এটি এখন পর্যন্ত কী করেছে এবং সামনে কী করতে চায়, তার পূর্ণ অডিট ট্রেইল দেখাবে।

কোন কোন অ্যাপের সঙ্গে মিউজ যুক্ত হবে এবং কতটা প্রবেশাধিকার পাবে, তা ব্যবহারকারীই নির্ধারণ করবেন। ই-মেইলের ক্ষেত্রে মিউজ শুধু মেইল পড়বে, নাকি ব্যবহারকারীর হয়ে মেইলও পাঠাতে পারবে- সেটিও ঠিক করে দেওয়া যাবে।

যেকোনও সময় প্রবেশাধিকার পরিবর্তন বা কোনও সেবা বিচ্ছিন্ন করা যাবে। মেটার এআই মডেল প্রশিক্ষণে নিজেদের কথোপকথন ব্যবহার না করার সুযোগও থাকবে ব্যবহারকারীদের।

মিউজ ব্যবহারকারীর কথোপকথন বা তাদের ভার্চুয়াল মেশিনে থাকা তথ্য মেটার বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার সঙ্গে শেয়ার করবে না। আবার মিউজ যে তথ্য মনে রেখেছে, ব্যবহারকারী চাইলে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য ‘ভুলে যেতে’ বলতেও পারবেন।

চলতি বছরের শেষের দিকে ‘মিউজ কনফিডেনশিয়াল ভিএম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে মেটার। এতে ব্যবহারকারীর তথ্য ও মিউজের সঙ্গে কথোপকথনসহ পুরো ভার্চুয়াল মেশিন এমন একটি চাবি দিয়ে এনক্রিপ্ট করা হবে, যা শুধু ব্যবহারকারীর কাছে থাকবে। ফলে মেটাও এসব তথ্য দেখতে পারবে না।

কোথায় চালু হচ্ছে মিউজ

মেটার পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিউজ যুক্তরাষ্ট্রে আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও মিউজ.এআইতে চালু হচ্ছে। শিগগিরই এটি এআই-চালিত চশমাতেও আসবে।

অধিকাংশ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য মিউজ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। তবে আরও বেশি সুবিধা নিতে চাইলে সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান থাকবে।

মেটার মতে, ব্যক্তিগত সুপারইন্টেলিজেন্স ভবিষ্যতে মানুষের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। মিউজ সেই লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ- যার মাধ্যমে এআই মানুষের আরও বেশি কাজের দায়িত্ব নেবে, যাতে তারা নিজেদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।

সূত্র: মেটা

Ads small one

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সারা দেশের ন্যায় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের পূজামন্ডপ গুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীরা। খড়, কাঠ, বাঁশ আর কাদা-মাটি দিয়ে তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ।

খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীদের প্রতিমা তৈরির প্রধান ধাপগুলো হলো; মাটির কাজ শুরুর আগে বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো বা অবয়ব তৈরি করা। কাঠামোর ওপর নিখুঁতভাবে কাদা-মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটির কাজ শুকিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় ফিনিশিং ও রঙের কাজ। শিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের মূর্তিকে ফুটিয়ে তোলেন। প্রতিমা মন্ডপে নেওয়ার আগে কাপড়, গয়না এবং বিভিন্ন সাঁজ দিয়ে দেবী প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়।

পাইকগাছা উপজেলায় ১৫৪টির মতো পুজা মন্দির বা মন্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি চলছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের পূজামন্ডপ গুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাইকগাছার বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। ভাস্কার বা কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব ঘিরে পাইকগাছায় প্রতিমা তৈরিতে কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলে হয়ে উঠছে অপরূপ। এখন খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে মন্দিরগুলোতে চলছে প্রস্তুতি।

 

 

ঝাউডাঙ্গায় বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝাউডাঙ্গায় বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি’র কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

ইউনিয়ন বিএনপির সকল নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ নম্বর ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মীকে একত্রভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পাইকগাছা আদালত ভবন বেহাল, বর্ষা এলে ছাদে পলিথিন দিয়ে চালাতে হয় অফিস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা আদালত ভবন বেহাল, বর্ষা এলে ছাদে পলিথিন দিয়ে চালাতে হয় অফিস

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা আদালত ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের একটি বড় অংশ ধ্বসে পড়েছে। সম্প্রতি রাতে আদালতের সিএসআই অফিস কক্ষের ছাদ ধ্বসে পড়ে। শুধু তাই নয়, বর্ষা মৌসুম এলে ছাদে পলিথিন ও ত্রিফল দিয়ে চালাতে হয় অফিসের কার্যক্রম।

আদালত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের বেশ কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি অংশ ধ্বসে পড়ায় পুরো ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাতে ছাদ ধ্বসে পড়ার সময় বিকট শব্দ হয়। শব্দ শুনে আদালতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাঁরা দেখতে পান, ছাদের ভেঙে পড়া অংশ কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ছাদের পলেস্তারা ও নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ নিচে পড়ে যায়। তবে দিনের বেলায় আদালতের কার্যক্রম চলার সময় ছাদ ধ্বসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পাইকগাছা চৌকি আদালতে প্রতিদিন বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতি থাকে। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে কক্ষগুলোতে মানুষের উপস্থিতিও থাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাতের পরিবর্তে দিনের বেলায় ছাদ ধ্বসের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। ধ্বসে পড়া ছাদের নিচে কেউ থাকলে গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানীরও আশঙ্কা ছিল। আদালতের সিএসআই মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ছাদ ধ্বসে পড়ার ঘটনা দিনের বেলায় ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো। এমনকি ছাদের ভেঙে পড়া অংশ তাঁর মাথার ওপর পড়ার আশঙ্কাও ছিল।

আদালত সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, খুলনা জেলার দুর্গম এলাকা হিসেবে ১৯৮৩ সালে পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশে এখন জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। দেয়াল ও ছাদে ফাটলসহ বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এড. আব্দুস সাত্তার বলেন, “আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। ছাদসহ বেশ কয়েকটি অংশ ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন আদালতে বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিভিন্ন মামলার বিচারপ্রার্থীরা আসেন। ফলে ভবনের কোনো অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজেুক যে, বর্ষা মৌসুম এলে ছাদের উপর পলিথিন ও ত্রিফল দিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।”

আদালতে সেবা নিতে আসা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি অংশ ধ্বসে পড়ার পর বিষয়টিকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুরো ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছাদ ও দেয়ালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।”

আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার করা অথবা ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ার পরও যদি ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য অংশে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা কর্মচারী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।