বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ অস্তিত্ব রক্ষার আকুতি: নদের নাব্য পুনরুদ্ধার ও অবৈধ বালু দস্যুতা রোধে চাই জরুরি পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ অস্তিত্ব রক্ষার আকুতি: নদের নাব্য পুনরুদ্ধার ও অবৈধ বালু দস্যুতা রোধে চাই জরুরি পদক্ষেপ

সাতক্ষীরা জেলায় বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে নদী বাঁচানোর যে সম্মিলিত সুর উচ্চারিত হয়েছে, তা কেবল আনুষ্ঠানিকতার অংশ নয়; বরং এ অঞ্চলের প্রকৃতি, জীবন ও জীবিকা রক্ষায় একটি অস্তিত্ব রক্ষার আকুতি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণবিন্দু কপোতাক্ষ, বেতনা, খোলপেটুয়া, মরিচ্চাপ ও ইছামতির মতো নদীগুলো আজ পলি জমাকরণ, অবৈধ দখল ও ভয়াবহ দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। অপরিকল্পিত পরিকাঠামো নির্মাণ এবং নদীকেন্দ্রিক সমন্বিত ধারণার অভাবে বহু নদী ইতিমধ্যেই তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে বদ্বীপে রূপ নিচ্ছে। এর সরাসরি কুফল পড়ছে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য সম্পদ এবং ভূপ্রকৃতির ওপর; যা প্রতিনিয়ত তীব্র জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট বাড়িয়ে তুলছে।

নদীগুলোর এই প্রাকৃতিক দুর্দশার সঙ্গে যখন যোগ হয় মনুষ্যসৃষ্ট লোভ ও দস্যুতা, তখন পরিস্থিতি অতিমাত্রায় আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের যে খবর সামনে এসেছে, তা উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি। জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র নদীভাঙনের কারণে উপকূলবাসী যেখানে প্রতিদিন ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে থাকেন, সেখানে ড্রেজার দিয়ে রাতের অন্ধকারে অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই সাধারণ অপরাধ নয়; এটি সম্পূর্ণ উপকূলীয় এলাকাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার সামিল। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ স্পষ্ট নির্দেশ করেÑকৃষিজমি, বাঁধ বা জনবসতি হুমকির মুখে পড়লে কোনো অবস্থাতেই বালু তোলা যাবে না। অথচ প্রকাশ্যে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার করে ও প্রশাসনিক তদারকির আড়ালে এই নৈরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সাতক্ষীরার নদ-নদী রক্ষা না হলে কেবল জলপ্রবাহই বন্ধ হবে না, পুরো দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং, নদী বাঁচানোর পদক্ষেপকে কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এ নদী ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় সরকারকে সর্বাগ্রে বাস্তবমুখী ভূমিকা নিতে হবেÑ ১. আইন প্রয়োগ ও নৈশ অভিযান: খোলপেটুয়া নদীতে ড্রেজার চালক ও বালু চক্রের বিরুদ্ধে দিনে সতর্কতার পাশাপাশি রাতে ঝটিকা অভিযান জোরদার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

২. উচ্ছেদ ও নাব্য পুনরুদ্ধার: সরকারি নদী ও খালের অবৈধ দখল অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে এবং বৈজ্ঞানিক পন্থায় পলি অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবহমানতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
৩. সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা: জলাবদ্ধতা ও নোনা পানির আগ্রাসন প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ, গবেষক ও সিভিল সোসাইটিকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশবান্ধব দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নদী কোনো স্থাবর জমি নয়, এটি একটি প্রবাহমান জীবন্ত সত্তা। সাতক্ষীরার জীবন ও প্রকৃতি বাঁচাতে নদীগুলোকে দখল, দূষণ এবং বালু খেকো চক্রের হাত থেকে মুক্ত করা সময়ের প্রধান দাবি। অবিলম্বে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের নদীগুলোকে প্রবহমান রাখা হোকÑতবেই বাঁচবে উপকূল, বাঁচবে সাতক্ষীরা।

Ads small one

শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের নানান কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের নানান কর্মসূচি

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী), শিশু অধিকার দিবস এবং বিশ্ব শিশু সপ্তাহ ২০২৬ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আগামী ৬ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৬ অক্টোবর সকাল ৯টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকা থেকে একযোগে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শিশুরা এতে অংশ নেবে।

পরদিন ৭ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে খুলনা শিশু একাডেমিতে শিশুতোষ সাধারণ নৃত্য, দেশাত্মবোধকসংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক ও খ গ্রুপে সরাসরি অংশ নিতে পারবে। ৮ অক্টোবর সকাল ১১টায় আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে। তথ্যবিবরণী

খুলনায় পরিবেশ সুরক্ষায় ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় পরিবেশ সুরক্ষায় ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আলোচনা সভা

পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভা খুলনা পাবলিক কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে মাদকের বিস্তার রোধে জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে পরিবার থেকে সচেতনতা শুরু করা এবং সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে সরকারের পরিবেশ রক্ষাবিষয়ক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সবাইকে অংশ নেওয়ার তাগিদ দেন।
খুলনা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীর আব্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো: আহসানুর রহমান ও কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়। অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ এবং সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আইনজীবী শেখ অলিউল ইসলাম। তথ্যবিবরণী

সাতক্ষীরায় নতুন কর্মজীবনের পথে ১৯০ সহকারী শিক্ষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নতুন কর্মজীবনের পথে ১৯০ সহকারী শিক্ষক

 

সংবাদদাতা: হাতে নিয়োগপত্র, চোখে নতুন স্বপ্ন-শিশুদের আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সাতক্ষীরায় কর্মজীবন শুরু করলেন ১৯০ জন নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে যোগদানপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন তাঁরা। নতুন কর্মজীবনে প্রবেশের দিনটি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের। যোগদান শেষে বিভিন্ন উপজেলার নবনিযুক্ত শিক্ষকরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নবনিযুক্ত শিক্ষকদের উপজেলা পর্যায়ে ৪ থেকে ৮ অক্টোবর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। ১১ অক্টোবর তাঁদের বিদ্যালয়ে পদায়নের আদেশ দেওয়া হবে। পরদিন ১২ অক্টোবর তাঁরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন। নতুন শিক্ষকদের যোগদানের মধ্য দিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হলো ১৯০ জন নতুন শিক্ষক। তাঁদের হাত ধরেই বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের পাঠদান ও ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।