সম্পাদকীয়/ খাল উন্মুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসন: স্থানীয় উদ্যোগ থেকে স্থায়ী সমাধানের পথ
সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে বর্ষাকালে সামান্য ভারী বৃষ্টিপাত হলেই বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি তলিয়ে থাকে পানির নিচে। শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের শিমনখালী ও বুড়িগোয়ালিনী খালসহ অন্যান্য জলধারা দখল, নেট-পাটা দিয়ে বাঁধ দেওয়া এবং অবৈজ্ঞানিক ইজারা বা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে আজ এই বিপত্তি চরম আকার ধারণ করেছে। পাঁচ হাজার বিঘা কৃষি জমির জলনিষ্কাশন পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার ঘটনা কেবল কৃত্রিম সংকটের জলন্ত প্রমাণ নয়, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত।
এ অবস্থায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক গণশুনানিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্থানীয় জনগণ, সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধিদের মুখোমুখি বসে সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং তা সমাধানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস স্থানীয় শাসনের ইতিবাচক দিক প্রকাশ করে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জলধারা উন্মুক্তকরণ, নেট-পাটা উচ্ছেদ এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য রেজুলেশন গ্রহণের ঘোষণা উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন।
তবে কেবল আশ্বাস বা সাময়িক নেট-পাটা অপসারণের মধ্য দিয়েই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের অবসান সম্ভব নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, উচ্ছেদ অভিযানের কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায় উপকূলীয় খালগুলো। তাই প্রয়োজন আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে খালের ইজারা বা বন্দোবস্ত স্থায়ীভাবে বাতিল করা। পাশাপাশি, প্রতিটি খালের স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত পুনঃখনন অত্যন্ত জরুরি।
উপকূলের জীববৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার স্বার্থে এই দুটি খালসহ এলাকার সব জলধারাকে দখলমুক্ত ও উন্মুক্ত রাখা আবশ্যক। আমরা আশা করি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত উপজেলা সমন্বয় সভা ও জেলা প্রশাসনে অনুমোদিত হবে এবং প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে উপকূলীয় জলাশয়গুলোকে দখলমুক্ত করে কৃষি ও কৃষকের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।









