সম্পাদকীয়/চাউলখোলার কাঁচা পথ ও অর্ধশতাব্দীর উন্নয়ন-বঞ্চনা
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও দেশের সব প্রান্তে উন্নয়নের ছোঁয়া সমানভাবে পৌঁছায়নিÑসাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা গ্রাম তার এক স্পষ্ট বাস্তব চিত্র। এই গ্রামে আজ পর্যন্ত কোনো ইটের সড়ক নির্মিত হয়নি। যুগের পর যুগ ধরে এখানকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা কাঁচা মাটির পথ। বর্ষায় হাঁটুসম কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির মধ্য দিয়েই আক্ষরিক অর্থেই সংগ্রাম করে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
কপোতাক্ষ নদবেষ্টিত চাউলখোলা গ্রামের দুর্ভোগের চিত্র কেবল যাতায়াতের কষ্টে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা এখানকার সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। একদিকে নদের ভাঙনে বসতভিটা বিলীন হওয়ার আতঙ্ক, অন্যদিকে যোগাযোগের সুব্যবস্থা না থাকায় ইতোমধ্যে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে বসবাসরত প্রায় শতাধিক পরিবারের জন্য ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑযেমন মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা শিশুদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়াÑএকপ্রকার কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, বিদ্যমান কাঁচা সড়কগুলোর সুরক্ষাতেও কোনো পদক্ষেপ নেই। রাস্তার দুপাশ ভেঙে সরু হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে মাছের ঘেরে নদীর লবণপানি ওঠা-নামানোর ফলে সড়কের ক্ষয় ত্বরান্বিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক স্বার্থে সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংশ্লিষ্ট ঘের মালিকদের তা মেরামতে কোনো দায়বদ্ধতা দেখা যায় না, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।
একটি স্বাধীন দেশে বছরের পর বছর একটি গোটা গ্রাম ইটের সড়ক থেকে বঞ্চিত থাকবে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মূল দর্শন হলো ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’। অথচ চাউলখোলার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সেই বঞ্চনারই শিকার হয়ে আসছেন।
স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ সয়ে চলছেন। এখন সময় এসেছে তাঁদের এই ন্যায্য দাবির প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ ও নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আমাদের আহ্বান, চাউলখোলা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে অবিলম্বে সরেজমিন পরিদর্শন করে পাকা বা ইট বিছানো সড়ক নির্মাণের কার্যকর ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।












