সাতক্ষীরায় অপার সম্ভাবনাময় শুঁটকি শিল্প, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি
এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় মিঠাপানির মাছের শুঁটকি শিল্পে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি এখন কার্পজাতীয় ও অন্যান্য মিঠাপানির মাছের শুঁটকির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এখানে উৎপাদিত শুঁটকি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও রপ্তানি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সঠিক তদারকি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই এলাকার শুঁটকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
প্রতিবছর সাতক্ষীরায় কী পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদিত হয়, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান জেলা মৎস্য অধিদপ্তরে নেই। তবে স্থানীয় শুঁটকি উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের হিসাবমতে, বছরে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি তৈরি হয়। এসবের মধ্যে সিলভার কার্প, মৃগেল, বাটা, তেলাপিয়া ও পুঁটি মাছ উল্লেখযোগ্য। প্রতি মণ শুঁটকির পাইকারি বাজারমূল্য ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে জেলায় উৎপাদিত শুঁটকির আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ভারতের পাশাপাশি কার্পজাতীয় এসব মাছের শুঁটকি দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে একদিকে মাছচাষিরা যেমন ভালো দাম পাচ্ছেন, অন্যদিকে লাভবান হচ্ছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলার সাতটি উপজেলার ৬০ হাজার হেক্টর জমির প্রায় ৬৩ হাজার জলাশয়ে (পুকুর, ঘের, খাল ইত্যাদি) মিঠাপানির মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হিসাবে যার আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম জানান, কার্পজাতীয় মাছের শুঁটকি উৎপাদনে সাতক্ষীরায় বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জেলায় প্রতিবছর প্রচুর মিঠাপানির মাছ উৎপাদিত হয়, যা ব্যবহার করে বড় পরিসরে শুঁটকি তৈরি ও বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।
তালা উপজেলার ত্রিশমাইল এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ী নিপেন দাস ও খামার মালিক রমেশ চন্দ্র খা জানান, তাঁরা দুই বছরের বেশি সময় ধরে শুঁটকির আড়ত পরিচালনা করছেন। তাঁরা প্রতি মাসে প্রায় চার হাজার কেজি শুঁটকি তৈরি করেন।
অন্যদিকে বিনেরপোতা এলাকার স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী কম দামের ছোট তেলাপিয়া মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন। এসব শুঁটকি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পোলট্রি ও মৎস্য ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়।
বিনেরপোতা এলাকার আরেক শুঁটকি উৎপাদনকারী সাধন চন্দ্র রায় জানান, চার বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন এবং বেতনা নদীর তীরে তাঁর খামারে প্রতি মাসে প্রায় আট হাজার কেজি শুঁটকি উৎপাদন করেন। বাজার থেকে সিলভার কার্প, মৃগেল, বাটা, তেলাপিয়া ও পুঁটি কিনে শুকানো হয়। এসব শুঁটকি মূলত চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গের সৈয়দপুরে পাঠানো হয়।
শুঁটকির আড়তদার সাহাবুদ্দিন জানান, সাতক্ষীরার বিভিন্ন খামার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে শুঁটকি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন তাঁরা।









