সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় কুরবানির বাজারের চমক ‘লাল বাহাদুর’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কুরবানির বাজারের চমক ‘লাল বাহাদুর’

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটি বিশাল আকৃতির গরু-‘লাল বাহাদুর’। ব্যতিক্রমী আকার ও দৃষ্টিনন্দন গড়নে ইতোমধ্যেই ক্রেতাদের নজর কেড়েছে এই গরুটি।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার কোমরপুর খামারবাড়িতে লালন-পালন করা হয়েছে ‘লাল বাহাদুর’ নামের এই গরুটি। কয়েক বছর ধরে যতœ আর বিশেষ খাবারে বড় করা হয়েছে তাকে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফার প্রচেষ্টায় কোমরপুর এলাকায় গড়ে তোলা হয় এই খামারটি। যেখানে ৪টি পরিবারের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। খামারে কর্মরত এসব ব্যক্তিরা গরু দেখভাল করে তাদের পরিবার নির্বাহ করে আসছেন কয়েকবছর ধরে।

খামারে নিয়োজিত কর্মচারীরা জানালেন, প্রাকৃতিক খাবার ও যতেœই বড় করা হয়েছে এই খামারের সকলগরু। এখানে কোনো ধরনের ক্ষতিকর খাবার বা কোন কিছু ব্যবহার করা হয়নি। খড়, খাস, গমের ভূসি, ভুট্টা খাওয়ানো হয় এই খামারের গরুকে। ফলে এসব গরু দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মত।

খামারে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক কর্মচারী জানালেন, এখানে ২শ টি গরুর জন্য খামার তৈরী করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি কুরবানির জন্য বিক্রি উপযোগী গরু রয়েছে। যার মধ্য আকর্ষণীয় লাল বাহাদুর। যার দাম ৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২/৩ লাখ টাকার মধ্যে দাম চাওয়া হচ্ছে বাকি গরুর।

এদিকে, কুরবানির ঈদ ঘিরে বিশাল আকৃতি আর আকর্ষণীয় গড়নের কারণে ‘লাল বাহাদুর’ এখন সাতক্ষীরার কুরবানির বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দাম নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন এর ক্রেতা-সেদিকেই নজর সবার।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এফ.এম. মান্নান কবীর বলছেন, জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও কুরবানির বাজারে বড় গরু নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ। ‘লাল বাহাদুর’ কত দামে বিক্রি হয়-এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

 

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ হিজলদী, তলুইগাছা ও কাকডাঙ্গা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, পাতার বিড়ি, চা পাতা, মেহেদী, বিমল আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালী হতে ৭০ হাজার ৯০০ টাকার ভারতীয় পাতার বিড়ি, চা পাতা, মেহেদী ও বিমল আটক করে।

তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার নটিজঙ্গল হতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ভাদিয়ালী হতে ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ৮০ হাজার ৯০০ টাকা।

চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়।

 

এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

ফিংড়ীর জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
ফিংড়ীর জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের সরকারি বাজেট বরাদ্দের অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ড্রেনেজ সংস্কার, রাস্তা সংস্কার ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় জোড়দিয়া পশ্চিম পাড়ায় মৌলভী জালাল উদ্দিনের বাড়ি সংলগ্ন ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আলহাজ্ব মাস্টার হাবিবুর রহমান উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফিংড়ী ইউনিয়ন জামাায়াতের আমির শাহীনুজ্জামান শাহিন, ৭ নং ওয়ার্ড জামাায়াতের সভাপতি জুলফিকার আলী, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর সাংবাদিক মোঃ আবু ছালেক, আব্দুল আহাদ, আবুল হোসেন,আব্দুস সাত্তার, শাহিনুর রহমান, মমতাজ আলী, আব্দুস সালাম, সাইদুর রহমান, হাবিবুল্লাহ গাজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

উদ্বোধনকালে আলহাজ্ব মাস্টার হাবিবুর রহমান বলেন, জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

পাইকগাছার বোয়ালিয়া ব্রিজ সড়ক বেহাল, খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার বোয়ালিয়া ব্রিজ সড়ক বেহাল, খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলে মানুষ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার অতিগুরুত্বপূর্ণ গদাইপুরে বোয়ালিয়া মোড় থেকে বোয়ালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত ২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ ও সুড়কি উঠে গিয়ে সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি এখন রীতিমতো ভোগান্তির ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।

জানা যায়, সড়কটি পাইকগাছা সদর থেকে রাড়–লী, দরগাহপুর এবং পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলায় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাছাড়া রাড়ুলী ও আশাশুনি এলাকার মানুষের খুলনা বিভাগীয় শহরের সাথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এ সড়কটির ওপর নির্ভর করতে হয়। সড়কটির কোল ঘেঁষেই অবস্থিত বিএডিসি বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামার। যার ফলে কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত এই ভাঙা সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন এই সড়কে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বহু যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় পথচারী রবিউল ইসলাম মল্লিক বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে জমে থাকা কাঁদা-পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।” মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অলি গাজী জানান, “আমাদের প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। খানাখন্দের কারণে ভ্যান উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, অনেকে আহত হন।

 

পরীক্ষার দিনেও ভয়ে ভয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হয়।” অন্যদিকে একাধিক ভ্যান চালক আক্ষেপ করে জানান, রাস্তার ঝাঁকুনিতে গাড়ির পার্টস ভেঙে প্রতিদিনের আয় করা টাকা মেকানিকের পেছনেই চলে যায়। এমনকি আশঙ্কাজনক কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও এখন চরম চ্যালেঞ্জের বিষয়।

সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জনস্বার্থে অতি দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব জানান, “সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।” স্থানীয়দের আকুল আকুতি কাগজে-কলমে নয়, দ্রুততম সময়ে বাস্তবে যেন সংস্কার কাজ শুরু করে সড়কটিকে যাতায়াতের উপযোগী করে তোলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।