মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে, টেকসই সমাধানের অপেক্ষায় উপকূলবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে, টেকসই সমাধানের অপেক্ষায় উপকূলবাসী

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে দেশের অন্যতম অরক্ষিত অঞ্চল। কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া-এর মতো অসংখ্য নদীবেষ্টিত এই জেলার আশাশুনি, শ্যামনগর, গাবুরা, প্রতাপনগর এবং পদ্মাপুকুর ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষ প্রতিমুহূর্তে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটে। সাতক্ষীরা উপকূলের ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি আশাশুনির প্রতাপনগরে কপোতাক্ষ নদের বাঁধ ধসে নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

সম্প্রতি বাংলাদেশ বুলেটিন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের এক বিশাল অংশ আচমকা ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবার দুর্যোগ এলে গ্রামবাসীকে নিজেদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা ফেলে কোনোমতে নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষা করতে হয়। বহু নদী ও শাখা নদীবেষ্টিত এই সীমান্তবর্তী জেলাটিতে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প আসলেও দুর্নীতির কারণে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মিত হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার দেওয়া আশ্বাসকে এখন ‘লোকদেখানো প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে দেখেন সাধারণ মানুষ।

 

জনপ্রতিনিধিরা বছরের পর বছর ধরে ‘টেকসই ব্লকের বাঁধ’ বা ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়নের বড় বড় আশ্বাস দিয়ে আসলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাব মতে, সাতক্ষীরা উপকূলের প্রায় ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে ফাটল বা ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বারবার শুধু দায়সারা গোছের মাটি ও জিওব্যাগ ফেলে জরুরি সংস্কার করা হয়, যা পরবর্তী জোয়ারের চাপেই ভেসে যায়। সংস্কার চক্রের আড়ালে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি টাকার চরম অনিয়ম।

 

দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের কাজে তীব্র দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে ১ হাজার কোটির কাজ মাত্র ৬০০ কোটি টাকায় শেষ করে বাকি ৪৪০ কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। বণিক বার্তা’র মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, নি¤œমানের সামগ্রী ও তদারকির অভাবেই বাঁধগুলো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। উপকূলীয় নদী ও পরিবেশ গবেষকদের মতে, সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের দাবি কোনো সাময়িক ত্রাণ কিংবা চাল নয়, তাদের একমাত্র মৌলিক দাবি একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ।

‎স্থানীয় জনগণ ও আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, পাউবোর ঠিকাদার, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের একটি সিন্ডিকেট প্রতিবছর বাঁধ ভাঙার অপেক্ষায় থাকে। বাঁধ ভাঙলে জরুরি বরাদ্দের নামে কোটি কোটি টাকা সহজে লোপাট করা যায়, যা ‘ভাঙন-চক্রের বাণিজ্য’ নামে পরিচিত। টেকসই বাঁধের অভাবে লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে। রিসার্চগেট-এর জলবায়ু অভিবাসন গবেষণা অনুযায়ী, গাবুরা ও পদ্মাপুকুর এলাকার শত শত পরিবার বাধ্য হয়ে নিজেদের এলাকা ছেড়ে দেশের অন্য অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। ঠিকাদার-প্রকৌশলী সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার এই নোংরা খেলার বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

 

নদীভাঙনের শিকার সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ এখন জানতে চান বরাদ্দকৃত হাজার কোটি টাকা কার পকেটে যাচ্ছে এবং আর কতদিন উপকূলবাসীকে কেবল আশ্বাসের সাগরে ভাসতে হবে? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিভিন্ন সময় সাতক্ষীরা পাউবোর কিছু প্রকল্পে অভিযান চালালেও দুর্নীতিবাজদের সমূলে উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি, যার মাশুল দিচ্ছে সাতক্ষীরার উপকূলবাসি।

Ads small one

বল্লীতে চুরি বৃদ্ধি, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সালিসের নামে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
বল্লীতে চুরি বৃদ্ধি, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সালিসের নামে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের আমতলা ও নারায়ণপুর গ্রামে একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি আমতলা গ্রামে দুটি বাইসাইকেল চুরির চেষ্টার সময় রব্বানী নামে এক যুবককে স্থানীয় ব্যক্তিরা আটক করেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রব্বানী তাঁর সঙ্গে আরও তিনজনের যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে অন্য অভিযুক্তদের পুলিশে না দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা জানান, চুরির মতো অপরাধে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা না করে পুলিশের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত ও মালামাল উদ্ধারসহ জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পাটকেলঘাটায় সেনাসদস্যের বাড়িতে চুরির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সেনাসদস্যের বাড়িতে চুরির অভিযোগ

খলিশখালী (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় দিনের বেলায় এক সেনাসদস্যের বসতঘরের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ব্যাংকের কাগজপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার পারকুমিরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত সেনাসদস্য মো. শুকুর আলী বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে কর্মরত। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী একা থাকতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুকুর আলীর স্ত্রী ঘরের পাশের জমি থেকে সবজি তুলতে গেলে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুর্বৃত্তরা ঘরের তালা ভেঙে আলমারি থেকে আনুমানিক ৬-৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যায়। সেনাসদস্যের ভাই মহব্বত আলী ও সুরত আলী চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চোরচক্রকে শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।

আশাশুনির প্রতাপনগরে বেড়িবাঁধে ধস, রক্ষায় যৌথ প্রচেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনির প্রতাপনগরে বেড়িবাঁধে ধস, রক্ষায় যৌথ প্রচেষ্টা

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১০০ মিটার বেড়িবাঁধের বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাঁধ সুরক্ষায় কাজ করছেন পাউবো ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার ভোরে আকস্মিকভাবে বাঁধের প্রায় ৮০ ফুট অংশ নদীতে ধসে যায় এবং আরও ২০ ফুটে ফাটল দেখা দেয়। এতে পুরো বাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জিও ব্যাগ ও মাটি ফেলে বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। দিনভর চার শতাধিক মানুষ বাঁধ সংস্কারে অংশ নেন। পাউবোর পক্ষ থেকে বালিভর্তি জিও টিউব ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। জোয়ারের পানিতে রাতে পুনরায় ঝুঁকি তৈরি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা রাত দেড়টা পর্যন্ত কাজ করে ভাঙন ঠেকান। মঙ্গলবার সকাল থেকেও বাঁধের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বেড়িবাঁধ ধসে পড়ায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২৫ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হওয়ার আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পাউবোর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান তাজকিয়া জানান, জোয়ারের চাপে ধস নেমেছে। বিকল্প বাঁধ নির্মাণ ও জিও টিউব ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে।