শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার আমন বীজের কদর দেশজুড়ে: ৯৫২ টন বীজ যাচ্ছে ২২ অঞ্চলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার আমন বীজের কদর দেশজুড়ে: ৯৫২ টন বীজ যাচ্ছে ২২ অঞ্চলে

নিজস্ব প্রতিনিধি: গুণগত মান ও উজ্জ্বল রঙের কারণে দেশজুড়ে চাহিদা বাড়ছে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আমন বীজের। চলতি মৌসুমে জেলা বিএডিসি অফিসের তত্ত্বাবধানে ৯৫২ মেট্রিকটন আমন ধানের বীজ উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। উৎপাদিত এই বীজ দেশের ২২টি অঞ্চলে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
সাতক্ষীরা বিএডিসির তথ্য মতে, সাতক্ষীরায় এবার আমন মৌসুমে ৯৫২ মেট্রিকটন বীজধান উৎপাদন করা হয়েছে। যাহা দেশের বিভিন্ন জেলায় এক মাসের ভিতরে পাঠানো হবে। বিশেষ করে বীজ বিপনন বিভাগের আওতায়ই ২২ টা অঞ্চলে এই বীজ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার বীজের চাহিদা এবং গুনগত মান ভালো হওয়ায় দেশের সব জেলাতে এই বীজের চাহিদা অনেক বেশি।
সাতক্ষীরা বিএডিসির উপ-পরিচালক রমিজুর রহমান বলেন, “আমরা সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া অঞ্চল থেকে চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের মাধ্যমে এই বীজ সংগ্রহ করি। আমাদের ৭টি ব্লকে প্রায় ৩০০ জন প্রশিক্ষিত চাষি রয়েছেন। তাঁদের ভিত্তি মানের উৎকৃষ্ট বীজ সরবরাহ থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও ফসল কাটা পর্যন্ত আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি করি। এরপর মান যাচাই করে সেই বীজ সংগ্রহ করা হয়।
বীজ উৎপাদনে সাতক্ষীরা বিএডিসি অফিসের ভূমিকা নিয়ে তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরার বীজের গুণগত মান এবং বীজের কালার অন্তত ভালো যার কারনে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই বীজের চাহিদা খুব বেশি। কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে যথাযথ চেইন অব কমান্ড মেইন টেইন করে বীজ উৎপাদন ও সংগ্রহ করা হয়। আমি এই দপ্তরে যোগদানের পর করার কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ ও ছোটখাটো অবকাঠামোর সংস্কার ও উন্নতি সাধন করি। অত্র কেন্দ্রটি সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে সৌন্দর্যম-িত একটি দপ্তর, এখানে প্রতিদিন বিকালে বহু লোক ঘুরতে আসে, সেই জন্য কেন্দ্রের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন সংস্কার ও মেরামত কাজ করা হয়েছে। উপযোগী প্রশিক্ষণ কক্ষ ছিল না, সেটা সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রের সকল স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি সচল রেখে বীজ সংগ্রহ কাজ চলমান।
উল্লেখ্য, এই দপ্তরটি মূলত বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য কাজ করে। এখানে সাধারণ খুচরা বীজ বিক্রির সুযোগ নেই; শুধুমাত্র চুক্তিবদ্ধ চাষিরাই বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও কারিগরি সহায়তা পেয়ে থাকেন।

Ads small one

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি

অনলাইন ডেস্ক: প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রয়াত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

জানা গেছে, বাবার শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণের জন্য শনিবার দুপুরে দিনাজপুর কারাগার থেকে ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজনকে। তিনি বাড়িতে পৌঁছালে এক নজর তাকে এবং প্রয়াত দবিরুল ইসলামকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ঢল নামে।

বিকেল ৪টায় জানাজার আগে সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস এবং বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম।

জানাজায় ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈল উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলামের অবদান স্মরণ করে অনেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

 

বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন। আমার বাবার দুটি ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হলো না। একটি ছিল চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নেওয়া, আরেকটি পবিত্র হজ পালন করা। আমার বাবার কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। আমি মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছি। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আমাকে আবার দিনাজপুর কারাগারে ফিরে যেতে হবে।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ঈদের দিন মৃত্যুবরণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের হয়। একই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার পর ২০২৬ সালের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। অসুস্থতার কারণে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক: হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬টি শিশু। শনিবার (৩০ মে) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১০৩৩ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬১২ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৩ জন। এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৬ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার ৭০৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২ হাজার ৫০ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৯৩ জনের। এছাড়া নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।

সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, উড়ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, উড়ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা

পত্রদূত ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১২ দিন বাকি। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে সাতক্ষীরার শহর থেকে গ্রামাঞ্চল। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। প্রিয় দলের শক্তি-সামর্থ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন সমর্থকরা। তবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি অন্যান্য দলের সমর্থকরাও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

 

গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার, বাড়িঘর, ঘরের দেয়াল এমনকি বাড়ির সামনে গাছের ডালেও শোভা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। কোথাও কোথাও দেখা মিলছে অন্যান্য দেশের পতাকাও। বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

আশাশুনি উপজেলার কাপসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, তিনি ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে তিনি এলাকার ঈদগাহ মাঠের গেট ক্রোয়েশিয়ার পতাকার আদলে তৈরি কাপড় দিয়ে সাজিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক। তাই এবার ঈদগাহর গেট ক্রোয়েশিয়ার পতাকার আদলে সাজিয়েছি। আশা করছি, এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ভালো করবে।

 

বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে শিশু-কিশোরদের মাঝেও। সাতক্ষীরা শহরের কালেক্টরেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সোয়াইব হক আর্জেন্টিনার খুদে সমর্থক। আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার মেসির ভক্ত সে। কয়েকদিন আগে দাদার কাছ থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি সংগ্রহ করেছে সোয়াইব। তবে স্কুল খোলা থাকা এবং বাড়ির টেলিভিশনের ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবার সরাসরি খেলা দেখতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তার। তাই দাদাকে অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ মোবাইলে রেকর্ড করে রাখতে।

 

বিশিষ্ট সাংবাদিক জি, এম মনিরুল ইসলাম মিনি রাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি খেলা দেখেন। গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সাপোর্টার থাকলেও এবার তিনি ব্রাজিলের সাপোর্টার। ছেলে সেনা অফিসার আল ইমরান আদনান এর কোথায় তিনি আগের দলে ভিড়েছেন। তবে ছেলে আদনানের ধারণা এবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ান হবে ফ্রান্স।

এদিকে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বেড়েছে ক্রীড়া সামগ্রীর বিক্রিও। সাতক্ষীরা শহরের বিউটি খেলাঘর প্লাসের মালিক সেলিম জানান, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

 

তিনি বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হতে আর কয়েকদিন বাকি। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেকেই দুই দলের জার্সি কিনছেন। এছাড়া দু-একজন ক্রোয়েশিয়াসহ অন্যান্য দলের জার্সিও খুঁজছেন। তবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সিই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

 

বিশ্বকাপের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের উন্মাদনা। প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি ও নানা সাজসজ্জায় ফুটে উঠছে বিশ্বকাপের রঙিন আবহ। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ।