রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরার আমে ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার আমে ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

ইব্রাহিম খলিল: সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে আমের ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশা করছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে এবার আম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

৫ মে থেকে সাতক্ষীরায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম পাড়ার মৌসুম। জেলার বিভিন্ন বাগানে প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।

সদর উপজেলার আমচাষি আবু সাইদ বলেন, সারা বছর আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এবারের আবহাওয়া আমের জন্য খুব ভালো ছিল। ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমের মানও ভালো রয়েছে। আমরা আশা করছি, বাজারে দাম ভালো থাকলে লোকসান হবে না।

তিনি আরও বলেন, আম চাষ এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিক সবকিছুর দাম বেড়েছে। একটি বাগান পরিচর্যা করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। তারপরও আমরা আশায় থাকি মৌসুমে ভালো দাম পাব। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবে।

আরেক আমচাষি নূর মোহাম্মদ বলেন, এবার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু ফলন বেশি হলে বাজারে দাম কমে যাওয়ার ভয় থাকে। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা যেন ন্যায্যমূল্যে আম কিনে। কারণ একদিকে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে বাজারে দাম কমে গেলে কৃষক টিকতে পারবে না।

তিনি বলেন, একটা আম বাজারে তুলতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে, পরিচর্যা, পাহারা সব মিলিয়ে বড় বিনিয়োগ। এখন যদি দাম দুই হাজার টাকার নিচে নেমে যায়, বিশেষ করে হিমসাগরের ক্ষেত্রে, তাহলে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তালা উপজেলার আরেক চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার আম দেশের মধ্যে সবার আগে বাজারে আসে, এটাই আমাদের বড় সুবিধা। শুরুতে দাম ভালো পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে আসতে শুরু করেছেন। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকে, তাহলে এবারের মৌসুম চাষিদের জন্য ভালো যাবে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সচেতন পরিচর্যার কারণে ফলন বেড়েছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুম সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

 

 

 

 

Ads small one

কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

oplus_0

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি মহিদুল গাজীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কাশিমনগর বাজারের প্রধান সড়কে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাজসেবক এম বুলবুল আহমেদের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদা পারভীন, মাওলানা আবু মুসা, গোলাম মোস্তফা গাজী ও তাসমিরা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও নিজের ভাবিকে হত্যাকারী মহিদুল গাজীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহতের মেয়ে তাসমিরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চাচা মহিদুল গাজী আমার মাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে সে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা উল্টো তাদের ও মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ঘরচালা মাঠপাড়া গ্রামে প্রায় ২৩ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই নিজেদের জমির বৈধ মালিক দাবি করে আসায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালত ও ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বল্লী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মৌজার সাবেক ২৪৮, ২৮৪, ২৮৭ সহ কয়েকটি দাগের অন্তর্ভুক্ত ২৩ শতক জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বাদীপক্ষের মাসুরা খাতুন ও উজির আলী ফকির বিএস খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের আবেদনসহ সায়েদ আলী মোড়লের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে বিবাদী সায়েদ আলী মোড়ল দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি (মিউটেশন) তার নামে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন। আবেশ আলী সরদারের কাছ থেকে তিনি জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ তাকে জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে অন্য অংশীদার আবু তালেব ফকির এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, সায়েদ আলীর কাগজপত্র জাল। জমিটি বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে এবং এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে তারা সহকারী জজ ভূমি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র (মাসউক) সাতক্ষীরার উদ্যোগে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির ২০২৫-২০ছঞ মেয়াদের প্রশিক্ষকদের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোহাগড়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এর আগে নড়াইল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মৌসুমী রানী মজুমদার প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সালমা জামান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির লোহাগড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর ফারুক এবং মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ খায়রুল আলম।
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে জীবন দক্ষতামূলক ও আয়বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন মডিউলের ওপর বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র রায় এবং মাস্টার ট্রেইনার মো. গিয়াসউদ্দিন। প্রশিক্ষণে মোট ১০জন প্রশিক্ষক অংশ নেন। সমাপনী দিনে মাসউকের হলরুমে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন।