বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার ‘জোড়া মুকুট’: বিভাগীয় প্রাথমিক গোল্ডকাপে ছেলে ও মেয়েদের ঐতিহাসিক জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার ‘জোড়া মুকুট’: বিভাগীয় প্রাথমিক গোল্ডকাপে ছেলে ও মেয়েদের ঐতিহাসিক জয়

পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ভৈরব নদের তীরের আকাশ ভেঙে তখন ঝরছে করতালির বৃষ্টি। মাঠের সবুজ ঘাসে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে একদল শিশুর বাঁধভাঙা উল্লাস। কেউ ট্রফি উঁচিয়ে ধরছে আকাশের পানে, কেউবা সহযোদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে ভাসছে আনন্দের কান্নায়। দৃশ্যটি খুলনা নগরীর খালিশপুর পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের। যেখানে ফুটবল পায়ে অনন্য এক রূপকথা লিখল সাতক্ষীরার খুদে ফুটবলাররা।

 

খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬-এর ফাইনালে রচিত হলো এই মহাকাব্য। বালক ও বালিকাÑদুই বিভাগেই প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্বের ‘জোড়া মুকুট’ এখন সাতক্ষীরার মাথায়। একই সঙ্গে দুই বিভাগে কোনো একক জেলার এমন অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্যে এখন আনন্দে ভাসছে সাতক্ষীরার শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গন।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে এক জমকালো ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল বিভাগীয় পর্যায়ের এই ফুটবল মহাযজ্ঞের। যেখানে সাতক্ষীরার ছেলেরা দেখাল গতির ঝড়, আর মেয়েরা দেখাল ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের দেওয়াল।

বিভাগীয় এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ দুটিকে ঘিরে সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা ছিল গ্যালারিতে। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
ছেলেদের ফাইনালে যশোরকে উড়িয়ে দিল সাতক্ষীরার গণেশপুর। দুর্দান্ত দাপট ও মাঠ কাঁপানো ফুটবল উপহার দিয়ে বালক বিভাগের ফাইনালে যশোর জেলা দলকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে সাতক্ষীরার খুদে ফুটবলারেরা। তাদের গতিময় আক্রমণ, নিখুঁত ছোট ছোট পাসিং আর দুর্দান্ত দলগত সমন্বয়ের (টিম ওয়ার্ক) সামনে পাত্তাই পায়নি যশোরের ঝিকড়গাছা উপজেলার বেনিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই একের পর এক আক্রমণে যশোরের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয় গণেশপুরের স্ট্রাইকাররা। একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত তিন গোলের বিশাল ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে সাতক্ষীরার প্রতিনিধিরা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের ভেতর উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো দল।

মেয়েদের ফাইনালে মারিয়ার গোলে শ্যামনগররের মীরগাংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব লাভ। বালকদের দাপুটে জয়ের পর বালিকাদের ফাইনালেও বজায় ছিল সাতক্ষীরার জয়রথ। বালিকা বিভাগের ফাইনালে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিভাগীয় শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পূর্ব মীরগাঙ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখানো মীরগাঙের মেয়েরা ফাইনালেও উপহার দেয় দারুণ আত্মবিশ্বাসী ও পরিপক্ব ফুটবল।

 

ম্যাচের প্রথমার্ধেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ঝিনাইদহের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে চোখধাঁধানো এক শটে গোল করেন পূর্ব মীরগাঙ দলের অধিনায়ক মারিয়া ইয়াসমিন। তাঁর করা এই একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। গোল হজম করার পর ঝিনাইদহের বালিকারা সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠলেও সাতক্ষীরার ডিফেন্ডারদের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার সামনে তাদের সব আক্রমণ ভেস্তে যায়। রক্ষণ ও আক্রমণের দারুণ মেলবন্ধনে প্রতিপক্ষকে আর কোনো সুযোগই দেয়নি সাতক্ষীরার বালিকারা।

খেলা শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও মেডেল তুলে দেওয়ার ক্ষণটি ছিল দেখার মতো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে চকচকে ট্রফি তুলে দেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) সিফাত মেহনাজ।

সাতক্ষীরার খুদে ফুটবলারদের পক্ষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে ট্রফি ও বিশেষ পুরস্কার গ্রহণ করেন ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন। এ সময় মাঠে উপস্থিত শত শত দর্শক করতালি দিয়ে ট্রফি জয়ী খুদে চ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান।

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিফাত মেহনাজ বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদন বা শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকের এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস, মোবাইল আসক্তি ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখতে মাঠের খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।”

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই নতুন প্রজন্ম যেন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সম্মান ও লাল-সবুজের পতাকা বয়ে আনতে পারে, সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।

খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এই সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক মু. ফজলে রহমান, খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম।

এছাড়াও মাঠের পাশে বসে খুদে খেলোয়াড়দের প্রতিনিয়ত উৎসাহ জুগিয়েছেন খুলনা পিটিআই-এর সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. তোজাম্মেল হোসেন, এডিপিইও মো. আমিনুল ইসলাম, থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহজাহান এবং সহকারী থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ।

মাঠে উপস্থিত থেকে বালিকাদের এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে অনন্য ভূমিকা রাখেন শ্যামনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ও পূর্ব মীরগাঙ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিমেশ মৃধা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, জিএম হুমায়ুন কবির, মুনি হোসেন, সজীব কুমার মহলী, শাহজাদী রহমান এবং সহকারী শিক্ষক সৈয়দ আনিসুজ্জামান, এস কে জামান, মোস্তাফিজুর রহমান, মুক্তা খানম, হ্যাপি প্রমুখ।

শ্যামনগরের পূর্ব মীরগাঙ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালিকাদের এই সাফল্য কিন্তু হুট করে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর সাধনা ও ধারাবাহিকতা। বিদ্যালয়টির বালিকা ফুটবল দলটি ক্রীড়াঙ্গনে ইতিমধ্যেই এক ‘অপরাজেয়’ শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

রেকর্ড বুক ঘেঁটে দেখা যায়, পূর্ব মীরগাঙ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালিকা দলটি এর আগে চারবার উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। টানা তিনবার জেলা চ্যাম্পিয়নের মুকুট নিজেদের করে রেখেছে এবং এবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তারা খুলনা বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়ল।

একই দিনে বিভাগীয় পর্যায়ে দুই বিভাগেরই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট সাতক্ষীরায় আসায় কালীগঞ্জের গণেশপুর ও শ্যামনগরের পূর্ব মীরগাঙ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মিষ্টি বিতরণ শুরু করেন। পাড়ায় পাড়ায় আনন্দ মিছিল ও উল্লাস করে এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “বালক ও বালিকা দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া সাতক্ষীরার জন্য এক বিশাল গৌরব ও আনন্দের দিন। খুদে খেলোয়াড়দের মাঠের লড়াই, একাগ্রতা এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার কারণেই এই ট্রফি জয় সম্ভব হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই ছেলে-মেয়েরা বিভাগীয় গ-ি পেরিয়ে এবার জাতীয় পর্যায়েও সাতক্ষীরা জেলার নাম উজ্জ্বল করবে।” তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার এই চর্চা শিশুদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে দারুণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে, এই ঐতিহাসিক জয়ে বিজয়ী দলগুলোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক এবং জাতীয় ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় আলমগীর কবীর রানা। এক অভিনন্দন বার্তায় তাঁরা বলেন, এই খুদে ফুটবলাররাই দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ কান্ডারি এবং তাদের এই জয়যাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও সামাজিক সমর্থন দেওয়া হবে।

Ads small one

কোস্টগার্ডের কাছে সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
কোস্টগার্ডের কাছে সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ

পত্রদূত রিপোর্ট: আবারো সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী প্রধান সুমনসহ ৭ দস্যু ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাঁজা গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেন এ দস্যু বাহিনী। এ সময় কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বনবিভাগ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালেও র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন ছোট সুমন বাহিনী।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন’র জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মুলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুইটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ অভিযানের প্রেক্ষিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। যার ফলে সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগী সদস্যরা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৭ মে রাত ১১ টার দিকে মোংলার সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ মোট ৭ জন দস্যু অস্ত্র ও গুলিসহ অনানুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২ টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাঁজা গুলি , ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি গ্রহণ করা হয়। এরপর ২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়। এর আগে ২০১৮ সালেও ছোট সুমন বাহিনী র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো।

আত্মসমর্পণ করা ছোট সুমন বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, এর আগে ১ বছর ডাকাতি করে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করি। এরপর ব্যবসা বাণিজ্য করে চলছিলাম। কিন্ত বিগত ৫ আগস্টের পর হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হই। তারপরও ইচ্ছা ছিলনা ডাকাতিতে নামার কিন্তু বাধ্য হয়ে নামতে হয়েছিল। এবারও বছরখানেক সময় ডাকাতির পর সুযোগ পেয়ে আত্মসমর্পণ করলাম। সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবী আমাদের মামলাগুলো যেন সহজ করে দেয়া হয়। আর আমরা নতুন করে যেন কোন হামলা, মামলা ও হয়রানীর শিকার না হই। আমরা যেন টুকটাক ব্যবসা বাণিজ্য করে বেচে থাকতে পারি।

অপর সহযোগী সদস্যরা বলেন, সারাক্ষণ প্রশাসনের ভয়ে থাকতে হতো। ছিল না ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়া ও ঘুমও। যখন-তখন মৃত্যুর ভয় নিয়ে জীবনটাকে ঠোঁটের মাথায় নিয়ে চলতে হতো। কোস্টগার্ড সুযোগ দেওয়ায় আমরা আত্মসমর্পণ করলাম।

আত্মসমর্পণকারী দস্যু সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) মোংলা ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪) রামপালের বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনের সকল দস্যু বাহিনীকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে; অন্যথায় আরও কঠোর অবস্থানে যাবে কোস্ট গার্ড।

এদিকে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামক দুইটি পৃথক বিশেষ অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ২৬ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাঁজা গুলি, ১৭৮ রাউন্ড তাঁজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গুলি ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা আরো বলেন, কোস্ট গার্ডের চলমান এ সকল কার্যকর অভিযানের ফলে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণাই কোস্ট গার্ডের চলমান অভিযানিক কার্যক্রম ও দস্যু দমন প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারবে না। এ ব্যাপারে আপনাদের সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

 

সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রশিক্ষণের মডিউল উন্নয়ন কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রশিক্ষণের মডিউল উন্নয়ন কর্মশালা

সোশ্যাল কোহেশন নেটওয়ার্ক (এসসিএন) এর পক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের আয়োজনে সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রশিক্ষণের মডিউল উন্নয়ন কর্মশালা আজ (বৃস্পতিবার) খুলনা রূপান্তর সংস্থার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংহতি জোরদার করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল গুজব, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে সমাজে অবিশ্বাস, বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়ছে।

 

অনেক ক্ষেত্রে এসব পরিস্থিতি সংঘাতের দিকেও রূপ নিচ্ছে। তাই সময়োপযোগী আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। তারা আরও বলেন, এসসিএন মূলত সিভিল সোসাইটি, যুবসমাজ এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সংগঠনটি ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধি, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ, কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন সংঘাত নিরসন এবং কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকার, গণমাধ্যম, একাডেমিক ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ ও সমন্বিত উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, সোশ্যাল কোহেশন নেটওয়ার্ক (এসসিএন) একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে দেশের আটটি বিভাগ ও ২৭টিরও বেশি জেলায় ৪১টি সিভিল সোসাইটি সংগঠন এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে রূপান্তর সেক্রেটারিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি এ নেটওয়ার্ককে ‘সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ নামক প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করছে।

কর্মশালায় খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. খান মেহেদী হাসান, সমাজ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. তুহিন রায়, অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শেখ ফয়জান বিন হালিম, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভাসিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মারুফুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তানভীর হোসাইন, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের প্রভাষক মুমতাহেনা ফেরদৌসী, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ, সাতক্ষীরা অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো: আব্দুস সবুর বিশ^াস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে। তথ্যবিবরণী

হাইকোর্টের নির্দেশে সপদে বহাল একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
হাইকোর্টের নির্দেশে সপদে বহাল একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদরের বল্লী মোঃ মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল পুনরায় স্বপদে বহাল হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে তিনি ওই বরখাস্তাদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি শুনানির পর গত ১২ মে হাইকোর্ট সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করেন। আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে জারি করা সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

এর ফলে একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল পুনরায় তার পূর্বের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তার স্বপদে প্রত্যাবর্তনের ঘটনায় বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

 

অনেকের মতে, এ সিদ্ধান্ত বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষা পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বল্লী মোঃ মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি এখন স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পূর্বের গতিতেই চলমান।

উল্লেখ্য, একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলের সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাটি পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সর্বশেষ আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।