বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশুর রক্তে ভেসে যায় সভ্যতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
শিশুর রক্তে ভেসে যায় সভ্যতা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকা- শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা, মানবিকতা ও সভ্যতার মুখে এক নির্মম চপেটাঘাত। একটি শিশুÑযার পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুল, বই, খেলাধুলা আর স্বপ্নে ভরাÑসে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। হত্যার পর আলামত গোপন করতে তার মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এমন বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। অথচ সেই ঘটনাই ঘটেছে আমাদের রাজধানীতে, মানুষের ভিড়ে, একটি বহুতল ভবনের ভেতরে। রামিসার মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়; এটি পুরো জাতির বিবেকের পরীক্ষা।

 

প্রশ্ন হচ্ছেÑআমরা কি এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে শিশুরাও আর নিরাপদ নয়? যদি তাই হয়, তাহলে উন্নয়ন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা অর্থনৈতিক অগ্রগতির সব গর্ব কি শেষ পর্যন্ত অর্থহীন হয়ে পড়ে না? ঘটনার বিবরণ শুনলেই শরীর শিউরে ওঠে। দ্বিতীয় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী রামিসা স্কুলে যাওয়ার প্রকাল্লে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফাঁদে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকাসক্ত সেই ব্যক্তি তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় তার স্ত্রী সহযোগতায়।

 

সেখানে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এরপর পরিচয় গোপন ও অপরাধ আড়াল করতে শিশুটির শরীর বিকৃত করা হয়। এই নির্মমতা শুধু অপরাধ নয়; এটি মানুষের ভেতরের পশুত্বের নগ্ন প্রকাশ। বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও শিশু ধর্ষণ, হত্যা কিংবা নির্যাতনের খবর আসে। কিন্তু পল্লবীর এই ঘটনা মানুষের মনে এত গভীর নাড়া দিয়েছে, কারণ এখানে নিষ্ঠুরতার মাত্রা ভয়ংকর ভাবে সীমা অতিক্রম করেছে।

 

একটি শিশুকে হত্যা করেও অপরাধীর ভয় দূর হয়নি; বরং সে মৃতদেহ বিকৃত করে অপরাধ গোপনের চেষ্টা করেছে। এর অর্থ, অপরাধের ভয় তার ভেতরে কাজ করেনি। অর্থাৎ সমাজে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কিছু মানুষ মনে করছে তারা যে কোনো অপরাধ করেও পার পেয়ে যেতে পারে। এখানেই আসে বিচার হীনতার প্রশ্ন। আমাদের দেশে বহু আলোচিত হত্যাকা- বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। অনেক মামলার বিচার হয় না, আবার অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সূত্রতা মানুষকে হতাশ করে। ফলে অপরাধীরা মনে সাহস পায়। তারা ভাবে, আইনের ফাঁক ফোকর কিংবা প্রভাব খাটিয়ে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

 

তাই রামিসা হত্যার বিচার শুধু একটি মামলার বিচার নয়; এটি পুরো সমাজে একটি বার্তা দেওয়ার প্রশ্ন। রাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবেÑশিশুর বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই, কোনো ছাড় নেই। তবে শুধু দ্রুত বিচার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ অপরাধ একটি সামাজিক বাস্তবতার ফল। সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয় বাড়ে, তখন অপরাধও বাড়ে। আজ আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন মানুষের ভেতরের সহমর্মিতা, মমত ¡বোধ ও মানবিকতা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

 

পরিবারে একসঙ্গে বসে কথা বলার সংস্কৃতি কমে গেছে, সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়েছে, আর প্রযুক্তিনির্ভর একাকিত্ব মানুষের মনকে কঠোর করে তুলছে। শিশুরা বড় হচ্ছে মোবাইল স্ক্রিনের সামনে, কিন্তু মানবিক শিক্ষার ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। মাদকাসক্তিও এই সংকটের বড় কারণ। পল্লবীর ঘটনার মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল কিংবা নতুন নতুন মাদক তরুণদের জীবন ধ্বংস করছে।

 

মাদক শুধু একজন মানুষকে অসুস্থ করে না; এটি তার বিবেক, বিচারবোধ ও আত্মনিয়ন্ত্রণও ধ্বংস করে দেয়। ফলে অনেকেই ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত অভিযান, এত বক্তব্যের পরও মাদকের সহজলভ্যতা কেন কমছে না? সীমান্ত, শহর ও অলিগলিতে কীভাবে মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে? রাষ্ট্রকে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের সামাজিক উদাসীনতাও উদ্বেগজনক। একসময় গ্রামবাংলায় বা শহরের মহল্লায় প্রতিবেশীরা একে অপরের খোঁজ রাখতেন।

 

কোনো শিশু কোথাও একা গেলে বড়রা খেয়াল করতেন। এখন সেই সামাজিক বন্ধন ভেঙে গেছে। একই ভবনে বছরের পর বছর থেকেও অনেকে একে অপরকে চেনেন না। ফলে অপরাধীরা সহজেই সুযোগ পেয়ে যায়। রামিসার ঘটনাও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিপদ অনেক সময় বাইরের অচেনা মানুষের কাছ থেকে নয়, বরং পরিচিত মানুষের কাছ থেকেও আসতে পারে। শিশু সুরক্ষায় পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের শেখাতে হবেÑকোনো প্রলোভনে কারও সঙ্গে যাওয়া যাবে না, বিপদে কী করতে হবে, কীভাবে সাহায্য চাইতে হবে।

 

একই সঙ্গে পরিবারকে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভয় বা সংকোচ ছাড়াই নিজেদের কথা বলতে পারে। কারণ অনেক শিশু নির্যাতনের ঘটনা দীর্ঘদিন চাপা থাকে শুধুমাত্র ভয়ের কারণে। বিদ্যালয়ের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও জীবন দক্ষতা ভিত্তিক পাঠ এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। শিশুদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্কুলে শিশু সুরক্ষা, আত্মরক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ও সচেতনতা বিষয়ে কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি।

 

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলোরও দায়িত্ব আছে। ধর্ম সবসময় মানুষকে সংযম, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। কিন্তু সমাজে যখন ধর্মের মানবিক শিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কেবল আনুষ্ঠানিকতা বাড়ে, তখন মানুষের ভেতরের নৈতিক শক্তিও ক্ষয় হতে থাকে। তাই মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এখানে মিডিয়ার ভূমিকাও কম নয়। গণমাধ্যম অনেক সময় অপরাধের ভয়াবহতা এমনভাবে তুলে ধরে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। কিন্তু শুধু আতঙ্ক সৃষ্টি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না।

 

গণমাধ্যমকে সচেতনতা তৈরির কাজও করতে হবে। কীভাবে শিশুদের নিরাপদ রাখা যায়, কীভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়Ñএসব দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের আইনেও শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন বিধান রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, শিশু আইনসহ নানা আইনি কাঠামো আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত দুর্বল হয়, সাক্ষ্য প্রমাণ নষ্ট হয়, কিংবা মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। ফলে মানুষের আস্থা কমে যায়।

 

তাই শুধু আইন প্রণয়ন নয়, আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। রামিসা হত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে। মানুষ বিচার দাবি করছে, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছে। এই ক্ষোভ স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, ক্ষণিকের আবেগ দিয়ে সমাজ বদলায় না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তন। পরিবার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও প্রশাসনÑসব জায়গায় মানবিকতা ও জবাবদিহির চর্চা বাড়াতে হবে।

 

আমরা প্রায়ই বলি, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু বাস্তবে কি আমরা তাদের সেই গুরুত্ব দিচ্ছি? একটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কখনো সুস্থ সমাজ গড়তে পারবে না। কারণ ভয় ও সহিংসতার মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুরা মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা সমাজের ওপর আস্থা হারায়। ফলে দীঘর্ মেয়াদে পুরো সমাজই অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন রাজধানীর মতো জায়গায় একটি শিশু এমন নির্মমতার শিকার হয়, তখন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগেÑআমরা কতটা নিরাপদ? শুধু পুলিশি টহল বা আইন কঠোর করলেই হবে না; সমাজে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অপরাধ করার আগেই মানুষ ভয় পায়, বিবেক তাকে বাধা দেয়।

 

আর সেই বিবেক গড়ে ওঠে পরিবার, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে। আজ আমাদের সমাজে অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রতিযোগিতা বেড়েছে, কিন্তু মানবিকতার চর্চা কমেছে। মানুষ বড় বাড়ি বানাচ্ছে, দামি গাড়ি কিনছে, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হারাচ্ছে। সামাজিক সম্পর্কগুলো ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতা মানুষকে মানসিক ভাবে অসুস্থ করে তুলছে। ফলে সহিংসতা ও বিকৃত মানসিকতার ঝুঁকি বাড়ছে। রামিসার মৃত্যু আমাদের সামনে এক নির্মম সত্য তুলে ধরেছেÑসভ্যতার মুখোশের আড়ালে সমাজের ভেতরে ভয়ংকর অন্ধকার জমে উঠছে। সেই অন্ধকার শুধু আইন দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়।

 

প্রয়োজন মানবিকতার পুনর্জাগরণ। প্রয়োজন এমন সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে শিশুদের দিকে কেউ কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস না পায়। এই ঘটনার পর রাষ্ট্রের উচিত শিশু সুরক্ষায় বিশেষ কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা। আবাসিক ভবন গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সন্দেহভাজন অপরাধীদের নজরদারি, মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ এবং শিশুদের জন্য জরুরি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শিশু নির্যাতনের মামলা গুলোর নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়Ñআমাদের বিবেক কি সত্যিই জাগ্রত হবে?

 

নাকি কিছুদিন পর আরেকটি ঘটনার ভিড়ে রামিসার স্মৃতিও হারিয়ে যাবে? আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো নির্মম ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল হয়, মানববন্ধন হয়, বিচার দাবি ওঠে। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরিবর্তন আসে না। এই চক্র ভাঙতে হবে। একটি শিশুর মৃত্যু যেন কেবল সংবাদ শিরোনাম হয়ে না থাকে। রামিসার নিষ্পাপ মুখ আমাদের মনে করিয়ে দিকÑশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিটি শিশু নিরাপদে স্কুলে যাবে, নিরাপদে ঘরে ফিরবে, ভয়হীন শৈশব পাবেÑএটাই একটি সভ্য দেশের পরিচয়।

 

আজ রামিসার মা-বাবার কান্না শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়; এটি পুরো বাংলাদেশের বিবেকের কান্না। সেই কান্না যদি আমাদের না জাগায়, তাহলে আমরা হয়তো প্রযুক্তিতে উন্নত হব, অর্থনীতিতে এগোব, কিন্তু মানুষ হিসেবে ক্রমেই ছোট হয়ে যাব। রামিসা আর ফিরবে না। কিন্তু তার রক্ত যেন আমাদের সমাজকে প্রশ্ন করতে থাকেÑকোন পথে যাচ্ছে আমাদের সভ্যতা? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই আজ আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

সুন্দরবনে ‘বনরক্ষীদের গুলিতে’ জেলের মৃত্যু ঘিরে পাল্টাপাল্টি মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে ‘বনরক্ষীদের গুলিতে’ জেলের মৃত্যু ঘিরে পাল্টাপাল্টি মামলা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলাসংলগ্ন পশ্চিম সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আমিনুর রহমান (৪৫) নামের এক জেলের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপকূলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত জেলের পরিবারের অভিযোগ, বন বিভাগের টহল দলের ছোড়া গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে বন বিভাগ বলছে, বনরক্ষীদের সঙ্গে জেলেদের ধস্তাধস্তির সময় ‘মিসফায়ার’ হয়ে গুলি বেরিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বন বিভাগের দুই কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামা ৯ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে নিহত জেলের পরিবার। অন্যদিকে বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি মামলা করা হয়েছে। তবে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

নিহত আমিনুর রহমান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার তাঁর ভাতিজা অলিউল্যাহ বাদী হয়ে কয়রা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনাস্থল কয়রা থানা এলাকায় হওয়ায় নিহত জেলের স্বজনেরা কয়রায় এসে মামলা করেছেন। পাশাপাশি বন বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি মামলা করা হয়েছে। বন বিভাগের শরবতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তাদির রহমান মামলাটি করেন।

আমিনুর রহমানের ভাতিজার করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আমিনুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরেন। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেন। প্রায় ১৫ দিন আগেও আমিনুরের থেকেও টাকা নেওয়া হয়। এ নিয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিত-া হয়। তখন তাঁকে ‘সুযোগ পেলে দেখে নেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এজাহারে বলা হয়, ১৩ মে নিজের ভাতিজা অলিউল্যাহসহ কয়েকজনকে নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আমিনুর। ১৮ মে সকাল সাতটার দিকে কয়রার আওতাধীন সুন্দরবনের পাতকোষ্টা এলাকার বেশো খালে মাছ ধরার সময় বন বিভাগের একটি টহল দল সেখানে পৌঁছায়। বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন আমিনুরের কাছে টাকা চান। কিন্তু তিনি রাজি না হলে তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একজন রাইফেল দিয়ে গুলি করেন। গুলিটি তাঁর শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি নৌকার ওপর লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর মারা যান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে গুলি করার অভিযোগও সঠিক নয়। ঘটনাস্থলটি ছিল সুন্দরবনের প্রবেশ নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকা। সেখানে বন বিভাগের স্মার্ট টহল টিম দায়িত্ব পালন করছিল। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে টহল চালিয়ে ওই এলাকার ১১টি নৌকা জব্দ করা হয়, অধিকাংশই শ্যামনগরের সোরা গ্রামের। তাঁর অভিযোগ, ওই এলাকার কিছু লোক সংঘবদ্ধভাবে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা এবং বনরক্ষীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে।

বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় একটি ‘স্মার্ট টহল টিম’ গঠন করা হয়। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের সই করা আদেশে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার আওতাধীন বনাঞ্চলে টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়। দলের নেতৃত্বে ছিলেন শরবতখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোক্তাদির রহমান। সহকারী টিম লিডার ছিলেন কালাবগী ফরেস্ট স্টেশনের ফরেস্টার মো. আতিয়ার রহমান। এ ছাড়া কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের ফরেস্টার মো. আছাদুজ্জামানসহ মোট আটজন সদস্য ওই টহল দলে ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের এক সদস্য বলেন, প্রবেশ নিষিদ্ধ পাটকোষ্টা এলাকার ঝালিয়া শতমুখী খালে জেলেদের নৌকা দেখতে পেয়ে টহল দল সেখানে যায়। এ সময় জেলেরা দা, কুড়াল ও বৈঠা নিয়ে বনরক্ষীদের দিকে তেড়ে আসেন। ধস্তাধস্তির সময় এক বনরক্ষীর হাতে থাকা রাইফেল ভেঙে যায় এবং আরেকজনের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। একপর্যায়ে অনাকাক্সিক্ষতভাবে একটি গুলি বের হয়ে যায়। ওই গুলিই আমিনুর রহমানের শরীরে লাগে।

স্মার্ট টহল টিমের নেতা মোক্তাদির রহমান বলেন, বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এদিকে জেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গত সোমবার সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার ডুমুরিয়া, দৃষ্টিনন্দন ও চাঁদনীমুখা পয়েন্টে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ১০ থেকে ১২টি ট্রলারে করে পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসী ওই জেলের লাশ নিয়ে নীলডুমুর খেয়াঘাটে পৌঁছান। এ সময় দাতিনাখালী ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকা থেকে আরও কয়েক শ লোক তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে লাশ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে রেঞ্জ কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা, জানালা, গ্রিল, ফটকসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেন। বন বিভাগের দাবি, হামলাকারীরা রান্নাঘরে ঢুকে প্লেট, পিরিচ, গামলাসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুরের পাশাপাশি চাল, ডালসহ কিছু খাদ্যসামগ্রীও নিয়ে যান।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, হামলাকারীরা যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই মারধর করেছে। এতে তাঁদের পাঁচজন কর্মচারী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জেলের মৃত্যুর ঘটনাটি খুলনা রেঞ্জ এলাকায় হলেও হামলা চালানো হয়েছে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে। তাঁর ভাষ্য, পুরো ঘটনার পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, বনরক্ষীদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটিতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও অন্যটিতে খুলনা জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা আছেন।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, উপকূলে জীবিকার সংকট ও সুন্দরবনের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বন বিভাগ ও জেলেদের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের সম্পর্ক পরিস্থিতিকে দিন দিন জটিল করে তুলেছে। জেলে নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা আর না ঘটে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিআরটিএ’র রোড শো ও মনিটরিং

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিআরটিএ’র রোড শো ও মনিটরিং

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ঘরমুখী মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাতক্ষীরায় পরিবহণ কাউন্টার মনিটরিং ও রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের সংগীতার মোড়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেল ও জেলা ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রম চালানো হয়।

 

বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায় ঢাকাগামী বিভিন্ন পরিবহণ কাউন্টারে এই তদারকি করা হয়। এ সময় দূরপাল্লার চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচি সঞ্চালনা ও সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম। কাউন্টার তদারকির সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. ওবায়দুল রহমান, উচ্চমান সহকারী মো. নাসির উদ্দিনসহ ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহণ শ্রমিক নেতারা। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে বিআরটিএ’র এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ যাত্রীরা।

 

 

৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প: অর্ধযুগেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়কের কাজ, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প: অর্ধযুগেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়কের কাজ, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অর্ধযুগেও শেষ হয়নি। তিন দফা মেয়াদ ও ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর পরও কাজের গতি ধীর হওয়ায় ওই অঞ্চলের লাখো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে সর্বশেষ সংশোধিত মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি রয়ে গেছে।

 

খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি ‘তালা-কয়রা ভায়া পাইকগাছা সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়। এরপর ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

 

২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়। মূল ব্যয়ের সাথে প্রথমে ৪০ কোটি, এরপর তিন কিলোমিটার অংশের জন্য আরও ৫৫ কোটি এবং সর্বশেষ তালা থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মূল ৩৩৯ কোটি টাকার এই প্রকল্প ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

খুলনা সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেনÑ “ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে সময় বেশি লেগেছে। গত নভেম্বর থেকে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।”

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর। সড়কের ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ; অনেক এলাকায় ১০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় কাদাপানিতে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগীরা তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছেন।
মাইক্রোবাস চালক মনজুরুল ইসলাম জানান, আগে তালা থেকে কয়রা যেতে যেখানে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সড়কের বেহাল দশার কারণে চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। এতে জ্বালানি খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি যাত্রীদের ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে।

মোবারকপুর এলাকার ভ্যানচালক হাসেম আলী সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক রাস্তা সংস্কার করতে আর কত বছর লাগবে? তিন বছর ধরে শুকনোয় ধুলা আর বৃষ্টিতে কাদার মধ্যে নাকানিচুবানি খাচ্ছি। আমরা মহা বিপদে আছি।”

জানতে চাইলে তালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সড়কের উন্নয়ন। সড়কটি প্রশস্ত ও বাঁক সোজা হলে মানুষের অর্থ ও সময় দুই-ই সাশ্রয় হবে। তবে কাজে ধীরগতির বিষয়টি সত্য, আমরাও দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”

কাজে ধীরগতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “কাজের তদারকির জন্য আমি নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যেন কাজটি শেষ হয়, সে জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।”