সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে উদ্যোক্তা মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে উদ্যোক্তা মেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্যোক্তা মেলা। রোববার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেলায় বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি ও সংগৃহীত নানা পণ্য নিয়ে স্টল সাজায়।

মেলায় বিক্রয় ও প্রদর্শনী উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আহমেদুর রহিম ও উপাধ্যক্ষ ছন্দা রাহাসহ শিক্ষকম-লী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত থেকে স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আহমেদুর রহিম জানান, পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অভিভাবকেরাও শিশুদের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

‘স্বপ্ন থেকে উদ্যোগ, উদ্যোগ থেকে সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই মেলায় মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। মেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে তাজবিহ আবেদিন। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান পায় আতিকা আনজুম ও মুনতাসির রহমান এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে মুনতাহিনা রিমঝিম ও ফামিয়া হক তিশা। বিজয়ীদের হাতে সনদ ও প্রাইজবন্ড তুলে দেওয়া হয়।

Ads small one

‘গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
‘গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো’

সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে মরিয়মের লাশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ ও মা। তাদের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের ফুফু শামসুর নাহার রোকসানা ও চাচা মো. মোস্তাসিব। মেয়েকে হারিয়ে কাঁদছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। তাদের সবাইকে বিষণ্ন দেখাচ্ছিল।

মরিয়মের পরিবার ও স্বজনেরা বলেন, ন্যাম ভবনে থাকাকালে মরিয়মের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। মরিয়মকে হত্যার পর তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

মর্গের সামনে বসে সঙ্গে কথা বলেন মরিয়মের ফুফু শামসুর নাহার রোকসানা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মরিয়মের সঙ্গে প্রতিদিনই কথা হতো। ফোনে মরিয়ম কান্নাকাটি করতো। বলতো, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাকে আপত্তিকর ভাষায় গালাগাল দিতেন, এমনকি গায়েও হাত তুলতেন। বলতো, তোর জন্য আমার সব শেষ, বেঁচে থাকা হারাম হয়ে গেছে।’

রোকসানা বলেন, ‘এছাড়া প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সতিনের সংসার বলে কথা, বোঝেনই তো। গলায় ফাঁস দিলে ভিডিও বের হওয়ার পরেই দিতো, বিয়ের পর কেন গলায় ফাঁস দেবে।’ মরিয়মকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন বলার সময় তার দু’চোখ ভিজে আসে।

রোকসানা বলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মামা ওবায়দুর মরিয়মের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

মর্গ

একই অভিযোগ করেন মরিয়মের চাচা মোস্তাসিব। তিনি বলেন, মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এরপর হত্যার ঘটনা চাপা দিতে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে মাসুম বিল্লাহর। তিনি বলেন, ‘ওর ছোট মনে বড় কষ্ট। ফোন দিলে কথা বলতে চাইতো না। আমি গেলে আমার সঙ্গে দেখা হতো। এমপির বাসা ছিল ওর জন্য জেলখানা।’

তিনি বলেন, ‘মেয়ে এসব বলতো আর আমার পা জড়িয়ে কাঁদতো। ওবায়দুলের কথা বলতো। ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না। এভাবে মেয়ের জীবনও শেষ হতো না।’

এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ও (মরিয়ম) বলতো আমি বাইরে মুখ দেখাবো কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি এই পরিণতি ভোগ করতেছি।’

মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল তার আপন খালু। বাবার খালুর সঙ্গে কীভাবে মেয়ে সম্পর্কে জড়ালো; এমন প্রশ্নে মাসুম বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। যখন জেনেছি, মেয়েকে রক্ষার আর কোনও পথ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায়বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’

ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে পুলিশ মরিয়মের হাতে লেখা চিরকুট বলে যে কাগজগুলো উদ্ধারের কথা জানিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বলেন, ‘এগুলো ওর লেখা কিনা, সেটা আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।’

মামলায় যে অভিযোগ

রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, চলতি বছরের জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন।

এর মধ্যে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।

চিরকুটে যা লিখে গেছেন মরিয়ম

মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।’

আরেকটিতে লেখা, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।

‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’

আরেকটি চিরকুটে দুটি লেখা আছে। একটিতে আছে, ‘সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!!’

অপর লেখায় আছে, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়…ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

কী বলছে পুলিশ

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমসহ তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা এ মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওবায়দুর পলাতক বলেও জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে, চিরকুটটি মরিয়মের হতে পারে। তবে লেখাটি মরিয়মের কিনা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন।

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

ওবায়দুর পলাতক, বলছে পুলিশ

মরিয়ম আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি ওবায়দুর পলাতক। সম্পর্কে মরিয়মের মামা হলেও এমপির কাছে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে আত্মহত্যার ঘটনায় তাকে দায়ী করছে পরিবার। একই সঙ্গে তাকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেফতার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ওবায়দুর।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ওবায়দুরকে ধরতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে খোঁজা হচ্ছে। একাধিক টিম তাকে ধরতে কাজ করছে।

ওবায়দুরের বিষয়ে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওবায়দুর সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল। তার জন্য আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরো পরিবারটা তছনছ করে দিয়েছে সে। সে আমার মেয়েকে এমপির কাছে না নিলে আসলে কিছুই হতো না। আজ তার জন্যই আমরা আমাদের মেয়েকে হারিয়েছি।’

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: মামলা নয়, সমঝোতায় সমাধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: মামলা নয়, সমঝোতায় সমাধান

বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, সময় ও অর্থ অপচয় এবং বিচার বিভাগের ওপর ক্রমবর্ধমান মামলাজটের বোঝা লাঘবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থা যে কতটা কার্যকর হতে পারে, তার বাস্তব ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ১,৪৬৫টি বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ভুক্তভোগীদের আদায় করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। লিগ্যাল এইডের এই কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেওয়ানি, ফৌজদারি ও পারিবারিকÑতিন খাতেই আদালতে নতুন মামলা দায়েরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার জন্য এক আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে।

আমাদের দেশের সনাতন বিচারপ্রক্রিয়া প্রায়শই দীর্ঘসূত্রী ও ব্যয়বহুল। ফলে ছোটখাটো বিরোধ বা পারিবারিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আদালত পর্যন্ত পৌঁছানো মামলাগুলো বিচারপ্রার্থীদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ ডেকে আনে। এই প্রেক্ষাপটে ‘মামলা নয়, সমঝোতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার’Ñএই দর্শনকে মূল চালিকাশক্তি করে জেলা লিগ্যাল এইড যে ভূমিকা রাখছে, তা কেবল আইনি সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক স্থায়িত্ব ও শান্তি বজায় রাখতেও অমূল্য অবদান রাখছে। বিশেষ করে, জমিজমা বা পারিবারিক ঝগড়াঝাঁটির মতো বিষয়ে সরাসরি মামলা না ঢুকে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনের আলোকে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং বিকল্প সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া বিচারপ্রার্থীদের অযাচিত হয়রানি থেকে রক্ষা করছে।

তবে মুদ্রার অপর পিঠও উপেক্ষার সুযোগ নেই। সীমিত সম্পদ ও কাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই এ সাফল্য অর্জিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো বেঞ্চ সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১১টি শূন্য পদ রয়েছে। স্পেশাল মিডিয়েটর বা বিশেষ মধ্যস্থতাকারীর অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি নিজস্ব ভবনের অনুপস্থিতি ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংকট তাদের সার্বিক কর্মক্ষমতাকে পূর্ণতায় পৌঁছাতে বাঁধা দিচ্ছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে সাময়িক স্থান বরাদ্দ কিংবা নিজস্ব ভবনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির এই সাফল্যকে একটি সাময়িক অর্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো প্রয়োজন। এর জন্য লিগ্যাল এইড অফিসের বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে দূর করতে হবে। একই সঙ্গে স্পেশাল মিডিয়েটর নিয়োগ এবং প্রযুক্তি সুবিধা জোরদার করা গেলে জেলা পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। সাতক্ষীরার এই সফল মডেলটি যদি দেশজুড়ে যথাযথভাবে বিস্তৃত করা যায়, তবে তা কেবল আদালতগুলোর মামলাজটই কমাবে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও সমঝোতা ও দ্রুত আইনি সুফল পাওয়ার বিশ্বাস তৈরি করবে।

ভ্যানে ফেলে যাওয়া পৌনে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ভ্যানে ফেলে যাওয়া পৌনে ৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

oplus_2

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ভ্যানযাত্রীর ফেলে যাওয়া ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক ভ্যানচালক। রোববার রাতে ভ্যানচালক ওই টাকা ও মুঠোফোন সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে তা বুঝিয়ে দেয়।

এই ভ্যানচালকের নাম মো. মিনারুল ইসলাম (৫২)। তিনি আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের বকুলতলা মোড় থেকে মিনারুল ইসলামের ভ্যানে ওঠেন শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা শামসুজ্জামান খান। বেশ কয়েকটি স্থানে ঘোরার পর পলাশপোলে নিজ বাড়ির সামনে নেমে ভাড়া মিটিয়ে চলে যান তিনি। তবে অসাবধানতাবশত ভ্যানের সিটের পেছনের হুকে ঝোলানো একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যান। দ্রুত বাড়ি ফিরে মিনারুল ইসলাম ব্যাগে টাকা ও মুঠোফোন দেখতে পান।

পরদিন সকালে মিনারুল ইসলাম শহরে এসে ওই যাত্রীর নামার স্থানে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও তাঁকে পাননি। পরে শনিবার সকালে তিনি ব্যাগটি ধূলিহর বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছে জমা দেন। সেখানে হিসাব করে দেখা যায় ব্যাগে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সহযোগিতায় রোববার রাতে ভ্যানচালক মিনারুল ইসলাম সদর থানায় যান। সেখানে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ ও মুঠোফোন প্রকৃত মালিক শামসুজ্জামান খানের হাতে তুলে দেন। ভ্যানচালকের এই দৃষ্টান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।