রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সৌদি আরবে একদিনে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে একদিনে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

অনলাইন ডেস্ক: মাদক পাচারের দায়ে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ একদিনে দোষী সাব্যস্ত সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, পাঁচজন সৌদি নাগরিক এবং দু’জন জর্ডানির বিরুদ্ধে রাজ্যে অ্যামফেটামিন ট্যাবলেট পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সংস্থাটি জানায়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিবেচনামূলক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

 

রোববার রিয়াদে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রিয়াদ মাদক সম্পর্কিত মামলায় ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে করা হিসাব অনুযায়ী যা মোট ৬১টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। এ বছর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকরাই বেশি। তাদের মোট সংখ্যা ৩৩। ২০২৫ সালে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো রেকর্ড ছুঁয়েছিল। ওই বছর ৩৫৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে ২৪৩ জনই মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন।

 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯০ সাল থেকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর এটিই ছিল এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০২৪ সালে ৩৩৮টি মৃত্যুদণ্ড। প্রায় তিন বছর বিরতির পর ২০২২ সালের শেষ দিকে সৌদি আরব আবার মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করে। আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটি একই সঙ্গে ক্যাপটাগন নামের অবৈধ উত্তেজক মাদকের অন্যতম বড় বাজার।

 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আল-আসাদ-এর আমলে এই মাদক ছিল দেশটির সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য। মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে অতিরিক্ত বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এটি বিশ্বে নিজেদের আধুনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার সৌদি প্রচেষ্টার সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য সৃষ্টি করছে।

Ads small one

সম্পাদকীয়: চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ও অপচয় আর কত দিন?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ও অপচয় আর কত দিন?

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানি। আর এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতি ও চামড়া শিল্পে এক বিশাল কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া নিয়ে যে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে, তা এবারও পিছু ছাড়েনি। উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখার চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি কেবল একটি জাতীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং দেশের সম্ভাবনাময় একটি শিল্পের করুণ পরিণতির স্পষ্ট সংকেত।

 

শ্যামনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিশেষ করে দুর্গম গাবুরা বা বুড়িগোয়ালিনী এলাকার মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষ দিন-রাত অপেক্ষা করেও চামড়ার কোনো ক্রেতা পাননি। সরকার প্রতিবছরই কাঁচা চামড়ার একটি দাম নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় না—তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের বক্তব্য অনুযায়ী, লবণের আকাশচুম্বী দাম এবং বাড়তি পরিবহন খরচের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় তাঁরা চামড়া কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। এর ওপর যুক্ত হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও আড়তের অভাব।

 

এই সংকটের বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, আমাদের দেশের কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর আয়ের একটা বড় অংশ আসে কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ থেকে, যা দিয়ে সারাবছর দুস্থ ও অনাথ শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণ করা হয়। চামড়ার বাজারে এই ধসের কারণে এই মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলো চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ল। দ্বিতীয়ত, শত শত চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা বা যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণে তা পচে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের নাজুক পরিবেশকে আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।

 

প্রশ্ন হলো, বছরের পর বছর ধরে কেন এই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? কেন ট্যানারি মালিক ও বড় আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কাছে মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে থাকবেন? সরকার শুধু দাম নির্ধারণ করেই যদি দায়িত্ব শেষ মনে করে, তবে মাঠপর্যায়ের এই বিশৃঙ্খলা কোনোদিনই থামবে না।
চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে হলে এবং এই জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করতে হলে এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের জন্য অস্থায়ী হিমাগার বা আধুনিক সেন্ট্রাল ডিপো তৈরি করা জরুরি, যাতে লবণের দাম বাড়লেও চামড়া পচে নষ্ট না হয়। একই সঙ্গে, সিন্ডিকেট ভেঙে মাঠপর্যায়ে সরকারি নজরদারি ও মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে, যাতে ট্যানারি মালিকদের দেওয়া সেন্ট্রাল লোন বা সুবিধার সুফল প্রান্তিক বিক্রেতারাও পান। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকেরা শ্যামনগরের এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে চামড়া শিল্পের এই প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দূরীকরণে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন।

 

 

 

 

ঈদে সাতক্ষীরার পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
ঈদে সাতক্ষীরার পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ঢল

জিএম আমিনুল হক: পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে সাতক্ষীরার প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল নামছে। সুন্দরবন, দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ, মোজাফফর গার্ডেন, ভোমরা স্থলবন্দর ও ঐতিহাসিক শ্যামনগর জমিদারবাড়িসহ জেলার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জেলা।

বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের কলাগাছি, দোবেকি ও আকাশলীনা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঈদের পর থেকেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগ জানায়, ঈদের গত তিন দিনে শুধু মুন্সিগঞ্জ রেঞ্জ দিয়েই আট হাজারের বেশি পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। নৌকা ও লঞ্চে করে হরিণ, কুমির ও বানর দেখতে ভিড় করছেন সবাই।

খুলনা থেকে আসা দর্শনার্থী রায়হান কবির বলেন, “কোরবানির পর ছুটি পেয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এসেছি। সুন্দরবনের নীরবতা ও নদীর ঢেউ মন ভালো করে দেয়।”

অন্যদিকে, ইছামতী নদীর পাড়ে দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটনকেন্দ্রেও প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার মানুষ আসছেন। এখানকার ঝুলন্ত সেতু ও ওয়াচ টাওয়ারে তরুণ-তরুণীদের সেলফি তোলার হিড়িক দেখা গেছে। স্থানীয় চায়ের দোকানি মনিরুল বলেন, ঈদের পর বিক্রি তিন গুণ বেড়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের কোল ঘেঁষে শতাধিক বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা মোজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্টে তিল ধারণের জায়গা নেই। এখানকার রাইড, চিড়িয়াখানা আর লেকের প্যাডেল বোটে চড়তে দর্শনার্থীদের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জানান, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার দর্শনার্থী আসছেন। ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভোমরা স্থলবন্দর, শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দির ও প্রবাজপুর শাহী মসজিদেও গতবারের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ দর্শনার্থী বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।

হঠাৎ পর্যটকের চাপে সাতক্ষীরা শহরের প্রায় সব আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট অগ্রিম বুকড হয়ে গেছে।

রেস্তোরাঁগুলোতে স্থানীয় গলদা, বাগদা ও কাঁকড়ার চাহিদা বেড়েছে। ডাব বিক্রেতা থেকে শুরু করে নৌকার মাঝি, ভ্যানচালক ও স্থানীয় ফটোগ্রাফারদের আয় বেড়েছে দ্বিগুণ।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, শুধু ঈদের এই ছুটিতেই জেলায় প্রায় ১২ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জ ঘাট থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রলার সুন্দরবনে যাচ্ছে। দর্শনার্থীরা গোলপাতা, মধু ও বেতের তৈরি নানা স্যুভেনির কিনছেন।

পর্যটকদের বাড়তি ভিড়ে কিছু অব্যবস্থাপনার অভিযোগও উঠেছে। গাড়ি পার্কিং সংকট, অপর্যাপ্ত টয়লেট ও বসার জায়গার অভাবে অনেক দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বোতল ও চিপসের প্যাকেট যেখানে-সেখানে ফেলায় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সড়কপথে সুন্দরবন সাতক্ষীরাকে ব্র্যান্ডিং করেছে। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। উপযুক্ত পরিবেশ, ভালো সড়ক ও মানসম্মত হোটেল নিশ্চিত করতে পারলে এখান থেকে বিপুল রাজস্ব আয় সম্ভব।”

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক জানান, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা মনিটরিং ও মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। কোথাও যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না হয়, সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। এ ছাড়া কালিগঞ্জে নতুন ইকো-পার্ক ও শ্যামনগরে ট্যুরিজম জোন করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

 

 

 

 

 

নিজের উপার্জনে প্রথম কোরবানি: তরুণদের চোখে অন্যরকম ঈদের আনন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
নিজের উপার্জনে প্রথম কোরবানি: তরুণদের চোখে অন্যরকম ঈদের আনন্দ

আসাদুজ্জামান সরদার: ঈদুল আজহার আনন্দ সবার জন্যই স্পেশাল, কিন্তু এবার সাতক্ষীরার বেশ কয়েকজন তরুণের কাছে এই আনন্দের মাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতকাল যারা বাবার দেওয়া বা পারিবারিক কোরবানির অংশীদার ছিলেন, তারা এবার নিজেই কোরবানিদাতা। নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত প্রথম বেতনের টাকা, উৎসব বোনাস কিংবা প্রথম ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়ে এবার আল্লাহর নামে পশু উৎসর্গ করছেন তারা। এই প্রথম কোরবানির” অনুভূতিতে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত আত্মতৃপ্তি, দায়িত্ববোধ এবং পরিবারের জন্য সীমাহীন গর্ব।

স্বপ্ন পূরণ: সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার রায়হানুল বাশার। গত ৮ মাস হলো লেখাপড়া শেষ করে নর্দাণ ইউনিভার্সিটি খুলনার ক্যাম্পাসে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছেন। এবার ঈদে তার মা গরুর ভাগে শরিক থাকলেও, রায়হানুল নিজের উপার্জনের টাকায় প্রথমবার এককভাবে একটি ছাগল কোরবানি দিচ্ছেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে প্রভাষক রায়হানুল বাশার বলেন, ছোটবেলা থেকে আব্বাকে দেখতাম হাটে গিয়ে গরু কিনতে। এবার যখন নিজের টাকায় হাটে গিয়ে দরদাম করে একটা খাসি কিনলাম, তখন বুকটা এক অদ্ভুত গর্বে ভরে উঠেছিল। মায়ের হাতে যখন হাটের রসিদটা এনে দিলাম, মায়ের চোখে আনন্দাশ্রু দেখেছি। নিজের উপার্জনে প্রথম কোরবানি দেওয়ার এই আনন্দ কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব না।

২৮ বছর পর ত্যাগের আসল আনন্দ পেলেন আয়াত উল্লাহ: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের তরুণ আয়াত উল্লাহ। তিনি বর্তমানে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ‘রবি’র ‘সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। জীবনের ২৮টি বছর পেরিয়ে এবারই প্রথম নিজের উপার্জনের টাকায় এককভাবে একটি ছাগল কোরবানি দিয়েছেন তিনি। এর আগে প্রতিবছর তার বাবা কিংবা পরিবার থেকে কোরবানি দেওয়া হতো।

নিজের অনন্য এই অনুভূতি প্রকাশ করে আয়াত উল্লাহ বলেন, যদি ফ্র্যাঙ্কলি বলি, কোরবানির অনুভূতি সবসময়ই ভালো। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে-যখন নিজের উপার্জনের টাকায় নিজে কোরবানি দেওয়া যায় এবং সেই মাংস সবাইকে খাওয়ানো যায়, সেই অনুভূতিটা একদমই ডিফরেন্ট। ছোটবেলা থেকে শুধু ঈদের আনন্দের ব্যাপারটা দেখে আসছি। কিন্তু নিজের টাকায় কোরবানি দেওয়ার পর সেই মাংস যখন সবাইকে ভাগ-বাটোয়ারা করে দিচ্ছিলাম, তখন ত্যাগ করার যে আসল ভালো লাগা, সেটা এবারই প্রথম পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এক কথায় ছোট করে বললে, এই ২৮ বছর শুধুমাত্র ঈদের আনন্দটুকুই উপভোগ করেছি। কিন্তু কোরবানির ঈদের যে ত্যাগ করার আনন্দটা, ত্যাগ করতে পারার যে মহিমাটা এবং মানুষকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেও যে আনন্দ-এইটা এবারই প্রথম উপভোগ করছি।

নতুন উদ্যোক্তার প্রথম সাফল্য: সাতক্ষীরার রাজার বাগান এলাকার আরেক তরুণ উদ্যোক্তা রায়হান কবির। গত দুই বছর ধরে পুকুরে মাছ চাষ ও ছাগল পালন করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমের পর গত দুই বছরে তার ব্যবসা বেশ ভালো অবস্থানে এসেছে। এবার তিনি নিজের আয়ে পরিবারের সবার সাথে মিলে বড় কোরবানি দিচ্ছেন।

হাটের অভিজ্ঞতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দ জানিয়ে রায়হান কবির বলেন, নিজের খামারের পশু দেখভালের পাশাপাশি এবার হাটে গিয়ে যখন নিজের টাকায় পছন্দের পশুটি কিনলাম, সেই অভিজ্ঞতা দারুণ! প্রথমবার নিজের উপার্জনের টাকায় কেনা পশুকে ঘরে আনার পর পাড়ার সবাই যখন দেখতে আসছিল, তখন অন্যরকম এক তৃপ্তি পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি জীবনে স্বাবলম্বী হতে পেরেছি।

এই তরুণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথম কোরবানিদাতার এই আনন্দ কেবল হাটের কেনাকাটা বা কোরবানি দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। পশুটি বাড়িতে আনার পর তার যতœ নেওয়া, ঘাস-খড় খাওয়ানো এবং পশুর সাথে ছবি বা ছোট ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার মধ্যেও তারা এক ধরণের অনাবিল আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার রাজার বাগান এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ বলেন, তরুণ প্রজন্ম যখন পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের শুরুতেই অপচয় না করে নিজের আয়ে কোরবানি দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে, তখন সমাজ ও পরিবার দুটোই উপকৃত হয়। এটি তাদের যেমন দায়িত্বশীল করে তোলে, তেমনি ত্যাগের মহিমাকেও হৃদয়ে ধারণ করতে শেখায়।